দশ দিন তিন দেশ: দ্বিতীয় পর্ব
বার্লিন থেকে ড্রেসডেনের পথে বাসে যাত্রা, ভ্রমণের এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সড়কপথ কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়, বরং জার্মানির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাছ থেকে দেখার এক অনন্য সুযোগ।
সকাল নয়টায় রওনা দিলাম। দোতলা সুপরিসর বাস, ওয়াই–ফাই আর টয়লেট সুবিধা আছে, দূরপাল্লার যাত্রায় যা খুবই প্রাসঙ্গিক। সুপ্রশস্ত সড়ক, তেমন কোনো ট্রাফিক নেই। উইকএন্ড বলে সড়কে ভিড়ভাট্টাও কম।
বার্লিন শহর ছেড়ে বাস যখন ধীরে ধীরে বাইরের দিকে এগোতে থাকে, তখনই চোখে পড়ে শহরের আধুনিক স্থাপত্যের বদলে বিশাল খোলা প্রান্তর। রাস্তার দুই পাশে একের পর এক বিস্তৃত সবুজ মাঠ—যেখানে কখনো গম, কখনো ভুট্টা, আবার কখনো শর্ষের মতো হলুদ ফুলে ছেয়ে থাকা খেত চোখে পড়ে। মাঝেমধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট গ্রাম, লাল টালির ছাদের ঘর আর দূরে গির্জার সুউচ্চ চূড়া—সব মিলিয়ে এক শান্ত, ছিমছাম ইউরোপীয় গ্রামীণ চিত্র ফুটে ওঠে। রাস্তা এতটাই মসৃণ ও সুশৃঙ্খল যে দীর্ঘ পথ চলার ক্লান্তি খুব একটা অনুভূত হয় না।
জার্মানির এই অঞ্চলজুড়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান খুবই সুসংগঠিত। বড় বড় বনাঞ্চল, সারিবদ্ধ গাছের লাইনে ঘেরা রাস্তা, আর মাঝেমধ্যে বয়ে যাওয়া ছোট নদী বা খাল—সবকিছুই যেন পরিকল্পিতভাবে সাজানো।
ইউরোপের গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য এখানেও স্পষ্ট—খোলা মাঠ, কৃষিনির্ভর ভূমি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিস্তব্ধতার মধ্যে একধরনের স্থির সৌন্দর্য। কোথাও অযথা বিশৃঙ্খলা নেই, নেই শব্দদূষণ—শুধু প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা জীবনযাত্রা।
এই পথযাত্রার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল উইন্ডমিল বা বায়ুশক্তি টারবাইনগুলো। সবুজ মাঠের মধ্যে সাদা রঙের এই বিশাল কাঠামো ধীরে ধীরে ঘুরছে—এ যেন আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রকৃতির এক মেলবন্ধন। জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় এ ধরনের উইন্ড টারবাইন এখন গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এগুলো শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যম নয়, বরং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি প্রতীকও বটে।
ড্রেসডেনের দিকে এগোতে এগোতে যখন বাস এলবে নদীর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন দৃশ্যপট আরও মনোরম হয়ে ওঠে। শহরের ঐতিহাসিক আভাস যেন দূর থেকেই চোখে পড়ে।
জার্মানি আসব শুনে ভাগনি জুঁই আগেই দাওয়াত দিয়ে রেখেছিল ওদের বাসায়। ওরা থাকে ড্রেসডেনে। ভাগনি জামাই ফয়সাল ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। অত্যন্ত মেধাবী এই ছেলে এ দেশে এসে রেকর্ড সময়ের মধ্যে পড়াশোনা, ভাষা, চাকরি এবং অন্যান্য যাবতীয় শর্ত পূরণ করে জার্মান নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। একটি বহুজাতিক সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে প্রকৌশলী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কর্মরত আছে।
আড়াই ঘণ্টার যাত্রা শেষে পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। জুঁই বলল, ফয়সাল আর ওর মেয়েকে পাঠিয়েছে আমাদের রিসিভ করতে।
