অভাব!
তোমাকে কি কখনো বারণ করেছি কিছুতে?
না, বারণ নয়, কখনোই নয়
তুমি আমার লেখালেখিতে
বিরক্ত হয়েছো প্রতিনিয়ত ;
তোমার সামনে লিখেছি, বলতে পারবে না।
তোমাকে খাবার দিতে দেরি করেছি?
তাও বলতে পারবে না।
নাকি তিন বাচ্চার, দুই রুমের ঘর;
অগোছালো পেয়েছো কখনো?
যারা লিখে, তারা একসময়
তসলিমা নাসরিন হয়ে যায়,
নারীবাদী হয়, অ-ধর্মে পা দেয়
লেখা বন্ধ।
ফেসবুক বন্ধ।
কাজ করতে পারব?
যোগ্যতা আছে, শক্তি আছে
বাসায় একা ভালো লাগে না।
না...
ঝগড়া হবে,
মেয়েরা টাকার গন্ধে পাগল হয়ে যায়।
সম অধিকার চায়, বলে
সংসারের কাজও আধা আধি;
বরকে পাত্তা দেয় না,
শেষ অব্দি আলাদা, সেটাই চাও?
চাকরির কথা বন্ধ।
লাইব্রেরি থেকে গল্প বই আনি,
অবসরে মনের সুখে পড়ি।
হঠাৎ বালিশের নিচে শক্ত কিছু টেকে
মেজাজ আগুন তোমার!
এটাতো ভালো জিনিস নয়,
শেখার আছে কিছু?
লেখক কোনটা ভালো চরিত্রের
বলতে পারো?
সাহিত্য কেন, গল্প কবিতা কেন?
রান্না শেখো, সেলাই শেখো।
গল্প বই আনা বন্ধ।
কি করা যায়? কি করা যায়?
সময় তো কাটে না।
ইউটিউব থেকে নতুন রান্না শিখি!
প্রতিবার চেখেই, কি রেঁধেছো?
এত বছর সংসার করে এই অবস্থা!
সব নিয়ে ডাস্টবিনে ফেলি।
নতুন কিছু শেখা বন্ধ।
এবার ইউটিউবে মজি
ক্রাইম প্যাট্রোল ভালো লাগে
দেখতে থাকি ;
একদিন তোমার চোখে পড়ে।
আর কিছু নেই দেখার
ক্রাইম শিখছো?
কাকে মারবে, আমাকে!
ইউটিউবও বন্ধ।
শপিং গিয়ে পছন্দ করতে বলো,
পছন্দ করলেই..
খ্যাত নাকি? সৌন্দর্য চেন না!
তোমার রুচি এত খারাপ কেন?
এটা নয়, ওটা নাও।
নিজের পছন্দে কেনাও বন্ধ।
বলা হয় না,
আমার পছন্দ ছিলে তো তুমি!
সাজছি কবে, বলতে পারো?
হ্যাঁ, বিয়ের আগে!
নতুন বউ, প্রথম দাওয়াতে
সাজছিলাম দেখে,
তুমি সব মুছে আসতে বলেছিলে।
তোমার সাজ পছন্দ নয়,
আমাকেও নাকি মানায় না!
ভালোবেসে বললে,
তুমি প্রকৃতি প্রদত্ত সুন্দরী!
তাই মেনে নিয়েছি,
সাজ বন্ধ।
তোমার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়াটা
আনন্দঘন হয়েছে কবে,
বলতে পারো?
বাচ্চাদের ড্রেস সেন্স নেই,
ছোটজন কাঁদে কেন!
সারাপথ এসব বকো
মনে হয়, ট্রিপে নয়,
যাচ্ছি কারও জানাজায়।
আচ্ছা, বলত সোনা
আমি কি তোমাকে কিছুতে বাধা দিই?
অভাবে রেখেছি,
খাবারের অভাব নাকি কাপড়ের?
তোমার মতো স্বাধীন, সুখী
দুজন পাবে কোথাও?
আসলেই,
আমি নিজেও তো বুঝতে পারছি না
আমার অভাবটা কোথায়!
‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]