আমি কান পেতে শুনি
আমি কান পেতে শুনি—
প্রতিটি পত্রপল্লবের ফাঁকে,
বাতাসের চুপচাপ বাঁকে
নিরব এক সুর ছড়িয়ে পড়ে,
শুকনো পাতার ভাঁজে ভাঁজে
অব্যক্ত কিছু আর্তি জমে থাকে,
যে সুর একা, তবুও চেনা,
আমাদেরই অন্তরের গুনগুন।
আমি কান পেতে শুনি—
মাটির বুক চিরে উঠে আসে
অঙ্কুরোদ্গমের নবীন গান,
একটানা তৃষ্ণার্ত পাখির সুরে
ঝরে পড়ে শিশিরের মিষ্টি ভাষা,
ধুলোমাখা পথের ধুলায়
লেগে থাকা স্মৃতির অতীত ছোঁয়া।
আমি কান পেতে শুনি—
নদীর ঢেউয়ের চাপা কান্না,
আকাশের নীল আঁচলে লেখা
একটি অজানা আহ্বান,
হারানো এক ভালোবাসার প্রার্থনা
যা ধীর পায়ে ফিরে আসে,
নীরবতার গভীর থেকে
আমাদের দিকে।
আমি কান পেতে শুনি—
মানুষের চোখে জমে থাকা
অভিমান ও অপূর্ণতার সুর,
বুকে আঁকা স্বপ্নের সোনালি রেখা
এখনো জ্বলে ওঠে,
তারা বলে, ‘সব হারিয়েও
এখনো কিছু হারায়নি।’
তুমি কি কান পেতে শোনো?
শুনতে পাও সে একসাথে বাজা শঙ্খধ্বনি?
এই শব্দ কেবল আমার নয়,
এ শব্দে জেগে উঠবে নতুন যুগ,
নতুন ভোর,
যেখানে রণক্ষেত্রে বাজিছে মানুষের
মৌলিক অধিকারের শপথ,
যেখানে অবিচারের দেয়াল ভেঙে
পথিকেরা এগিয়ে যায়
সঠিক ও সরল পথে আলোর দিকে,
আমি কান পেতে শুনি, সেই স্বাধীনতার ধ্বনি।
আমি কান পেতে শুনি—
মাটি থেকে উঠে আসা দীপ্তকণ্ঠ,
যা বলে, “আমরা হারবো না আর,
আমরা লড়বো, আমরা জিতবো!”
আমি শুনি শিকল ভাঙার শব্দ,
শুনি ক্লান্ত হাতের মুঠিতে
অধিকার ধরা পড়ার গান।
আমি কান পেতে শুনি—
নীরব বিপ্লবের ঢেউ,
মানুষের মনে জেগে ওঠা সাহস,
যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন বুনে নতুন ভোরের আশা,
যেখানে কারও চোখে জল নেই,
কারও মুখে ক্ষুধার আর্তি নেই,
যেখানে সবাই মিলে গায়
এক মুক্তির সংগীত।
আমি কান পেতে শুনি—
ভালোবাসার গন্ধ মাখা এক নতুন পৃথিবী,
যেখানে রাজপথে শিশুরা খেলে,
যেখানে বইয়ের পাতায় জ্বলে ওঠে
জ্ঞান আর সত্যের আলো।
যেখানে গগনজোড়া স্বাধীনতার পতাকা
মহাকাশ ছুঁতে চায়।
তুমি কি কান পেতে শোনো?
শুনি কি একসাথে সেই প্রতিধ্বনি,
যা আমাদের শপথ করায়—
মানবতা থাকবে অক্ষত,
স্বাধীনতা হবে অবিচল।
আমরা কান পেতে শুনি
এক নতুন পৃথিবীর জন্ম।
‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]