বাস থেকে নামতেই দেখি, বাবা আর মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রথম দেখা ফয়সাল আর ওর তিন বছরের মেয়ে সাফিয়ার সঙ্গে। ওদের গাড়িতে অল্প সময়েই পৌঁছে গেলাম বাসায়। জুঁই অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। এর আগে ওকে দেখেছিলাম ওর স্কুল বয়সে। গল্প–কথা জমে উঠল। এই শহরে এসেছে বছর দুই হলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানেও একটা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বেশির ভাগই পড়তে এসে পরে থিতু হয়েছেন। সামাজিক, ধর্মীয়, খাবারদাবার ইত্যাদি কিছু চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে; কিন্তু সেটা এমন কোনো থ্রেটেনিং নয়, সবকিছুরই বিকল্প আছে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
যাহোক, কথার ফাঁকে ফাঁকে খাওয়া-দাওয়া চলছে। মাশা আল্লাহ, অনেক আয়োজন। আমাদের গল্প আর ফুরোয় না। সাফিয়ার একটা ব্ল্যাকবোর্ড আছে, সেটাতে দুজনে মিলে খুব ছবি আঁকাআঁকি চলল। এরপর সবাই মিলে বের হলাম শহর ঘুরতে। গাড়ি পার্ক করে পদব্রজে শুরু হলো আমাদের শহর পরিক্রমা।
সফরের শুরুতেই একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ৬ জুন, শনিবার শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র অলমার্কেটে অনুষ্ঠিত হয় ড্রেসডেন এলজিবিটি প্লাস প্যারেড। এই আয়োজন মূলত বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে পালিত হয়। শত শত মানুষ রঙিন পোশাক, ব্যানার ও সংগীতের মাধ্যমে অংশ নেয় এই শোভাযাত্রায়। উপলক্ষ যাহোক, পুরো শহর যেন মেতেছে উৎসবের আনন্দে। কনসার্ট চলছে, প্যারেড হচ্ছে। যদিও অংশগ্রহণকারীদের অনেকেরই সাজপোশাক, অঙ্গভঙ্গি আমাদের অনভ্যস্ত চোখে কিছুটা বিব্রতকর। আমাদের যে প্রেক্ষাপট, তাতে এটি নেহায়েতই কালচারাল শক। বিশেষত সঙ্গে যখন স্ত্রী, মেয়ে, ভাগনে–ভাগনে জামাই। যাহোক, এটা ওদের দেশ, ওদের মর্জি। আমরা এসেছি, ঘুরতে আর কত কিছু আছে দেখার, বরং সেগুলোতেই মন দিই।
জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন শিল্পী—কেউ গান গাইছে, কেউ বাজাচ্ছে যন্ত্রসংগীত। সামনে একটা বাক্স রাখা, কেউ কেউ ছুড়ে দিচ্ছে সিকি–আধুলি। লোকে লোকারণ্য, এরই মধ্যে শুরু হলো আমাদের ইতিহাসের পথ ধরে চলা।
জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যের রাজধানী ড্রেসডেন, যে শহরটিকে অনেকে ভালোবেসে বলেন ‘এলবে নদীর ফ্লোরেন্স’—এটি শুধু একটি শহর নয়, বরং ইতিহাস, ধ্বংস আর পুনর্জন্মের এক জীবন্ত গল্প-শিল্প, স্থাপত্য ও ইতিহাসের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে আজকের ড্রেসডেন যেন অতীতের গৌরবকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে। শহরের প্রতিটি স্থাপনা, প্রতিটি রাস্তা যেন অতীতের গৌরব আর বর্তমানের পুনর্গঠনের গল্প বলে।
ড্রেসডেনের অল্টস্টাড বা পুরোনো শহরের কেন্দ্রেই যেন শহরের আত্মা বাস করে। এখানে দাঁড়ালেই বোঝা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে শহরটি নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছে।
পুরোনো বারোক স্থাপত্যগুলো একে একে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে অত্যন্ত যত্নে, যেন ইতিহাসের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা। পাথরের গায়ে এখনো সেই সময়ের স্মৃতি লেগে আছে। হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, যেন কোনো খোলা জাদুঘরের মধ্যে দিয়ে চলছি।
পুনর্গঠনের পর এই এলাকা আজ এক জীবন্ত জাদুঘরের মতো, যেখানে বারোক স্থাপত্যের সৌন্দর্য চোখে পড়ে। শহরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবেও অল্টস্টাড দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অল্টস্টাড থেকে এলবে নদীর দিকে এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যায় ব্রুথাল ট্যারাসে, যাকে বলা হয় ‘ইউরোপের বারান্দা’।
