সুইডেন ও স্পেনের জীবনব্যবস্থা: অভিজ্ঞতার আলোকে একটি মানবিক রাষ্ট্রচিন্তা

এআই/প্রথম আলো

চার দশকের বেশি সময় ধরে আমি সুইডেনে বসবাস করছি। এখানেই আমার জীবন, কাজ, নাগরিকত্ব ও সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সূত্রে স্পেন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহধর্মিণীর বাবার বাড়ি স্পেনে হওয়ায় বহু বছর ধরে সেখানে যাতায়াত, বসবাস ও সমাজকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, এই সবকিছু আমি দেখেছি বাস্তব জীবনে।

এই অভিজ্ঞতার আলোকে যদি বাংলাদেশের জন্য কিছু বলা যায়, তাহলে প্রথম সত্যটি খুব স্পষ্ট, উন্নত রাষ্ট্র মানে কেবল ধনী রাষ্ট্র নয়, বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র।

সুইডেনের মানুষ জানে, সে কর দেয়, কিন্তু তার বিনিময়ে রাষ্ট্র তার পাশে থাকে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় না। চাকরি হারালেও জীবন ভেঙে পড়ে না। সন্তান জন্ম নিলে মা ও বাবা দুজনেই সময় পায়, সম্মান পায়। এখানে রাষ্ট্র শাসক নয়, সেবাদানকারী।

স্পেনের সমাজের কাঠামো ভিন্ন, কিন্তু মানবিকতায় কম নয়। পরিবারকেন্দ্রিক জীবন, সামাজিক বন্ধন ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষ এখানে কাজ করে বাঁচার জন্য, বাঁচে শুধু কাজ করার জন্য নয়। অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন এসেছে, কিন্তু গণতান্ত্রিক কাঠামো ভাঙেনি। মানুষ জানে, ভোটের মূল্য আছে, প্রশ্ন করার অধিকার আছে।

এই দুই দেশের সবচেয়ে বড় মিল হলো আইন সবার জন্য সমান। আপনি মন্ত্রী হন বা সাধারণ নাগরিক, নিয়ম ভাঙলে তার পরিণতি আছে। ক্ষমতা এখানে ব্যক্তির নয়, প্রতিষ্ঠানের। আর প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে নিয়মে, ভয় দেখিয়ে নয়।

প্রকৃতি ও জীবনবোধের ক্ষেত্রেও পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। সুইডেনে শহর মানেই কংক্রিট নয়। শহরের মাঝখানে বন, লেক, খোলা মাঠ ও হাঁটার পথ স্বাভাবিক। মানুষ প্রকৃতিকে জয় করতে চায় না, বরং তার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। দীর্ঘ শীত ও অল্প আলো মানুষকে ধৈর্য শেখায়, বসন্ত আবার জীবনের নতুন ছন্দ মনে করিয়ে দেয়।

সুইডেন বরফের স্বর্গ, যেখানে চার ঋতু প্রতিটি মানুষের জীবনকে ছন্দবদ্ধ করে। শীতে বরফে ঢাকা শহর, হ্রদ ও বন মানুষকে ধৈর্য ও অন্তর্দৃষ্টি শেখায়। নর্দার্ন লাইট আকাশে নাচে, রাতের অন্ধকারকে রঙিন করে তোলে। হালকা আলো দিনের শুরুতে মনকে সতেজ করে, আবার বসন্তের বিস্ফোরণে প্রকৃতি মানুষের জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। শহরের মাঝখানে থাকা খোলা মাঠ, হাঁটার পথ, লেক ও বন কেবল নৈসর্গিক সৌন্দর্য নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি এবং স্বতন্ত্রতার প্রতীক। মানুষ এখানে প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে না, বরং তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাঁচতে শেখে।

স্পেন উষ্ণ, রঙিন ও প্রাণবন্ত। সূর্য যখন সমুদ্রের জলকে সোনালি আভায় আলোকিত করে, তখন সমুদ্র তীরে মানুষ হাঁটে, কথা বলে, হাসে, একসঙ্গে খায়। পাহাড়, জলপাই বাগান ও গ্রাম শহরের মেলবন্ধন জীবনকে উন্মুক্ত করে। উৎসব, সংগীত, ইতিহাস, শিল্প ও রঙিন উচ্ছ্বাস মানুষের প্রতিদিনের অংশ। এখানে মানুষ প্রকৃতিকে উপভোগ করে, নিজের খোলা আবেগ ও সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে জীবনকে আরও গভীরভাবে অনুভব করে। স্পেনের এই উষ্ণতা শুধু আবহাওয়া নয়, বরং মানুষের জীবনধারার প্রতিফলন।

