সিডনির সিটি টু সার্ফের আনন্দভ্রমণ

সিটি টু সার্ফের শুরু। ২০২৩ সালের ছবিছবি: লেখকের পাঠানো

এ আই বলছে, সিটি টু সার্ফ (City2Surf) হলো অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জনপ্রিয় বার্ষিক গণদৌড় প্রতিযোগিতা। এটি সিডনির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (CBD)-এর হাইড পার্ক থেকে শুরু হয়ে বন্ডাই সৈকতে গিয়ে শেষ হয়। ১৪ কিলোমিটার (৮.৭ মাইল) দূরত্বের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর লাখো মানুষ অংশ নেন। ১৯৭১ সালে প্রথম এই দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

শুরুতেই এই খটোমটো তথ্যগুলো দিয়ে রাখলাম, যাতে পরে লেখাটা যেন নিরস না হয়ে যায়। গত কয়েক বছর যাবৎ আমি এই দৌড়ে অংশ নিচ্ছি। তার মধ্যে গতবার বাচ্চাদেরও নিয়ে গিয়েছিলাম। শেষ করতে ওদের অনেক কষ্ট হয়েছিল, তাই এবার একাই অংশ নিয়েছিলাম। গতির ওপর নির্ভর করে এই দৌড় অনেকগুলো রঙে বিভক্ত। আমি সব সময়ই শেষের দিকেরটার টিকিট করি, কারণ প্রথমত, আমি প্রতিযোগিতা পছন্দ করি না, দ্বিতীয়ত, আমি কোনো পেশাদার দৌড়বিদও না। আমি এখানে যাই মূলত এই উৎসবের আবহটা উপভোগ করতে। সত্যি কথা বলতে, এর প্রতিটা মুহূর্ত আমি মনপ্রাণ ভরে উপভোগ করি। আজকের লেখা সেই গল্প নিয়েই।

সিটি টু সার্ফের শেষ। ২০২৩ সালের ছবি
ছবি: লেখকের পাঠানো

অস্ট্রেলিয়ানরা নিজেদের জীবনকে সহজ করতে জীবনযাপনের সব উপকরণকেও সহজ করে নিয়েছে। এমনকি ভাষাটাকেও তাঁরা নিজেদের মতো করে বলেন। যদিও ভাষাটা ইংরেজি, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণ আলাদা। আর কঠিন এবং বড় শব্দগুলোকে নিজেদের মতো করে বানিয়ে নিয়েছে। যেমন পথেঘাটে পরিচিত বা অপরিচিত কাউকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কুশল বিনিময় করা তাঁদের স্বাভাবিক সৌজন্যের অংশ। সেখানে শুরু হয় গুড মর্নিং বা গুড আফটারনুন দিয়ে। অবশ্য আফটারনুনকে তারা বলে ‘আরভো’। এরপর ‘হাউ আর ইউ’ টাকে এমনভাবে উচ্চারণ করে যে সেটা শোনায় ‘হাউ আ ইয়া’। অস্ট্রেলিয়া জীবনের শুরুতে এটা বুঝতেই আমার কয়েক বছর লেগে গিয়েছিল। আর ‘অস্ট্রেলিয়ান’ এই কথাটা উচ্চারণ করতে অনেক সময় ক্ষেপণ হয়, তাই সেটা হয়ে গেছে ‘অজি’। যেকোনো প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তাঁদের মূল স্লোগান হলো ‘অজি অজি অজি / ঐ ঐ ঐ’।

সিটি টু সার্ফ সিডনির বার্ষিক জনপ্রিয় গণদৌড় প্রতিযোগিতা, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেয়। এটি হাইড পার্ক থেকে বন্ডাই সৈকত পর্যন্ত চলে। প্রতিযোগিতায় বয়সীদের আনন্দের ভ্রমণ, রংভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগ, সংস্কৃতি ও বিনোদন থাকে। অস্ট্রেলিয়ানদের সহজ জীবনযাপন ও উচ্চারণ ভিন্নতা লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দেশের মানুষ এবং উৎসবপ্রিয় জাতির প্রতিনিধিত্ব করে।

