বসন্ত বাতাসে
এখন বসন্তকাল, রাজকীয় শোভার মাস এটি। বসন্তের সঙ্গে বাঙালির হৃদয়ের ইন্দ্রিয়জাত একটা যোগাযোগ আছে। চারদিকে কচি কচি পাতায় এখন আলোর নাচন দেখা যায়। বসন্তের দূত কোকিলকে তো গাছের ডালে–পাতার আড়ালে এখনই দেখা যায়।
সবার মন যেন কিছুটা উত্তাল আর এই বসন্তেই সবার মন বাঁধনছাড়া হতে চায়। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শব্দ—এ সবকিছুই বসন্তের পূর্ণতা। বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। এই বসন্তেই মনের ক্লান্তি জুড়ায়, এই বসন্তই হৃদয়কে আরও বেশি চঞ্চল করে তোলে। এই বসন্তেই গাছে গাছে পলাশ–শিমুলের মেলা বসার কথা অথচ এবার দেশে গিয়ে বসন্তের বৈশিষ্ট্য ঠিক আগের মতো পেলাম না।
‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
আগের বসন্ত মনে হচ্ছে যেন আরও বেশি সুন্দর ছিল, আরও বেশি প্রাণবন্ত ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে, মানুষের অনৈতিক চলনে বসন্তের সৌন্দর্য খানিকটা ব্যাহত হচ্ছে। মাঘের শীতের তীব্রতা ঠিক আগের মতো আর নেই। সৌন্দর্যে আগেকার অনিন্দ্য–সজীবতা, উচ্ছ্বাস, আনন্দ ঠিক পূর্ণমাত্রায় পেলাম না। শিমুলগাছে আগুন রঙের খেলা খুব কমই চোখে পড়েছে। কুয়াশার চাদরে মোড়া শীতের তীব্রতা এখন আর নেই। ফাগুন কিংবা বসন্ত যা–ই বলি বউ কথা কও কিংবা চোখ গেল পাখির ডাক আমি শুনতে পাইনি।
তরুণ–তরুণীদের আমি দেখেছি ফ্যাশন হাউসগুলোয় নতুন কী কী ফিউশন এসেছে, তা নিয়ে তাদের ব্যস্ত থাকতে। মূলত মানুষ ও প্রকৃতির যে নিবিড় সখ্য, তা–ই যেন দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ফলে বসন্তে বাতাসের যে দুরন্তপনা, তা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এই বসন্তকালে আকাশ সাধারণত মেঘাচ্ছন্ন থাকে না অথচ এই বসন্তেই আমি ঢাকায় এবার মুষলধারে বৃষ্টি হতে দেখিছি। তারপরও বলতে হয়, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’ কিংবা শাহ আবদুল করিমের সেই বিখ্যাত গান ‘বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ উড়ে উড়ে আসে সই গো বসন্ত বাতাসে।’