সিডনিতে লায়ন্স ক্লাবের ডায়াবেটিস সচেতনতা সেমিনার
সিডনি হার্মনি লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে সম্প্রতি ডায়াবেটিস সচেতনতা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ওয়েন্টওয়ার্থভিলের ওয়েন্টি লিগস ক্লাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় ২৫০ জন মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার পেডোরথিকস বিষয়ে প্রথম পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনকারী, ডায়বেটিক পায়ের সেবার বিশেষজ্ঞ ড. সায়েদ আহমেদ, যিনি বর্তমানে লায়ন্স ক্লাব অব সিডনি হার্মনির সেবা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেমিনারে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পায়ের যত্ন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা তাদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
সিডনির নিপিয়ান হাসপাতালের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ স্মিথ, একই হাসপাতালের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পা সেবা বিভাগের ব্যবস্থাপক জ্যাকি ব্যাচেলার এবং ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ড. রামি বিশয় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিশেষ আকর্ষণ ছিল অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী পার্সোনাল ট্রেইনার লিসার ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ব্যবহারিক ব্যায়াম প্রদর্শন, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মূলস্রোতের বর্ষীয়ান সাংবাদিক জন মহোনী। তিনি অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অংশগ্রহণকারী সিডনিপ্রবাসী ব্যবসায়ী রাজীব ফেরদৌস বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার জীবনযাত্রায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের সরাসরি পরামর্শ পাওয়ার এই সুযোগ খুবই মূল্যবান।" সিডনিপ্রবাসি বাংলাদেশি তাসনীম রাইসা যোগ করেন, "আমাদের কমিউনিটিতে ডায়াবেটিস নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। এই সেমিনার সেগুলো দূর করতে সাহায্য করেছে।"
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ডায়াবেটিসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং জিনগত প্রবণতা এর প্রধান কারণ।
ড. সায়েদ আহমেদ জানান, "আমরা প্রতি বছর এমন সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করছি। সামনে আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি ও অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের অংশঅগ্রহনে এই ধরনের আয়োজন করা হবে।"
অনুষ্ঠানে সিডনি হার্মনির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টি ট্যাম, লায়ন্স অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কাউন্সিল চেয়ারম্যান ভিন পাংসহ বিভিন্ন লায়ন্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের সফল আয়োজনে মিশেল সিওর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
অংশগ্রহণকারীরা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ, জটিলতা প্রতিরোধ এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ পান। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।