কানাডায় আইবিইউতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন: ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর আবেগঘন পরিবেশে কানাডার টরন্টো শহরের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিভার্সিটি–আইবিইউ ক্যাম্পাসে উদ্যাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬। এ আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশি স্টুডেন্ট–আইবিইউবিএসএ।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, ডিজিটাল উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে স্থান পায় বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা, বাংলা বর্ণমালা, বই ও ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের আলোকচিত্র। ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাব তুলে ধরা হয় সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায়।
অতিথিরা ভাষাশহীদ সালাম ও রফিকসহ সব শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সবাই একসঙ্গে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. আসিমা ভেজিনা, রেজিস্ট্রার স্বর্ণা বকশী সাইনি, অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি কর্মকর্তা নাফিসা শামসুদ্দিন এবং নাসরিন আক্তার (আরসিআইসি)সহ আইবিইউ প্রশাসনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।
প্রেসিডেন্ট আসিমা ভেজিনা বলেন, মাতৃভাষা মানুষের পরিচয় ও আবেগের গভীর উৎস। ভাষা ভিন্ন হলেও মায়ের ভালোবাসার ভাষা সর্বজনীন। রেজিস্ট্রার স্বর্ণা বকশী সাইনি বলেন, আইবিইউ সব সময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আইবিইউবিএসএর প্রতিষ্ঠাতা ও এমবিএ শিক্ষার্থী মো. মোরশেদ মাহবুব বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করে চলেছেন। মাতৃভাষা দিবস কেবল শোকের দিন নয়, এটি গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ইফতারের ব্যবস্থা ছিল। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রবাসে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]