আঠারো শতকে এটি ছিল শাসকগোষ্ঠীর প্রাসাদের অংশ, যা পরে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এখান থেকে নদী ও শহরের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। ঐতিহাসিকভাবে এটি সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবেও ব্যবহৃত হলেও আজ এটি পর্যটকদের জন্য শান্তিপূর্ণ হাঁটার ও ছবি তোলার অন্যতম জনপ্রিয় স্থান।
নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দূরের সেতু, নৌকা আর শহরের দৃশ্য—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব শান্তি অনুভূত হয়। একসময় এটি ছিল রাজকীয় প্রাসাদের অংশ, পরে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
সেই ঐতিহাসিক জায়গায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা—এ যেন ভ্রমণের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
ড্রেসডেন ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ জিউইঙ্গার প্যালেস। আঠারো শতকে স্যাক্সনির শাসক অগাস্টাস দ্য স্ট্রংয়ের আমলে নির্মিত এই প্রাসাদ বারোক স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল আঙিনা, ফোয়ারা আর সূক্ষ্ম কারুকাজ। শুরুতে রাজকীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর কমপ্লেক্স, যেখানে বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ও সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়। এর বাগান ও ফোয়ারাগুলো দর্শকদের মুগ্ধ করে। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, যেন সময়ের স্রোত পেরিয়ে চলে গেছি রাজকীয় এক অতীতে।
প্যালেসের ভেতরে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্ট গ্যালারি আছে। এখানে রাফায়েল, রেমব্রান্ট, ভার্মিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে রাফায়েলের বিখ্যাত ‘সিস্টিন ম্যাডোনা’ এই গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। শিল্পের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে, তাদের জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। আঠারো শতকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহশালা শিল্পপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।
ড্রেসডেন আমার কাছে শুধু আরেকটি ইউরোপীয় শহর নয়; এটি সময়ের ভেতর দিয়ে হাঁটার এক বিরল অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এই শহর আজ আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। পুরোনো ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন করে গড়ে ওঠার যে শক্তি মানুষ দেখিয়েছে, ড্রেসডেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে প্রতিটি স্থাপনা যেন নীরবে বলে—ধ্বংস কখনো শেষ কথা নয়; মানুষের ইচ্ছাশক্তি, মমতা ও অধ্যবসায় থাকলে পুনর্জন্ম সম্ভব। যুদ্ধের ধ্বংসের পর পুনর্জীবিত এই শহর শুধু জার্মানির নয়, ইউরোপের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
সারা দিনের ঘোরাঘুরির পর সবাই একটু ক্লান্ত ছিলাম। তবু সেই ক্লান্তির ভেতর লুকিয়ে ছিল এক গভীর প্রশান্তি—দূর প্রবাসে আপনজনের স্নেহ, আন্তরিকতা আর একসঙ্গে কাটানো কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের প্রশান্তি। এদিকে ফিরে যাওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। জুঁই আর ফয়সাল অনেক করে বলল, আজ রাতটা থেকে যেতে। ফয়সালের ইচ্ছা ছিল আমাদের এলবে নদীর অপর পাড়ে নিয়ে যাবে, আরও কিছু অচেনা-অজানা ড্রেসডেন দেখাবে। কিন্তু সময় বড়ই নির্মম; তাকে তো আর আটকে রাখা যায় না। তাই বললাম, ওই পাড়টা নাহয় পরেরবারের জন্যই তোলা থাক। সব দেখা যদি একবারেই হয়ে যায়, তবে আবার আসার অজুহাত কোথায়?