আপাতদৃষ্টিতে এর কোনো মানে নেই বলে মনে হলেও সব অস্ট্রেলিয়ানকে একই সুতায় বাঁধে এই স্লোগান। যা–ই হোক, ধান ভানতে শিবের গীত একটু গেয়ে নিলাম অজিদের মানসিকতা বোঝানোর জন্য। বাংলাদেশের মানুষের উৎসবপ্রিয়তা বোঝানোর জন্য যেমন বলা হয় বারো হাত কাকুরের তেরো হাত বিচি। অজিরাও তেমনি ভীষণ রকমের উৎসবপ্রিয় জাতি। সারা বছরই কোন না কোনো উৎসব চলতেই থাকে। শীতকালের শেষের দিকে এসে প্রতিবছর এই দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। আর এমন অদ্ভুত নামকরণের আমার একটা নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। সিটি থেকে শুরু হয়ে বন্ডাই সৈকতে শেষ হয়। বন্ডাই সৈকত অজিদের কাছে এবং ভ্রমণপিয়াসীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। আর এখানে সার্ফিং করা যায়। তাই হয়তোবা এই প্রতিযোগিতার নাম সিটি টু সার্ফ।

২০২৩ সালের সিটি টু সার্ফে দেখা হয়েছিল শাড়ি পরা এক নারীর সঙ্গে
ছবি: লেখকের পাঠানো

আগেই বলেছি গতির ওপর নির্ভর করে এই প্রতিযোগিতাকে অনেকগুলো রঙে ভাগ করা হয়। একেবারে শেষের রংটা হলো অরেঞ্জ। এটা আসলে আর দৌড় থাকে না। এটা হয়ে যায় হাঁটা। ঠিক অনেকটা প্রাতর্ভ্রমণের মতো। আমি অবশ্য নাম দিয়েছি আনন্দভ্রমণ। প্রায় সব বয়সের মানুষ এই বিভাগে অংশ নেয়। দাদা–দাদি আসেন নাতি–নাতনিকে নিয়ে। বাবা–মা আসেন ছেলে–মেয়েকে নিয়ে। উঠতি বয়সীরা আসেন বন্ধুবান্ধব মিলে দলবদ্ধ হয়ে। আর কত দেশের মানুষ যে এতে অংশ নেন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। আর এই প্রতিযোগিতার সব বিভাগের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় শেষ হয়ে যায়। আমি তাই আগেভাগেই টিকিট করে নিয়েছিলাম।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

গত রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) ছিল এই প্রতিযোগিতার দিন। অরেঞ্জ রঙের দৌড় শুরু হওয়ার সময় ছিল সকাল ৯টা বেজে ২৭ মিনিট। আর সবাইকে অন্ততপক্ষে ৪৫ মিনিট আগে হাজির থাকতে বলা হয়েছিল। আমিও সেটা মাথায় রেখে আগেভাগেই ট্রেনে চড়ে বসলাম। ট্রেনে যেতে যেতে অন্যান্য স্টেশন থেকে আরও অনেকেই উঠলেন, যাঁরা সিটি টু সার্ফে যাচ্ছেন। সেন্ট জেমস স্টেশনে নেমে ম্যাকুয়ারি স্ট্রিটে এক্সিট নিলাম। বের হয়েই দেখি লোকে লোকারণ্য। তখনো অরেঞ্জ রঙের দৌড় শুরু হয়নি। সবাই তাই শান্তভাবে ওখানে অপেক্ষা করছেন। আমিও সেই দলে ভিড়ে গেলাম। ওখানে পরিচয় হলো এক দম্পতির সঙ্গে। তাঁদের বয়স আশির কোঠা ছাড়িয়ে গেছে। ওনারা অনেক দিন পর আবারও এসেছেন, তাই বেশ উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল।

রাস্তায় চলে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ২০২৩ সালের ছবি
ছবি: লেখকের পাঠানো

