বাঘ তাড়িয়ে জেলখানা, সেইখানে এখন নানা কাণ্ডকারখানা
বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার। কুয়ালালামপুর শহরের ‘বুকিত বিনতাং’ সবাই চেনেন। বিশেষ করে যাঁরা কুয়ালালামপুর ভ্রমণ করেছেন। বুকিত বিনতাং হচ্ছে আলোকোজ্জ্বল এক নগরভ্রমণস্পট। যেখানে বছরজুড়ে রাতদিন লোকারণ্য থাকে। সেই বুকিত বিনতাংয়ের কাছাকাছি জাপানি কোম্পানির গড়ে তোলা এক ছোট্ট সিটির নাম ‘বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার’।
বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার (বিবিসিসি) যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে একসময় ছিল মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় জেলখানা। সাজাপ্রাপ্ত বড় বড় অপরাধীকে রাখা হতো। এখানে ছিল ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাখার কনডেম সেল। বেশ কজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসির দণ্ড এই জেলখানায় কার্যকর হয়েছিল। একসময়ের সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর ফাঁসি হয়েছিল এই জেলখানায়। এটি ছিল কুয়ালালামপুরের একমাত্র জেলখানা। পুডু জেল বা পিনজারা পুডু নামেও পরিচিত ছিল। পিনজারা মালয় শব্দ, যার বাংলা অর্থ জেলখানা। পুডু হলো ওই এলাকার নাম। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ১৮৯১ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে নির্মিত হয় এই কারাগার। এটি জালান শ (বর্তমানে জালান হাংতুয়া) বরাবর অবস্থিত ছিল। ১৮৯১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়, যেখানে দণ্ডিত কয়েদিরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। নির্মাণকাজ শেষ হলে ১৮৯৫ সালের মে মাসে কুয়ালালামপুরজুড়ে অন্যান্য ছোট কারাগার থেকে প্রায় ৫০০ বন্দীকে পুডু জেলে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পুডু কারাগারের প্রথম গভর্নর ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জেএবি এলেন।
তখনো কুয়ালালামপুর মালয়েশিয়ার রাজধানী হয়নি। কুয়ালালামপুর সেলাঙ্গর প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকা ছিল। পুডু কারাগার ছিল সেলাঙ্গরের একমাত্র কারাগার, যেখানে স্বল্পমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারী কয়েদিদের রাখা হতো। কারাগারটি স্বয়ংসম্পূর্ণও ছিল। কারণ, কারাগারের প্রাচীরের ভেতরে একটি সবজি বাগান ছিল, যে সবজি বাগান থেকে প্রতিবছর কয়েদিদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারত।
পরবর্তী সময়ে এই কারাগারে মাদক পাচারকারী ও খুনিসহ আরও গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কয়েদিদের রাখা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো ব্লক ডি-এর একটি ফাঁসিকক্ষে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের রাখা হতো। কারাগার চত্বরের একটি নির্দিষ্ট প্রাঙ্গণে বেত দিয়ে চাবুক মারার মাধ্যমে শারীরিক শাস্তিও কার্যকর করা হতো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪২ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জাপানিরা এই কারাগারকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যুদ্ধবন্দী (POW) শিবির হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরে বেশির ভাগ যুদ্ধবন্দীকে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সিঙ্গাপুর তখন আলাদা কোনো দেশ নয়। ১৯৪২ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুডু জেলে ১,০০০ জনের বেশি যুদ্ধবন্দীকে রাখা হয়েছিল।
বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার একসময় বড় জেলখানা ছিল, এখন এটি আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
১৯৮৬ সালে, জিমি চুয়া চাপ সেং-নামের একজন বন্দীর নেতৃত্বে একদল বন্দী ছয় দিন ধরে কারাগারের দুজন কর্মীকে জিম্মি করে রাখে। মালয়েশীয় পুলিশ কারাগারে অভিযান চালিয়ে কোনো হতাহত ছাড়াই জিম্মিদের সফলভাবে উদ্ধার করে। পুডু কারাগারে আটক থাকাকালীন অন্য একটি অপরাধের জন্য চুয়াকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আর বাকিদের অন্যায়ভাবে আটক ও অপহরণের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৫৭ সালে স্বাধীন হওয়া মালয়েশিয়া পরবর্তী সময়ে কুয়ালালামপুরকে দেশের রাজধানী করে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া দ্রুত উন্নতির পথে। কুয়ালালামপুর গুরুত্বপূর্ণ শহরে রূপান্তর হচ্ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটনসহ নানা কারণে কুয়ালালামপুরের পুডুর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারাগারটির অবস্থানের উপযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। বুকিত বিনতাং-এর মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর কাছাকাছি কারাগারটির অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়। এ ছাড়া শতবর্ষী এই কারাগারের নকশা এবং সুযোগ-সুবিধাগুলো সেকেলে হয়ে পড়েছিল।
অবশেষে ১০১ বছর কারাগার হিসেবে পরিচালনার পর, ১৯৯৬ সালে পুডু কারাগার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুডু কারাগারের বন্দীদের কুয়ালালামপুরের অদূর সুঙ্গাই বুলোহ কারাগার ও কাজাং কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। কারাগার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি আদালতের শুনানিতে অংশ নেওয়া বন্দীদের জন্য একটি দিবা-আবাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। পরে ১৯৯৭ সালে এটি অল্প সময়ের জন্য কারা-জাদুঘর হিসেবে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল।
২০০৯ সালের জুন মাসে, মালয়েশীয় সরকার পর্যায়ক্রমে কারাগার কমপ্লেক্সটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বুকিত বিনতাং-এর সংসদ সদস্য ফং কুই লুন জিজ্ঞাসা করেন কেন ভবনটিকে মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে না, তখন উপ-অর্থমন্ত্রী আওয়াং আদেক হুসেন উত্তর দেন, ‘আমাদের মতে, এটি গর্ব করার মতো কিছু নয়।’ সেই বছরের অক্টোবরে কারাগারের হাসপাতালের ও ফাঁসির কক্ষটি প্রথম ভেঙে ফেলা হয়।
২০১০ সালের জুন মাসে, একটি রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পের জন্য পুডু কারাগারের পূর্ব দিকের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুডু কারাগারের ভেতরের সব ভবন সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হয়। সংরক্ষণবিদ এবং সাধারণ জনগণের আবেদনের পর সরকার বাইরের দেয়ালের একটি অংশ ও প্রধান ফটকটি বজায় রাখতে সম্মত হয়। এই অবশিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো মিৎসুই লালাপোর্ট মলের অংশ হিসেবে গঠিত ফোয়ারা পার্কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এখন কারাগারের জায়গায় অবস্থিত। অর্থাৎ বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টারে এখন পুডু জেলখানার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রধান ফটকটি দাঁড়িয়ে আছে।