ফিরতি পথ ধরলাম। পথে একটি চিজের দোকানে ঢুকে নানা স্বাদের চিজ চেখে দেখা হলো। ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলোই যেন ভ্রমণের স্মৃতিগুলোকে আরও রঙিন করে তোলে। সাফিয়া তার নানুর জন্য ড্রেসডেনের একটি স্যুভেনির উপহার কিনল। শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে ভরা তার মুখটি দেখে মনে হচ্ছিল, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বড় কিছু লাগে না, দরকার শুধু একটি আন্তরিক হৃদয়।
এরপর একটি ছোট্ট কফি ব্রেক। সারা দিনের হাঁটাহাঁটির ক্লান্তি আর গল্পের রেশ নিয়ে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দিলাম। মনে হলো, এই মুহূর্তগুলো যেন একটু থেমে থাকুক। সময় যেন আর একটু ধীর হয়ে যাক।
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামতে শুরু করল। আকাশের রং বদলাচ্ছে, আর আমাদেরও বিদায়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। সবাই এসে পৌঁছালাম বাসস্টেশনে।
বিদায়ের সেই ক্ষণটুকু অদ্ভুত এক অনুভূতিতে ভরা। মাত্র অর্ধদিনের মিলনমেলা, অথচ মনে হচ্ছিল কত দিনের চেনা, কত আপন মানুষকে ফেলে চলে যাচ্ছি। দূর দেশের মাটিতে এমন আন্তরিকতা, এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে আলাদা এক জায়গা করে নেয়।
জুঁই, ফয়সাল আর ছোট্ট সাফিয়া—তোমরা ভালো থেকো। তোমাদের উষ্ণ আতিথেয়তা, আন্তরিকতা আর ভালোবাসা আমাদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে। এমনই মানবিক থেকো, এমনই আপন থেকো। মহান আল্লাহ তোমাদের সুস্থতা, শান্তি ও নেক হায়াত দান করুন।
ভ্রমণ শেষে আমরা সাধারণত শহরের নাম, দর্শনীয় স্থানের ছবি কিংবা ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে ফিরি। কিন্তু ড্রেসডেন থেকে আমি ফিরেছি আরও মূল্যবান কিছু নিয়ে—মানুষের ভালোবাসা, আত্মীয়তার উষ্ণতা ও কয়েক ঘণ্টার কিছু অমূল্য স্মৃতি। এলবে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পুনর্জন্মের শহর আমাকে শিখিয়েছে, ইতিহাস শুধু ইট-পাথরের গল্প নয়; ইতিহাস মানুষেরও গল্প। ভালোবাসার গল্প, অপেক্ষার গল্প, আবার ফিরে আসার গল্প।
এলবের অপর পাড়টা এবার দেখা হলো না। তাই সেখানে রয়ে গেল কিছু অপূর্ণতা, কিছু না-দেখা পথ, কিছু অসমাপ্ত গল্প। হয়তো সেই অপূর্ণতাই একদিন আবার আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ড্রেসডেনে।
তত দিন পর্যন্ত স্মৃতির অ্যালবামে যত্ন করে রেখে দেব এলবে নদীর তীরের সেই বিকেল, ছোট্ট সাফিয়ার হাসি, আপনজনের আন্তরিক আতিথেয়তা আর ইতিহাসের শহর ড্রেসডেনে কাটানো কয়েকটি উষ্ণ ঘণ্টার গল্প।