লস অ্যাঞ্জেলেসে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিলে সিলেটি ঐক্যের ছোঁয়া
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও রমজান এলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। সেই আবহকে আরও উষ্ণ ও মিলনমুখর করতে প্রতিবছরের মতো এবারও বৃহৎ পরিসরে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া।
৮ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্রানাডা হিলস মসজিদে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নেন। হাজার মাইল দূরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রবাসী সিলেটিরা নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ ধরে রাখতে একত্র হন। পবিত্র রমজানের চেতনা ধারণ করে একসঙ্গে ইফতার করার এ আয়োজন পরিণত হয় এক মিলনমেলায়; যেখানে হাসি, আলাপ–আলোচনা ও দোয়ার মধ্যে মিশে যায় প্রবাস জীবনের স্নিগ্ধতা।
কমিউনিটির অনেকের মতে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বৃহৎ পরিসরে ইফতার আয়োজনের ক্ষেত্রে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অন্যতম অগ্রণী সংগঠন। প্রতিবছরই প্রবাসী বাংলাদেশিদের একত্র করার উদ্দেশে সংগঠনটি এমন উদ্যোগ নিয়ে থাকে।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মুনিম ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা পবিত্র রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মাহফিলে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার নেতা ও অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ নাসির জেবুল, মইনুল হক, মুশফিকুর চৌধুরী, বদরুল আলম মাসুদ, আবদুল বাসেত, লোকমান হোসেন, মাহতাব আহমেদ, শিপার চৌধুরী, নজরুল আলম প্রমুখ। এ ছাড়া সাংবাদিক কাজী মশহুরুল হুদা ও লস্কর আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী। অনুষ্ঠানে সমাজসেবক খন্দকার আলম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সৈয়দ নাসির জেবুল বলেন, এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে প্রবাসে সহজ-সরলতা, সততা এবং নিবিড় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সিলেটিরা তাঁদের শিকড়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে সক্ষম। এ ধরনের আয়োজন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রবাসী কমিউনিটির মিলনমেলা এবং সিলেটি ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।