কারাগার নির্মাণের পূর্বে জায়গাটা ছিল চীনা কবরস্থান ও বনজঙ্গল। ঘনজঙ্গলে মালয় বাঘের বসবাস ছিল। এই জঙ্গলে মানুষ বাঘ দেখেছে সেই সময়। কারাগার নির্মাণের জন্য কবরস্থানের দেহাবশেষ তুলে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছিল।
বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার, কুয়ালালামপুরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, একসময় পুডু কারাগার ছিল, যা এখন বিলাসবহুল সিটি সেন্টারে রূপান্তরিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপান-নিয়ন্ত্রিত কারাগারটি এখন আন্তর্জাতিক মানের জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তৎকালীন সময়ে সেলাঙ্গর প্রদেশ তথা কুয়ালালামপুরের প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা ছিল বাঙ্গুনান আবদুস সামাদ ও এর আশপাশের এলাকা। বাণিজ্যিক এলাকাটির কাছাকাছি হওয়ায় পুডুর সেই জঙ্গলে কারাগার নির্মাণ করা হয়েছিল ১৮৯৫ সালে। ১০১ বছর ব্যবহারের পর কারাগার বন্ধ করা হয় ১৯৯৬ সালে। অবশেষে ২০২২ সালে সেখানে চালু হয় বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার। চাকচিক্যময় কুয়ালালামপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আরেক মিনি শহর। অন্ধকার তাড়িয়ে আলোর জগৎ হয়ে গেল একসময়ের বাঘে ভরা জঙ্গলটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে কারাগার জাপানিরা ব্যবহার করেছিল যুদ্ধবন্দীর স্থান হিসেবে, সেখানেই আজ জাপানি কোম্পানির হাতে গড়ে উঠেছে শান্তির এক সিটি লালাপোর্ট—বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টার (বিবিসিসি)। লালাপোর্টে কী নেই? আবাসিক হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, সুউচ্চ অফিস ভবন, বিশাল শপিং মল, পার্ক, রুফটপ পার্ক, সবুজ টিলা, পানির পোয়ারা, ওয়াকওয়ে, উইকএন্ডে নানা উৎসব আয়োজন, ফুটসাল কোর্ডসহ খেলাধুলার নানা আয়োজন, সুপারমার্কেট, নানা দেশের নানা স্বাদের খাবার রেস্তোরাঁ, ফুডকোর্ট, সবুজ গাছপালা, ফুল-পাখি, পানশালার রঙিন সড়ক, জাপানি সংস্কৃতির নানা আনন্দ-উৎসব, লাইব্রেরিসহ নাগরিক জীবনের নানা অনুষঙ্গ স্তরে স্তরে সাজানো আছে বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টারে।
কুয়ালালামপুর শহরে ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি পড়ে। মাঝেমধ্যে দুপুরের পরে শুরু হয়ে মাঝে বিরতি দিয়ে সন্ধ্যার পর আবারও বৃষ্টি হচ্ছে। ভোরে-ভোরেও বৃষ্টি হয়। কেউ যদি বিবিসিসির মধ্যে থাকেন তাহলে তো বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না এটা কমন বিষয়। কেউ যদি বাইরে চলে যেতে চান, বাসায় ফিরে যেতে চান, এখান থেকে বিমানবন্দরে যেতে চান, এখান থেকে দূরপাল্লার বাস ধরতে চান, তাহলে কী ভিজতে হবে? না, মোটেই ভিজতে হবে না। কুয়ালালামপুর নগরে এই একটা ব্যাপার খুব চমৎকার। বেশির ভাগ জায়গায় এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরেক প্রতিষ্ঠানের লিংক ব্রিজ থাকে। ওয়াকওয়ে বা ফুটপাত থাকলে সেখানে ছাউনি থাকে। মানুষ বৃষ্টির মধ্যে না ভিজে এক জায়গা থেকে কাছাকাছি আরেক জায়গায় যেতে পারে। বিবিসিসির ভেতর থেকে সরাসরি এলআরটি স্টেশন ও মনোরেল স্টেশন দুটো ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সুযোগ আছে। এক ফোঁটা বৃষ্টির ছোঁয়া গায়ে লাগবে না। মনোরেলে করে ডানে পরের স্টেশনে গিয়ে নামলে সরাসরি টাইমস স্কয়ারে প্রবেশ করা যাচ্ছে। কেউ এর পরের স্টেশনে নামলে সরাসরি বাঁয়ে চুংগাই ওয়াং মার্কেটে ডানে লট১০ শপিংমলে যাওয়া যাচ্ছে। লট১০ থেকে এর লাগোয়া ফারেনহাইট শপিং মলে, সেখান থেকে আন্ডারপাসে শহরের অন্যতম বড় লাক্সারিয়াস শপিং মল প্যাভিলিয়নে যাওয়া যাচ্ছে। প্যাভিলিয়ন থেকে দীর্ঘ লিংক ব্রিজ হয়ে সরাসরি পেট্রোনাস টু ইন টাওয়ার–সংলগ্ন কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে যাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকে টু ইন টাওয়ারে যান। টু ইন টাওয়ার ঘোরাঘুরি শেষ করে আন্ডারগ্রাউন্ড এলআরটি স্টেশনে গিয়ে যেখানে ইচ্ছা চলে যান ট্রেনে করে। অথবা ট্রেনে করে কেএল সেন্টার যান। কেএল সেন্টারে বহু পথের বহু জায়গায় যাওয়ার ট্রেনস্টেশন ও বাসস্টেশন আছে। অথবা কেএল সেন্টারে কাজ সেরে ভেতর দিয়ে আবারও চলে যান কেএল সেন্টার মনোরেল স্টেশনে। মনোরেলে আবারও বুকিত বিনতাং সিটি সেন্টারে যেতে পারেন। যদি চান আরেকটু ঘুরতে তা-ও পারেন। হাংতুয়ায় নেমে ট্রেন পরিবর্তন করে টিআরএক্স যান, যেখানে ইচ্ছা যান, আরও অনেক-অনেক জায়গা আছে যাওয়ার। ঘুরেফিরে আবারও ফিরে আসতে পারেন বিবিসিসি। এই পুরো জার্নির সময়ে বাইরে তুমুল বৃষ্টি হলেও ভিজতে হবে না। একটার সঙ্গে আরেকটার নানাভাবে চমৎকার সংযোগ আছে। বিবিসিসি থেকে অনলাইনে গাড়ি বুকিং দিয়ে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হলেও ভিজতে হবে না। সেখান থেকে ট্রেনে করে দূরপাল্লার বাসস্টেশন তাসিক সেলাতান যাওয়া যাচ্ছে সরাসরি। বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য বাসস্টেশনে যাওয়া যাচ্ছে, ট্রেনস্টেশনে যাওয়া যাচ্ছে, অনলাইন কার বুকিং আছেই।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এই লেখার যবনিকা টানার জন্য বসেছি বিবিসিসির পার্কে। বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়। আজকের মতো বৃষ্টি কেএলে (কুয়ালালামপুরকে সংক্ষেপে কেএল নামে ডাকে) আর হয়েছিল কিনা মনে পড়ে না। জুমার নামাজের আগে যে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, তা এখনো টাপুরটুপুর করে যাচ্ছে। ছাউনিওয়ালা সিঁড়িতে বসে আছি। পাশে দুজন মালয় তরুণী ভিডিও করছেন—টিকটক বা রিলসের জন্য হয়তো। বৃষ্টি না থাকলে পার্কের বিভিন্ন জায়গায় মালয় তরুণীরা টিকটক, রিলসসহ সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যান্য মাধ্যমের জন্য ভিডিও বানায়। এ সময় পাশ থেকে কেউ কোনো ধরনের মন্তব্য করে না। নেতিবাচক কোনো বাক্য তাদের মনকে বিষিয়ে দেয় না। নিন্দিত হতে হয় না। বরং হয়তো পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে-যেতে কেউ একজন বলতে পারে, ‘ওয়াও নাইস’। তরুণী বা তরুণীরা সামান্য মুচকি হাসি দিতেই পারে—সেটা শুধু ওই মুচকি হাসি পর্যন্ত। তারা তাদের কাজে মনোযোগী থাকে স্বাচ্ছন্দ্যে। ওদিকে দুজন তরুণ-তরুণী রাতের আলোকোজ্জ্বল মারদেকা টাওয়ার সামনে নিয়ে যৌথজীবনের সবচেয়ে উপভোগ্য সময়গুলো পার করছে। একুতি ছড়ার পানি বয়ে যায় নীরবে, মৃদুস্বরে। এই একজোড়া মানুষের কথার প্রাণোচ্ছ্বাসের স্বর কান পেতেও শোনার সাধ্যি নেই। কেউ কান পেতে শুনতেও চাইবে না। এই শহর এমনই মুক্ত, স্বাধীন—তবে সভ্য। যতই রঙিন হোক, এই শহর আমার না—আমি এই শহরে পরবাসীমাত্র।
লেখক: মালয়েশিয়াপ্রবাসী