পরবাসে যাপিত দিন
বিভিন্ন সময়ে দূর পরবাসে প্রকাশিত লেখা পড়ি আর আনন্দিত হই। তবে আজকে দায়িত্ব নিয়েছি নিজেই লিখব। সেই চিন্তা থেকেই আমার এ লেখা। আশা করছি, ভালো লাগবে।
২০২০ সাল, করোনা কমার দিকে। তার আগে, যখন সর্বোচ্চ অবস্থা চলছিল, সেই সময়ে গৃহবন্দী থাকা অবস্থায় দেশের বাইরে যাওয়ার কথা প্রবলভাবে শুরু করি। যখন থেকে বুঝতে শুরু করি, তখন থেকেই স্বপ্ন লালন করতে থাকি অর্জন করব বিদেশি ডিগ্রি। যেটা পরে বিভিন্ন কারণে হয়ে ওঠেনি। তারই চেষ্টা শুরু করি তখন জোরেশোরে; নিজে নিজে।
অন্তর্জাল ঘাটতাম ব্যাপক, ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে কখন যে সময় বয়ে যেত, বুঝতেই পারতাম না। অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হতো। সময়ে সময়ে হতাশা পেয়ে বসলেও হাল ছাড়িনি। ঘাঁটাঘাঁটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সম্ভাব্য তালিকা করেছিলাম আবেদনের জন্য।
আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় ভেবে, অবশেষে ইস্টার্ন ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ায় ১ নম্বর আর QS Ranking–এ চার শর মধ্যে থাকা Vilnius University নির্বাচিত করে ২য় স্নাতকোত্তরের জন্য আবেদন করি। এরপর তাদের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ছাত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। বলা রাখা ভালো, সেই সময় পড়াশোনার দীর্ঘ বিরতি ছিল আমার।
ছাত্র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরে, ভিসা নেওয়ার জন্য ভারতের এন্ট্রি ভিসা নিয়ে দিল্লি চলে আসি। ১৮ দিনের মধ্যেই ভিসা হাতে পেয়ে যাই। তবে দিল্লিতে অবস্থান করেছি প্রায় এক মাস। চমৎকার এ নগরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছি। সে আরেক গল্প। তোলা থাকল অন্য দিনের জন্য।
তবে আজ লিথুয়ানিয়ায় চলে আসার ২ বছর অধিক সময় পার হয়ে গেলেও দেশ ছেড়ে আসার কালটা মনের ফ্রেমে আটকে আছে দিব্যি। মনে হয়, এ মাত্রই তো বিমানে উঠলাম আর কিছু সময় পরে নেমে পড়লাম। প্রবল স্রোতে সবকিছু যেভাবে ভেসে যায়, সময়ের চোরাস্রোতে আমার দিনগুলোও সেভাবেই ভেসে যাচ্ছে।
গত দুই বছরে কত কিছুই না করেছি, ঘুরে ফেলেছি ইউরোপের বেশ কটা দেশ (সুইজারল্যান্ড, ইতালি, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, নরওয়ে), পেয়েছি ভিনদেশি বন্ধু। বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছুঁয়েছি; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার ওপর বিদেশি ডিগ্রি। বর্তমানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজও করছি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেড়িয়ে আসি এদিক–সেদিক। এত কিছুর পরেও আমার মন শুধুই আকুলিবিকুলি করে দেশে আসার জন্য, আর চায় মায়ের হাতের রান্না খেতে।
*মুহা. আরিফুল ইসলাম (কিশোর মাহবুব), লিথুয়ানিয়া