এই দুটি দেশের প্রকৃতিই দেখিয়েছে, কেবল উন্নত রাষ্ট্র নয়, বরং মানুষের জীবনবোধ, প্রকৃতি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সহমিলনই মানবিক সমাজের প্রাণ। বরফের নীরবতা হোক বা সূর্যের উচ্ছ্বাস, প্রতিটি অভিজ্ঞতা মানুষকে শক্তিশালী, সহনশীল এবং জীবনের প্রতি বিশ্বাসী করে তোলে।

স্পেন উষ্ণ, রঙিন ও প্রাণবন্ত। সূর্যালোক, সমুদ্র, পাহাড়, জলপাই বাগান ও গ্রাম শহরের মেলবন্ধন মানুষের সামাজিক জীবনকে উন্মুক্ত করেছে। মানুষ বাইরে থাকে, কথা বলে, হাসে, একসঙ্গে খায়। সামাজিকতা এখানে আয়োজন নয়, স্বাভাবিক জীবনধারা।

সংস্কৃতির দিক থেকে সুইডেন শান্ত, সংযত ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। মানুষ কম কথা বলে, কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য। সময়ানুবর্তিতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও নীরব সম্মান সামাজিক মূলধন। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় স্বাধীনতা ও দায়িত্ব একসঙ্গে বহন করতে হয়।

স্পেনে পরিবার এখনো সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়। দাদা দাদি নাতি নাতনির জীবনের অংশ। একসঙ্গে খাওয়া, উৎসব উদ্‌যাপন ও ঐতিহ্য ধরে রাখা দৈনন্দিন জীবনের অংশ। শিক্ষা শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, জীবনের ভেতরেই গড়ে ওঠে।

সুইডেন ও স্পেনের সমাজে প্রেম, বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কোনো লুকানো বা অপরাধবোধের বিষয় নয়, বরং স্বাভাবিক মানবিক অভিজ্ঞতা। সুইডেনে মানুষ খুব অল্প বয়স থেকেই শেখে, ভালোবাসা মানে মালিকানা নয় বরং পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি ও ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি। এখানে প্রেমে থাকা মানে নিজের জীবন হারানো নয়, বরং নিজের মতো থেকেও আরেকজনের সঙ্গে পথ চলা। বন্ধুত্ব দীর্ঘমেয়াদি, নির্ভরযোগ্য ও নাটকহীন। মানুষ কথা কম বলে, কিন্তু পাশে থাকে।

স্পেনে আবেগ বেশি প্রকাশ্য। প্রেম, বন্ধুত্ব, হাসি, স্পর্শ ও একসঙ্গে সময় কাটানো সামাজিক জীবনের অংশ। এখানে ভালোবাসা লুকোতে হয় না, বন্ধুত্বকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় না। এই দুই সমাজেই ফ্রিডম একটি মৌলিক মূল্যবোধ। আপনি কাকে ভালোবাসবেন, কীভাবে বাঁচবেন, কী বিশ্বাস করবেন, সেটি ব্যক্তির বিষয়। রাষ্ট্র, পরিবার বা সমাজ সেখানে দমবন্ধ করা পাহারাদার নয়। এই স্বাধীনতাই মানুষকে আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানসিকভাবে সুস্থ করে তোলে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও স্বাধীনতা দমন করে কখনো সৃজনশীল মানুষ বা সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে না। মানুষ যখন ভয় ছাড়া ভালোবাসতে পারে, তখনই সে দেশকেও ভয় ছাড়া ভালোবাসতে শেখে।

সুইডেন ও স্পেনের সমাজে ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে সম্মানিত, কিন্তু তা কখনোই ঘৃণা, বিভাজন বা সহিংসতার অস্ত্র হতে দেওয়া হয় না। এখানে ধর্ম মানুষের বিবেককে শুদ্ধ করার কথা বলে, অন্য মানুষকে ছোট করার অনুমতি দেয় না। রাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানে, নৈতিক দায়িত্ব ধর্মের নামে নয়, মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোতেই পূর্ণ হয়। তাই ধর্মীয় পরিচয় কারও নাগরিক অধিকার নির্ধারণ করে না, ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এই সমাজগুলোতে শিশুদের শেখানো হয়, বিশ্বাস মানে ভয় সৃষ্টি করা নয়, বরং দায়িত্ব নেওয়া। স্রষ্টার নামে মানুষকে আঘাত করা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই নৈতিকতা। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ধর্ম যখন বিষে পরিণত হয়, তখন তা সমাজকে ভাঙে, মানুষের মনকে সংকুচিত করে। কিন্তু ধর্ম যখন মানবতার পাশে দাঁড়ায়, তখন তা মানুষকে আরও দায়িত্বশীল, সহনশীল ও ন্যায়পরায়ণ করে তোলে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ যদি গড়তে হয়, তাহলে ধর্মকে ভালোবাসার শক্তি হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হবে, ঘৃণার হাতিয়ার হিসেবে নয়।