এরপর আমরা একটু এগিয়ে শুরুর লাইনের দিকে গেলাম। শুরুর লাইনের অন্যদিকে তখন ইয়েলো রঙের প্রতিযোগীরা অপেক্ষা করছিল। দূর থেকে শুধু তাদের মাথাগুলোকে বিন্দুর মতো দেখাচ্ছিল। অবশ্য বড় পর্দায় তাদের দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই ডিজে এসে আমাদের দলের অনেকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ কে কোথা থেকে এসেছেন, এই সব জেনে নিচ্ছিল। ইয়েলো রঙের সবাই চলে যাওয়ার পর অরেঞ্জ–এর জন্য পথ খুলে দেওয়া হলো। কম বয়সীরা তখনই দৌড় শুরু করল। তাদের দেখাদেখি আমার সঙ্গের দুজনও দৌড় দিচ্ছিল। আমি বললাম, সেভ ইয়োর এনার্জি। বাকি রাস্তাটা কিন্তু বেশ কঠিন। অনেক উঁচুনিচু আছে। এরপর বললাম, তোমরা তোমাদের মতো করে উপভোগ করো। আমি এগিয়ে যাই। বলেই আমি আবার জনসমুদ্রে হারিয়ে গেলাম।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও রাস্তায় রাস্তায় প্রতিযোগীদের উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন জাতি এবং সংস্কৃতির মানুষ তাদের নিজস্ব সংগীত, নৃত্যকলা পরিবেশন করছিল। আর কিছুদূর পরপরই ছিল পানি পান করার ব্যবস্থা। এ ছাড়া অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিচ্ছিল। অনেকেই তাদের বাড়ির সামনে বিভিন্ন রকমের খাবার বিনা মূল্যে বিতরণ করছিল। আবার অনেকেই গরম থেকে প্রতিযোগীদের একটু রেহাই দিতে পানির পাইপ দিয়ে কুয়াশার মতো করে পানি বর্ষণ করছিলেন। এ ছাড়া অনেক বাড়ির ছোট বাচ্চারা লেমনেড, পানীয় বিক্রি করে বিভিন্ন দাতব্য কাজের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল। আমি সাধারণত চেষ্টা করি এ সময় তেমন পানি বা খাবার না খেতে, কারণ তাহলে শরীর ভারী হয়ে যায় আর হাঁটতে বেশি কসরত করতে হয়। এ ছাড়া কিছুদূর পরপর ছিল প্রসাধন কক্ষ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো।

অস্ট্রেলিয়ানরা নিজেদের জীবনকে সহজ করতে জীবনযাপনের সব উপকরণকেও সহজ করে নিয়েছে। এমনকি ভাষাটাকেও তাঁরা নিজেদের মতো করে বলেন। যদিও ভাষাটা ইংরেজি কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণ আলাদা। আর কঠিন এবং বড় শব্দগুলোকে নিজেদের মতো করে বানিয়ে নিয়েছে।

আমার পাশেই একজন ভদ্রমহিলা প্রামে তাঁর বাচ্চাকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু রাস্তাটা সামনের দিকে উঁচু হওয়ায় বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি কি না। উনি সানন্দে রাজি হলেন। আমি ওনার প্রাম ঠেলে খাড়িটুকু পার করে দিলাম। এরপর দেখা হলো এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে। উনি দুই হাতে দুটো লাঠি নিয়ে হাঁটছেন। তাঁকে ঘিরে পরিবারের সদস্যরা হাঁটছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম আপনার বয়স কত। উত্তরে বললেন, ৯৩ বছর। শুনে আমি বললাম, আপনাকে ১৯ বছরের তরুণীর মতো দেখাচ্ছে। শুনে উনি হাসতে শুরু করলেন। এরপর এক ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হলো তিনি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অংশ নিচ্ছেন। বয়স জিজ্ঞেস করাতে বললেন, বয়স শুধু একটা সংখ্যা। এরপর একজন ভদ্রমহিলার জামার পেছনে লেখা দেখলাম, আমি দৌড়াচ্ছি আমার বাবার জন্য। সঙ্গে বাবার একটা ছবিও প্রিন্ট করা। উনি ওনার বাবাকে নিয়ে অনেক স্মৃতিচারণা করলেন।

