মাত্র দু-দিন পরই শেষ হবে মুসলমানদের সর্বোচ্চ মহিমান্বিত ত্যাগের মাস রমাজান। সমগ্র বিশ্বের মুসলিমরা এ মাসকে ঘিরে ইফতার ও সেহরিতে নানান রকমের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এবারের রোজায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় মুসল্লীদের মধ্যে কোনো আমেজ নেই। চতুর্দিকে শুধু মিশাইল, রকেট, ড্রোন, যুদ্ধ বিমান এসব আধুনিক সমরাস্ত্রের ধ্বংস্বাত্বক আতংক, যার প্রভাব এখন পুরো বিশ্বজুড়ে।
এরই মধ্যে এবারের রোজায় ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে আমারও। প্রতি বছর ইফতার ও ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পরই কিছু খাবার খেয়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া, এভাবেই চলছিল আমার প্রবাস জীবনের রোজা ও ঈদ আনন্দের বাস্তবতার গল্পগুলো। কিন্তু এবারই প্রথম নতুনত্বের মধ্যে ১৫ রোজা পর্তুগালে এবং পরের ১৫ রোজাসহ ঈদ কাটাবো ফ্রান্সের পারী নগরীতে।
৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পর্তুগালের বন্দরনগরী পর্তু বিমানবন্দর থেকে প্যারিস কিংবা পারী নগরীতে আসি। এখানকার মুসলিম ধর্মীয় অনুশাসন ( যেমন পোশাক-আশাক, মসজিদ-মাদ্রাসা) পর্তুগাল থেকে অনেক উন্নত। পর্তুগালে বোরকা, হিজাব, তোফ, পাঞ্জাবী, টুপি পরিহিত সমাগম লিসবন ব্যতিত অন্যান্য শহরে খুব কমই দেখা মিলে। অন্যদিকে পারী নগরীতে মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক পরা এটা খুবই একটা কমন বিষয় যা আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে।
খাবারের কথা বলতে গেলে পারী নগরী মুসলমানদের জন্য ঐতিহ্যগত একটা নগরী। এখানে সবখানেই হালাল মাছ, মাংসের পাশাপাশি রেঁস্তোরা গুলোতে জিলাপি, মিষ্টি, পরটা, সিঙ্গারাসহ সব ধরনের কমিউনিটির খাবার (যেমন আরবী, এশিয়ান, আফ্রিকান) খুব সহজেই পাওয়া যায়।
পারী নগরীর খাবারের দোকানগুলো আমার কাছে সিলেটের জিন্দাবাজার কিংবা পুরান ঢাকার খাবারের দোকানের মতোই মনে হয়েছে। পরিবার নিয়ে এটাই আমার পারী নগরীতে প্রথম ঈদ। অন্যরকম আনন্দ ও ভালো লাগার ছোঁয়া নিয়ে এবারের ঈদ কাটাব নতুন শহরে। সবশেষে প্রথম আলো দূর প্রবাসের সকল লেখক, পাঠক, কলাকৌশলী, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ যাদের শ্রম ও মেধায় প্রথম আলো দূর পরবাসে আলো ছড়ায় তাদের সবাই কে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অগ্রিম ঈদ মোবারক।