স্পেনে ৫ লাখ অভিবাসী বৈধতা পাচ্ছেন: ২০ হাজার বাংলাদেশিদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ
স্পেন সরকার ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপের আওতায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা অনেকেই নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী এই সুবর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
স্পেন সরকার সম্প্রতি ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ স্পেনের অভিবাসী ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা এবং স্পেনসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। ২০০১ ও ২০০৫ সালে স্পেনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও, ২০২৬ সালের আগে এ রকম সহজ শর্তে অভিবাসীদের নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত আগে কখনো নেওয়া হয়নি।
স্পেনের এই উদ্যোগে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা, যাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সুযোগ থেকে উপকৃত হতে পারবেন। তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫–এর আগে যাঁরা স্পেনে প্রবেশ করেছেন, শুধু তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।
স্পেনের নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া যদিও সহজ শর্তে, তবে এর জন্য আবেদনকারী প্রবাসীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ইস্যু দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্য সরকারি দপ্তরের কাজের গতি খুব ধীর হওয়ায় প্রবাসীরা এই প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। পাসপোর্ট নবায়ন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী যথাসময়ে আবেদন করতে পারছেন না, যা তাঁদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি ফজলে এলাহী বলেন, স্পেনের এই নিয়মিতকরণ পদক্ষেপ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য একটি বিরল সুযোগ, তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এটি অনেকেই হারাতে পারেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাঁরা এই সুযোগ হারাবেন। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উচিত, পাসপোর্ট নবায়ন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, যাতে প্রবাসীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাঁদের সঠিক ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে স্পেন সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্পেনের নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া যদিও সহজ শর্তে, তবে এর জন্য আবেদনকারী প্রবাসীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ইস্যু দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্য সরকারি দপ্তরের কাজের গতি খুব ধীর হওয়ায় প্রবাসীরা এই প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, আবেদনপ্রক্রিয়া এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হবে এবং শেষ তারিখ হবে ৩০ জুন ২০২৬। আবেদনকারীদের জন্য কোনো কাজের কন্ট্রাক্ট লাগবে না, শুধু পাসপোর্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রমাণপত্র যথাযথভাবে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি আল মামুন বলেন, কারও প্রলোভনে পড়ে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্ত বুলেটিন আসেনি, তখনই আপনারা সঠিক তথ্য পাবেন।
ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি ফজলে এলাহী বলেন, স্পেনের এই নিয়মিতকরণ পদক্ষেপ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য একটি বিরল সুযোগ, তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এটি অনেকেই হারাতে পারেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।
মাদ্রিদে বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার বলেন, যদি এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়, তবে স্পেনের অভিবাসী নিয়মিতকরণের এই উদ্যোগ বাংলাদেশিদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে অভিহিত করেছি, সবাই আন্তরিকভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের সর্বাত্মক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ তবে দূতাবাস এবং কমিউনিটির সমন্বয় করা উচিত বলে মনে করেন অভিজ্ঞ কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]