রন্ধনশিল্পে সমৃদ্ধ পর্তুগালের পোর্তো শহরে একদিন: শেষ পর্ব

পন্তে দে দম লুইস থেকে এক অসাধারণ রূপে পোর্তোকে দেখা যায়। ওল্ড টাউনের সেই পুরোনো সেসব দালানকোঠাকে ব্রিজের ওপর থেকে দেখলে মনে হয়, এ বুঝি কোনো রূপকথার রাজ্যে বেড়াতে এসেছি। বিশেষ করে কয়েক শ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এসব ঘরবাড়ির ওপরের লাল টালির ছাদগুলো দেখলে মনের ভেতর আলাদা অনুভূতির সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পরপর হলুদ রঙের একটি ট্রেন ব্রিজের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ছুটে চলে। পোর্তোর প্রকৃত সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে তাই আপনাকে এ ব্রিজের ওপর আসতে হবে। ব্রিজের ওপর থেকে ছাই রঙের একটা চার্চের দিকে আমার আলাদাভাবে চোখ যাচ্ছিল। তুরস্ক কিংবা বলকানের দেশগুলোয় ক্লক টাওয়ার দেখা যায়।

এ চার্চের সঙ্গে ক্লক টাওয়ারের মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম। দান্তেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। দান্তে বললেন, চার্চটি যে স্থানে অবস্থিত, সেটি পোর্তোর সবচেয়ে উচ্চতম স্থানগুলোর মধ্যে একটি। একসময় এ চার্চ থেকে পোর্তোর শাসনকাজ পরিচালনা করা হতো এবং এ চার্চের সঙ্গে একটি ওয়াচ টাওয়ারও রয়েছে। পরে অবশ্য এ চার্চও ঘুরে দেখেছি। স্থানীয়ভাবে চার্চটি তরে দস ক্লিরিগস নামে পরিচিত।
ততক্ষণে প্রায় দুপুর। শরীরে ক্লান্তি নেমেছে, দান্তে এ বয়সেও অনেক ফিট। লিসবনের মতো পোর্তোও বেশ বন্ধুর, বিশেষ করে পোর্তোতে বা লিসবনে কোনো স্থানে স্থানে হেঁটে পৌঁছাতে গেলে খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরের দিকে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়। এ কারণে যাঁদের পাহাড়ি রাস্তায় নিয়মিত চলাচলের অভ্যাস নেই, তাঁরা অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। দান্তে আমাকে বললেন, ‘কিছুটা সময় বিশ্রাম নাও। আমরা এরপর পোর্ট ওয়াইন মিউজিয়ামে যাব। আমাদের আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে।’

প্রথম দিকে অস্বস্তি লাগছিল, তারপরও নিজেকে সামাল দিলাম। পন্তে দে দম লুইস থেকে পোর্ট ওয়াইন মিউজিয়ামের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। প্রথম দিকে এ মিউজিয়ামকে অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত ওয়্যারহাউসের মতো মনে হতে পারে। পোর্ট ওয়াইনের ইতিহাস তুলে ধরতে এ মিউজিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। মিউজিয়ামের ভেতরে সারি সারি ওককাঠের ব্যারেলের উপস্থিতি লক্ষ করলাম। মূলত এজিংয়ের জন্য এসব ব্যারেল ব্যবহার করা হয়। এজিংয়ের সময়কাল যত বাড়বে, ওয়াইনের স্বাদও তত ভালো হবে। ওয়াইনের দামও এজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের ট্যুর গাইড জানালেন, কয়েক মাস আগে ২০০ বছর ধরে এজিং হওয়া ৭৫০ মিলিলিটারের পোর্ট ওয়াইন ৮ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়েছিল। মিউজিয়াম পরিদর্শনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের পোর্ট ওয়াইনের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সাগর সব সময় আমার মনে ভিন্ন একধরনের মাদকতা সৃষ্টি করে। পোর্তোতে বেড়াতে আসার আগে স্থির করে রেখেছিলাম, শহরটির আশপাশে থাকা কোনো এক বিচ এরিয়ায় কিছু সময় কাটাব। দান্তেকে আমার মনের কথা জানালাম। পোর্ট ওয়াইন মিউজিয়াম পরিদর্শন শেষে তাই কোনো সময় নষ্ট না করে তিনি আমাকে মিউজিয়াম থেকে সরাসরি সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গেলেন। আটলান্টিক মহাসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা পোর্তো ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সৈকত রয়েছে। আমাদের গন্তব্য ছিল প্রাইয়া দস ইংলেসেস। পোর্ট ওয়াইন মিউজিয়াম থেকে এক ঘণ্টার মতো হাঁটার পথ, দান্তের শরীরে কোনো অবসাদের ছাপ নেই। অথচ আমার শরীর যেনও চলছে না। তারপরও মনের জোরকে পুঁজি করে এগিয়ে গেলাম। দান্তে বললেন, সাগরসংলগ্ন এলাকার বেশির ভাগ মানুষ মূলত মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পর্তুগালের জনসংখ্যা কমে আসছে। তাই এসব এলাকা থেকেও পুরোনো দিনের অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশ, যেমন ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড সব দেশের তুলনায় পর্তুগালে সাধারণ মানুষের আয় বেশ কম। তবে আয়ের তুলনায় এ দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় যে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটা বলা যাবে না। এ কারণে বাড়তি আয় ও অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনের আশায় পর্তুগাল থেকে অসংখ্য মানুষ পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমান। অন্যদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ অভিবাসী হিসেবে পর্তুগালে পাড়ি জমান। তবে এ দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর কেউ এখানে অবস্থান করতে চান না।

