ইউরোপে শেনজেন দেশ বেড়ে ২৯, রোমানিয়া-বুলগেরিয়ার নতুন দিগন্ত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি সদস্যরাষ্ট্র রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া গতকাল বুধবার থেকে শেনজেনের পূর্ণ সদস্য হিসেবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে বদলে গেল ইউরোপের শেনজেন এরিয়ার মানচিত্র, অর্থাৎ ইতিপূর্বের ২৭টি শেনজেন রাষ্ট্র থেকে এখন বেড়ে দাঁড়াল ২৯টি।
শেনজেন হচ্ছে ইউরোপের এমন একটি জোন, যেখানে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দেশগুলোর নাগরিকেরা পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। এ ছাড়া বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকেরা একটিমাত্র ভিসার (শেনজেন) মাধ্যমে বর্তমান ২৯টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, অর্থাৎ ওই দেশগুলোর মধ্যে সীমানা পাড়ি দিতে সীমান্তে কোনো ধরনের চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে না।
বুলগেরিয়া ও রোমানিয়াকে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে এই শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ করার জন্য। যদিও দেশ দুটি ২০০৭ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রবেশের জন্য দেশগুলোকে অনেকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।
শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের মাধ্যমে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোর মধ্যে দেশগুলোতে পর্যটনের অনেক বেশি প্রসার ঘটবে। এ ছাড়া অবাধ বাণিজ্য ও ভ্রমণের সুবিধা এই দুটি দেশের নাগরিকদের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ দুটি দেশের শেনজেন অন্তর্ভুক্তি শুধু যে তাদের উন্নয়ন তা নয়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন জানিয়েছেন, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার অন্তর্ভুক্তি এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে এবং ইউরোপীয় ঐক্য বৃদ্ধি করবে।
তবে অন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ রাষ্ট্র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালেও বেশ কিছু সদস্যরাষ্ট্র এ অঞ্চলে অভিবাসন সমস্যা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে নতুন দুটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নাগরিকেরা এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
১৯৮৫ সালে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও লুক্সেমবার্গ নিয়ে এই শেনজেন অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া ছাড়াও পূর্বে অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, মাল্টা, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড এ ভিসামুক্ত অঞ্চলে যোগদান করে।
*দূর পরবাস-এ গল্প, ভ্রমণকাহিনি, ভিডিও, ছবি, লেখা ও নানা আয়োজনের গল্প পাঠান [email protected]এ