২০২৩ সালের সিটি টু সার্ফে লেখকের বন্ধুরা
ছবি: লেখকের পাঠানো

এক বাড়ির সামনের উঠানে আলুর চিপস আর পানি রাখা হয়েছে। বাড়ির একটা বাচ্চা ছেলে আবার ট্রেতে করে সেই পানি প্রতিযোগীদের দিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি চিপস নিতে নিতে বললাম, তোমরা খুব ভালো, তোমরা প্রতিবছর এটা করে আমাদের উৎসাহ দাও। অশেষ ধন্যবাদ তোমাদের। এরপর আরেক বাড়ির সামনে সবাইকে পানির সঙ্গে বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। আমিও হাত বাড়িয়ে একটা বিস্কুট নিলাম। কী যে স্বাদ সেই বিস্কুটের। এ ছাড়া পথে যেতে যেতে অনেক শিশুর সঙ্গে হাই ফাইভ দিলাম, যারা হাত বাড়িয়ে রেখেছিল। একটা জায়গায় বৃদ্ধাশ্রম। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁদের আঙিনায় বসে দৌড় উপভোগ করছেন। আমি রাস্তা ছেড়ে তাঁদের হাই ফাইভ দিলাম। ওনারা যেই হাসি দিলেন সেটা একেবারে অমূল্য।

এবারের সিটি টু সার্ফে দেখা হয়েছিল মারিও ব্রাদার্সের সঙ্গে
ছবি: লেখকের পাঠানো

এক জায়গায় দেখলাম এক ভদ্রলোক উল্টো হয়ে দৌড়াচ্ছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কেন এভাবে দৌড়াচ্ছেন।’ উত্তরে বললেন, ‘আমার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছি।’ আমি বললাম, ‘সেটা তো বিশাল সুখবর।’ এরপর দুজনেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম। কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি এক ভদ্রমহিলা একটা প্রাম নিয়ে কিছু দূর যাচ্ছেন আর থেকে থেকে পেছনে তাকাচ্ছেন। আমি তাঁকে আগের ভদ্রলোকের ঘটনা বললাম। সঙ্গে সঙ্গে উনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাঁর মাথায় কি তটুপি ছিল।’ আমি বললাম, ‘অত খেয়াল করিনি, কিন্তু আপনি কেন জানতে চাইছেন।’ উনি বললেন, ‘আমি পেছনে তাকিয়ে আমার স্বামীকে খুঁজছি।’ শুনে হাসতে হাসতে আমি বললাম, ‘আমি কিন্তু আসলে ওই লোককে এগুলো বলিনি। এরপর আমরা দুজনেই হাসা শুরু করলাম।’

এবারের সিটি টু সার্ফে দেখা হয়েছিল সুপারম্যানের পরিবারের সঙ্গে
ছবি: লেখকের পাঠানো

এরপর এক নারীকে দেখলাম বুকের ব্যাগের মধ্যে একটা বাচ্চা নিয়ে হাঁটছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওর বয়স কত। উত্তরে বললেন, মাত্র ছয় মাস। আমি বললাম আমার জানামতে ও–ই সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিযোগী। ওর জন্য অনেক দোয়া রইল। এরপর প্রতিযোগিতা শেষ করে মেডেল নেওয়ার পালা। যিনি মেডেল দিচ্ছিলেন তাঁকে বললাম, আমাকে পরিয়ে দেন। উনি হাসিমুখে আমার গলায় পরিয়ে দিলেন। এরপর দেখা হলো একদল নারীর সঙ্গে, যাঁরা শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের বললাম, আমি গত বছর একজনকে পেয়েছিলাম যিনি শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর একটা পরিবার পেলাম, যাদের বাবা–মা থেকে শুরু করে পরিবারের সব সদস্যই সুপারম্যান, সুপার গার্লের পোশাক পরে আছে। এরপর পরিচয় হলো দুজনের সঙ্গে, যারা বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র মারিও ব্রাদার্সের মতো পোশাক পরে আছে। তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে তুলতে বললাম, মারি ব্রাদার্স আমার ছেলের খুব পছন্দের। ওকে এই ছবি দেখাব আর বলব যে ও কী মিস করেছে। এরপর ধীরে ধীরে বাসের লাইনে এগিয়ে গেলাম বাসায় ফেরার জন্য।