সুইডেন ও স্পেনের সমাজে পারিবারিক বন্ধন ভিন্ন রূপে প্রকাশ পেলেও এর গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। সুইডেনে পরিবার মানে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিরাপদ আশ্রয়। মা–বাবা সন্তানকে নিজের সম্পত্তি মনে করে না, একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এখানে পরিবারের দায়িত্ব হলো সন্তানের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাকে নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার সাহস দেওয়া। এই স্বাধীনতার ভেতর দিয়েই পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও সম্মানভিত্তিক হয়।

স্পেনে পরিবার আরও ঘনিষ্ঠ ও আবেগময়। একসঙ্গে থাকা, খাওয়া, উৎসব করা ও সংকটে পাশে দাঁড়ানো জীবনের স্বাভাবিক অংশ। প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব কম, সম্পর্ক উষ্ণ। কিন্তু এখানেও পরিবার ভালোবাসার নামে দমবন্ধ করা কারাগার নয়। এই দুই সমাজই দেখিয়েছে, শক্ত পরিবার মানে ভয় দেখানো বা বাধ্য করানো নয়, বরং বিশ্বাস, সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মান। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য এই শিক্ষা গভীরভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরিবার যদি নিরাপত্তা না দেয়, মানুষ বাইরে নিরাপত্তা খুঁজে ফেরে। আর পরিবার যদি ভালোবাসার জায়গা হয়, নিয়ন্ত্রণের নয়, তখনই একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি তৈরি হয়।

শিক্ষাব্যবস্থায় দুই দেশেই একটি বিষয় স্পষ্ট। শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। সুইডেনে শিশুর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ নেই। প্রশ্ন করতে শেখানো হয়, ভয় নয়। স্পেনে মানবিকতা ও সামাজিক দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষক সম্মানিত, শিক্ষা রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সুইডেন বিশ্বে পথপ্রদর্শক। পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। প্রকৃতি রক্ষা এখানে আন্দোলন নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। স্পেনও সৌরশক্তি, টেকসই পর্যটন এবং গ্রাম সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃতি ও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার পথে এগোচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিক থেকে সুইডেন ও স্পেন উভয় দেশেই সাংবিধানিক রাজতন্ত্র রয়েছে। এখানে রাজা শাসক নন, বরং রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রতীক। সুইডেনে রাজপরিবার রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। স্পেনে দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের পর গণতন্ত্রে ফেরার পথে রাজতন্ত্র ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট, রাষ্ট্রীয় প্রতীক তখনই মর্যাদা পায়, যখন তা ক্ষমতার নয়, জনগণের পাশে থাকার প্রতীক হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উভয় দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। এর অর্থ শুধু মুক্ত বাণিজ্য নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের একটি সমন্বিত মানদণ্ড। নাগরিক জানে, তার অধিকার বহুপক্ষীয় কাঠামোয় সুরক্ষিত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্পেন বহু দিন ধরে ন্যাটোর সদস্য, সুইডেনও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হয়েছে। এখানে সামরিক জোট মানে যুদ্ধ নয়, বরং প্রতিরোধ ও স্থিতিশীলতা।

খাদ্য, কৃষি ও শিল্প এই সমাজগুলোর নীরব ভিত্তি। সুইডেনে কৃষি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হলেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। খাদ্যনিরাপত্তা জনস্বাস্থ্যের অংশ। স্পেনে কৃষি শুধু উৎপাদন নয়, সংস্কৃতির অংশ। জলপাই তেল, ফল, সবজি এবং গ্রাম শহরের সম্পর্ক খাদ্যব্যবস্থাকে টেকসই করেছে। শিল্প খাতে সুইডেন উদ্ভাবন ও সবুজ প্রযুক্তিতে এগিয়ে, স্পেন পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে শক্তিশালী। উভয় দেশেই শ্রমিকের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত।

এই কাঠামোর ফল হলো দীর্ঘ জীবন ও নিরাপদ বার্ধক্য। এখানে বার্ধক্য ভয় নয়। অবসরের পর পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তায় মানুষ সম্মানজনক জীবনযাপন করে। কাজের সময় কাজ, অবসরের সময় জীবন।

বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি এখানেই। সুইডেন বা স্পেন কোনো স্বর্গ নয়। সমস্যাহীন সমাজ কোথাও নেই। পার্থক্য হলো, সমস্যার মুখে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পালিয়ে যায় না, দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সহনশীল। প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ জানবে তার অধিকার কোথায়, দায়িত্ব কোথায়। যেখানে তরুণেরা দেশ ছাড়ার স্বপ্ন নয়, দেশে থেকেই ভবিষ্যৎ গড়ার সাহস পাবে।

এই অভিজ্ঞতা থেকে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশও পারে। যদি মানুষকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। যদি উন্নয়ন মানে শুধু ভবন নয়, বরং মানবিক জীবন হিসেবে ধরা হয়।

আশা সেখানেই, যেখানে রাষ্ট্র ও নাগরিক মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে।

*লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সুইডেন

[email protected]

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]