ফেরার পথে

ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটেছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ঈদের ছুটি!

কেউ নিয়ে যাচ্ছিল নতুন জামা, কেউ মিষ্টির ছোট্ট প্যাকেট,

আবার কেউ শুধু নিয়ে যাচ্ছিল ভালোবাসা, দুই দিনের সুখের রসদ।

কারও চোখে সন্তানের মুখ, কারও ভেতরে ছিল হাজারো জমে থাকা গল্প।

কারও বুকের ভেতর শুধু ‘মা’ শব্দটা কাঁপছিল।

ভেবেছিল বাড়ি ফিরে গিয়ে—

বুকভরা ক্লান্তি নামানোর জায়গায় চিত হয়ে শুয়ে একটু নিশ্চিন্ত মনে শ্বাস নেবে!

তারপর একটা নদী হাঁ করে উঠল আর গিলে নিল স্বপ্ন।

পানির নিচে নেমে গেল কত নাম, কত অসমাপ্ত বাক্য!

লঞ্চে পিষে গেল কত নামহীন গল্প!

তারপর রেললাইন কাঁদল আবার!

চাকার নিচে চাপা চিৎকারে নিস্তব্ধ হলো কত সংসার।

পুরো একটা অপেক্ষা মারা গেল!

মানুষের হাড়ের শব্দে অভ্যস্ত—

পিচঢালা রাস্তাগুলো আজকাল খুব ক্ষুধার্ত।

মাইক্রো, সিএনজি গিলে খাচ্ছে মানুষ, কিন্তু হিসাব রাখে না কেউ!

রাক্ষসী পদ্মা আবার বাসটাকে ডেকে নিয়েছে হঠাৎ!

পানির নিচে এখনো হয়তো ভাসছে—

একটা শিশুর নতুন জামা কিংবা একটা বাবার হাহাকার।

এত মৃত্যু কি সত্যিই স্বাভাবিক হয়ে যায়?

নাকি আমরা খবরের মতোই দ্রুত ভুলে যেতে শিখে গেছি?

একটা মানুষের হারিয়ে যাওয়া মানেকতগুলো পৃথিবী ভেঙে যাওয়া!

একটা ফোন এখনো বাজেনি, একটা ঘর এখনো খালি!

এই কি তবে ঈদের আনন্দ?

এই কি তবে ফেরার গল্প?

কেন ফেরার পথে এত মানুষ হারিয়ে যায়?

কেউ কি খেয়াল রাখে?

*লেখক: নুসরাত আহমেদ আশা, সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ইঞ্জিনিয়ার, কার্ল যাইস ডিজিটাল ইনোভেশন জিএমবিএইচ, মিউনিখ, জার্মানি

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]