লাল দোপাট্টা–১ম পর্ব

অলংকরণ: আরাফাত করিম

আরেহ ওই ছেমরি, তুই এত দেমাগ দেখাছ কিল্লাই?
বিয়ান বেলাত থন এইহানে কাউয়ার লাগান খাড়াইয়া রইছি, তোর দিলে কোনো রহমত নাইকা?
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের রাস্তার ওপরে যে মসজিদটা, তার ঠিক উল্টা পাশেই একটা গলির শেষ মাথায় দুই কোনায় দুইটা কাঠের দুই পাল্লার দরজা, তার একটা ধরে কপাল কুঁচকে মুখে ভেংচি কেটে পারুল বলে উঠল, ‘আইছে, সক্কালবেলা রোমিও আইয়া পড়ছে! আবে ওই, আমি কি তোরে আইবার কইচি নাকি? খাড়ায় খাড়ায় ফাল পারতাছোস, তফাৎ যা।’
‘আরিব্বাস, তেল এক্কেরে উপচ্ছায় পড়ে দেহি, আমার জিনিছ দেখবার লাগি আমি যখন খুশি আমু, তোর কি? হগগলের দিল কি তোর মত পাষাণ নি?’
‘ছিমুইল্লা, তুই মাগার এখনতরি আমারে চিনবার পারস নাই, তাই বুঝবার পারতাছস না, কেমতে কতা কইবি, তোর জিনিস কেডা হুনি?’
‘ওই, খালি ক্যাচ ক্যাচ করছ কেলা, মুখডা মিডা করন যায় না? ছোন, ছামনের ছুক্কুরবার আমার কামকাজ নাইকা। ছুটি লইছি। চল একলগে ছিনেমা দেইখা আছি, ছুপার হিট ছিনেমা আইছে, জব্বর গান...।’
‘এহ, আমি যাইতাম না তোর লগে ছিনেমা দেখতে।’
‘কেলা?’
‘আমার খুশি।’
‘রাখ তোর খুশি, লাল কামিজ আর লাল দুপাট্টা পিন্দা ছুক্কুর বার ছামনের হোটেলের মোড়ে আইবি ঠিক বিকাল তিনডায়, আমি তোরে দেইখা গামু, “হাওয়া মে উড়তা যায়ে মেরা লাল দুপাট্টা মলমল...”’
‘ইশ, কি রঙ! হামার দুপাট্টা উড়পে, তুই কেন গাইবি মেরা লাল দুপাট্টা, ছেমড়া?’
‘ঐ একই কথা, তুই আমি তো একই বাত হে না।’
পারুল ভ্রু কুঁচকে কপালে তিন ভাঁজ ফেলে বলল, ‘আইচ্ছা তাইলে তুইও লাল দুপাট্টা পিন্দা আইবি, আমরা যখন একই, তাইলে যামু তর লগে, নইলে না।’
‘আল্লাহ মেহেরবান, তুই এত্তো গ্যাঞ্জাম করস কিল্লায়? মুখের ভাছাডা একটু ভালা করন যায় না?

ফরফর ফরফর করতেই আছে। আইচ্ছা যা, আমি গামু তেরা লাল দুপাট্টা মলমল... এলা হইছে?
ঈদডা পাড় হইয়া একটা দিন যায় নাইকা, কই একটু দিলখুশ কথা কইবো, তা না, এক্কেরে.... ধার দেয়া চাক্কুর লাহান।’
আইচ্ছা আমু নে, এলা কয়া ফালা কি ছিনেমা দেখাবি?
‘অহন কমু না, ছারপ্রাইজ দিমু’
পারুল হেসে দিলো, গজদাঁত আছে। এত সুন্দর হাসি মেয়েটার, দেখলে দেখতেই ইচ্ছে করে।
শিমুল দুচোখ ভরে তাকিয়ে আছে। বলল, ‘মাছাল্লাহ, তোরে কি বিউটিফুল লাগে হাসলে, দিল উইড়া যায়গা।’
‘তাড়াতাড়ি ধইরা আন ছেমড়া, দিল গেলে আর কেউ মানুষ থাহে নি!’
‘হ, বহুত কষ্টে ধইরা বাইন্দা থুইছি, তুই তো বুঝলি না, পেয়ার মে কাভি কাভি এছা হোতা হে। কাভি খুশি কাভি গাম ভি হোতা।’
‘তুই তো দেহি ভালোই হিন্দি কইবার পারোস।’
‘কেলা, তুই একলাই ছব কইবি, কাভি নেহি, মার যায়ঙে তো ভি হাম সাথ সাথ মারেঙ্গে।’
শিমুল অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো, ‘হাছা নি? তুই ছত্তি আমার লগে মরবি?’
‘যা ফুট ছেমড়া, ছিনেমার ডায়ালগ কইলাম। আম্মিজান ডাক পারছে, এলা যাইগা।’
‘আইচ্ছা, যা। ছুক্কুরবার টাইমমতো চইলা আইস।’

পারুল যেতে যেতে মাথা ঘুরে পেছনে তাকাল। সেই গজদাঁতের হাসি, কী সুন্দর! এরপর দিল দৌড়।
গলির মোড়ে একটা পুরোনো পাকুড়গাছ, পাতাগুলো অল্পবিস্তর নড়াচড়া করছে, যতক্ষণ পারুলকে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শিমুল, এরপর গলায় মাফলার ঠিক করতে করতে রাস্তার দিকে হাঁটা দিল।
‘আইজ বহুত দিলখুশ, পারুল রাজি হইছে ছিনেমা দেখতে যেতে, কি যে খুশী লাগতাছে।’
মনে মনে ঠিক করল, ছুক্কুরবার বড়লোক গো লাগান পপকর্ন আর পেপসি কিন্না নিয়া ঢুকবো একলগে ছিনেমা দেখতে... (চলবে...)

**দূর পরবাসে লেখা, ভ্রমণ, গল্প পাঠাতে পারবেন আপনিও। ঠিকানা [email protected]