অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল ক্যানবেরা জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া অ্যাসোসিয়েশন ক্যানবেরা (BAAC)-এর পরিবেশনায় অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল (NMF) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে। ন্যাশনাল মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল (NMF) অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার বর্ণিল সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর একটি। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সংগীত, নৃত্য, পোশাক ও খাবার তুলে ধরার সুযোগ পায়।
ন্যাশনাল মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল (NMF) মূলত বহুসাংস্কৃতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির উদ্যাপন। এই উৎসবে বিশ্বের নানা দেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা, রঙিন প্যারেড, হস্তশিল্পের প্রদর্শনী এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। স্থানীয় কমিউনিটি গ্রুপ, স্বেচ্ছাসেবক ও শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
এই ফেস্টিভ্যাল শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ায় এবং অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করে। পরিবার, শিশু ও সব বয়সের মানুষের জন্য এটি একটি উন্মুক্ত ও আনন্দঘন মিলনমেলা, যেখানে এক ছাদের নিচে বিশ্বসংস্কৃতির স্বাদ নেওয়া যায়।
এবারের তিনদিনব্যাপী NMF অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যানবেরা (BAAC) সব কটি অঙ্গনে তাদের উপস্থিতি তুলে ধরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বাংলাদেশি খাবারের ষ্টলের মাধ্যমে যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও শিল্পসত্তাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে সুচারুভাবে তুলে ধরে।
BAAC-এর শৈল্পিক নির্দেশনা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং রং ও ছন্দের সমন্বয়ে উপস্থাপিত শোভাযাত্রাটি উৎসব প্রাঙ্গণে এক প্রাণবন্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আবহ সৃষ্টি করে, যা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন। ক্যানবেরার বাংলাদেশি শিল্পীদের সুসমন্বিত পরিবেশনায় লোকজ সংগীত, আধুনিক সুর, নৃত্য ও দেশাত্মবোধক উপস্থাপনার এক নান্দনিক সংকলন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এই আয়োজন কেবল একটি পরিবেশনা নয়; বরং ক্যানবেরার বহুসাংস্কৃতিক পরিসরে বাংলাদেশের পরিচয়কে গভীরতা ও মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ, প্রজন্মান্তরে তা বহন এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে অর্থবহ সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
BAAC এই সফল আয়োজনের জন্য শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক, আয়োজক কমিটি এবং উপস্থিত দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। সংগঠনটি ভবিষ্যতেও ক্যানবেরার বহুসাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শিল্প ও মূল্যবোধকে সুদৃঢ় ও সুপরিকল্পিত উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিজ্ঞপ্তি
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]