পর্তুগাল আয়তনে বেশ ছোট, তবে দেশটির শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বাইরের দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীদের উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। বিশেষ করে ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, সাওটোমে ও প্রিন্সিপে, কেপ ভার্দে, গিনি বিসাউ, পূর্ব তিমুর—এসব দেশের মানুষ পর্তুগালের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। পর্তুগালের অনেক স্থানে স্থানীয় নাগরিকদের তুলনায় এসব দেশের মানুষের পদচারণ অধিক মাত্রায় চোখে পড়ে। এসব দেশের সঙ্গে পর্তুগালের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, কেননা এসব দেশে একসময় পর্তুগালের উপনিবেশ ছিল এবং এসকল দেশের অফিশিয়াল ভাষা পর্তুগিজ। দান্তেকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমাদের দেশে এত মানুষ অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছে এবং তোমাদের দেশের বর্তমান সরকারও অভিবাসীদের প্রতি বন্ধুসুলভ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কী?

দান্তে আমার প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘একসময় পৃথিবীর অনেক দেশ আমরা শাসন করেছি। ওই সব দেশের স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর আমাদের পূর্বপুরুষেরা অত্যাচার চালিয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন সম্পদ আমরা লুট করেছি। কাজেই আমাদের এ জন্য অনুশোচনা হওয়া উচিত। ব্রাজিল, ভারতের গোয়া, অ্যাঙ্গোলা ও মোজাম্বিক থেকে শুরু করে আফ্রিকার অনেক দেশে আমাদের উপনিবেশ ছিল বলে আজকে আমাদের অর্থনীতি এ পর্যন্ত এসেছে। যেসব দেশের কারণে আমাদের অর্থনীতি ফুলেফেঁপে উঠেছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আমাদের বরণ করে নেওয়া উচিত এবং তাঁরাও এ দেশে আমাদের মতো ভাগ্যের অনুসন্ধান করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অন্তত দু-তিন শতাব্দী ধরে পর্তুগিজরা ইমিগ্রান্ট হিসেবে পরিচিত। লুক্সেমবার্গের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ মানুষ পর্তুগিজ। ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম, গ্রেট ব্রিটেন, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্তুগিজ বসবাস করেন, যাঁরা অভিবাসী হিসেবে এসব দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ইউরোপের অন্য অনেক দেশ থেকে আমরা বিভিন্নভাবে পিছিয়ে। আমরা যেখানে অন্যের দেশে ইমিগ্রান্ট, সেখানে আমাদের দেশে বাইরের কোনো দেশের মানুষ ইমিগ্রান্ট হয়ে আসবে না, সেটা কী হয়?’

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজনীতি কট্টর ও ডানপন্থী রাজনৈতিক জোটগুলোর উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসী জনগোষ্ঠী। সাধারণ মানুষদের একটি বড় অংশ মনে করে যে অভিবাসীদের উপস্থিতি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে সুবিধাপ্রাপ্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কেউ কেউ আবার মনে করেন, অভিবাসীরা একটি দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। কট্টর ও ডানপন্থী রাজনৈতিক জোটগুলো এ ধরনের মনোভাবকে পুঁজি করে অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন নীতিকে তাঁদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডার সঙ্গে সংযুক্ত করে। পর্তুগালের সাধারণ মানুষ এখনো ইমিগ্রান্টদের মতো অনেকাংশে নমনীয়, দান্তের কথায় সেটি প্রমাণিত হলো।

প্রাইয়া দস ইংলেসেস–সংলগ্ন এলাকা বেশ ঘনবসতিপূর্ণ। কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল যে রিও ডি জেনিরো কিংবা সাও পাওলোর কোনো এক ফাভেলায় চলে এসেছি। অবশ্য রিও ডি জেনিরো বা সাও পাওলোর মতো পোর্তোতে নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই। তবে ইউরোপের কথা উঠতে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে যে ধরনের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে, এসব এলাকায় আসলে তারা হতাশ হয়ে পড়বে। ছোট ছেলেমেয়েরা রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছে, অনেকের পরনে জামা নেই। কারও গায়ের জামা আবার মলিন ও বিবর্ণ। ছোট ছোট দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর দামাদামি করার দৃশ্য দেখে বেশ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এসব মানুষের চেহারায়ও ইউরোপিয়ানদের ছাপ বেশ কম মনে হলো। একটা দোকান থেকে ফান্টার অর্ডার করেছিলাম, ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে দেখি, এসব এলাকার কোথাও কার্ডে পেমেন্ট করা যায় না। পুরো এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং ঘরগুলো যেনও পায়রার খোপের মতো ছোট ছোট।
স্লোভেনিয়ার পাশের দেশ ক্রোয়েশিয়া, ক্রোয়েশিয়ার বেশির ভাগ সমুদ্রসৈকত অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। এদিক থেকে পোর্তোর এ বিচকে আমার কাছে খুব একটা পরিষ্কার মনে হয়নি। গরমের দিন হওয়ায় সমুদ্রসৈকতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে পর্তুগালের বেশির ভাগ বিচ বালুময়, তারপরও ক্রোয়েশিয়ার বীচগুলোর মতো সতেজতা চোখে পড়েনি। তা ছাড়া গ্রিস, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইতালি কিংবা ক্রোয়েশিয়ার সমুদ্রসৈকতগুলোর মূল আকর্ষণ হচ্ছে ভূমধ্যসাগরের গভীর নীল জলরাশি। ভূমধ্যসাগরের তুলনায় আটলান্টিক মহাসাগরকে আমার কাছে বেশ ফিকে মনে হচ্ছিল। দান্তেকে কিছু ছবি দেখালাম, যেগুলো ক্রোয়েশিয়া বা গ্রিসে তুলেছিলাম। ছবিগুলো দেখামাত্র তিনি বললেন, ‘আটলান্টিক মহাসাগরের তুলনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ভূমধ্যসাগরকে সব সময় এগিয়ে রাখি। কেননা, ভূমধ্যসাগরের তুলনায় আটলান্টিক মহাসাগরের পানি খানিকটা শীতল। এ কারণে গোসল কিংবা সাঁতারের জন্য ভূমধ্যসাগরের জলরাশি অধিক আরামদায়ক এবং ভূমধ্যসাগরের তীরের প্রতিটি দেশ সৌন্দর্যের দিক থেকে অনন্য। এ ছাড়া ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’

দান্তে বললেন, পর্তুগালেও এমন কিছু সমুদ্রসৈকত আছে, যেগুলো সত্যি আকর্ষণীয় এবং দেখার মতো। তবে এসব সৈকতের সৌন্দর্যকে কাছ থেকে দেখতে হলে তোমাকে কাশকাইশ কিংবা দক্ষিণের দিকে আলগার্ভেতে যেতে হবে।

প্রাইয়া দস ইংলেসেসের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল সফর শেষ করতে হলো। পরের দিন স্লোভেনিয়াতে ফিরে আসতে হবে। এ কারণে আর ঘুরার সুযোগ ছিল না। সারা দিনের হাঁটাহাঁটি শরীরকে একেবারে ভেঙে দিয়েছিল। মানসিকভাবেও তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছিলাম না, এ রকম একটি শহরের আত্মাকে উপলব্ধি করার জন্য এক দিন কোনোভাবে যথেষ্ট নয়।

মোহন ভাই ও দান্তে—এ দুজনের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমাকে তাঁদের নিকট চিরকালের জন্য ঋণী করে রাখবে। সেদিনের রাত দান্তের সঙ্গে তাঁর বাসায় কাটিয়েছি, রাতের খাবারে তিনি আমার জন্য তিনি কডফিশের সালাদ তৈরি করছিলেন। দান্তে জানান, গ্রীষ্মের দিনে পর্তুগালের সাধারণ মানুষ বাসাবাড়িতে এ সালাদ তৈরি করতে ভালোবাসেন। আজও সে সালাদের স্বাদ ভুলতে পারিনি, এমনিতে আমি আগে খুব একটা মাছ খেতাম না। তবে দান্তের হাতে তৈরি হওয়া এ সালাদের স্বাদ নেওয়ার পর আমিও ধীরে ধীরে মাছের প্রতি ভালো লাগা তৈরি করেছি। সময়টা যখন খুব খারাপ যাচ্ছিল এবং সবদিক থেকে যখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম; ঠিক এ ধরনের একটি জটিল কোনো মুহূর্তে এ রকম একটি সফর আমার অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করেছিল। এর ফলাফলও ধীরে ধীরে প্রত্যক্ষ হচ্ছে।

পৃথিবী সত্যি সুন্দর, এ পৃথিবীর প্রত্যেক পরত ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য ও বিভিন্ন ধরনের বিচিত্রতা। ভ্রমণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পৃথিবীর কোনো একটি সৌন্দর্যকে কাছ থেকে অবলোকন করা যায়, ঠিক তেমনি ভিন্ন কোনো সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সংস্পর্শ আমাদের মনে আলাদা এক অভিজ্ঞতার সঞ্চার করে। বিষণ্ণতাথেকে দূরে থাকার জন্যও ভ্রমণ বেশ কার্যকর, এবারের পর্তুগাল সফর জীবনের এ দর্শনগুলোকে আমার সামনে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

*লেখক: রাকিব হাসান রাফি, শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব নোভা গোরিছা, স্লোভেনিয়া