সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০: বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ বিষয়ে সেমিনারের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা। গত বুধবার বিকেলে জেদ্দার একটি অভিজাত হোটেলে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কনসাল জেনারেল মিয়া মো. মাইনুল কবির।
কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবার সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। এ সময় দূতাবাস, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, সৌদি-বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টরস ফোরাম জেদ্দা, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ফোরামের নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সংগঠনে নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসফেরত কর্মীদের জন্য বিশেষ পেনশন স্কিম চালু করা, প্রবাসফেরত কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিমার পরিকল্পনা করা, রেমিট্যান্সের প্রবাহ ত্বরান্বিত করতে প্রবাসী আবাসন পল্লি গড়ে তোলা, স্বদেশে বাড়ি নির্মাণে শুল্কমুক্ত নির্মাণসামগ্রী ক্রয়ের ব্যবস্থা করা, প্রবাসে চাকরিচ্যুত ও আহত কর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাজেটে বরাদ্দ রাখা, প্রবাসীদের জন্য আলাদা ইপিজেড গড়ে তোলা, রেমিট্যান্সের সঠিক বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ ও খাত নির্ধারণ, দেশে বিকল্প কর্মসংস্থান ইত্যাদির জন্য বিশেষ প্রকল্প প্রণয়ন বরাদ্দ রাখা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি–ইচ্ছুক প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য কোটা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা, প্রবাসীদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর আয়কর মওফুক করা, দেশের বাইরে কর্মীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা স্থাপন করা, প্রবাসে মিশনগুলোয় কোনো প্রবাসী কর্মী যাতে পাসপোর্ট নবায়নে হয়রানির শিকার না হন, প্রবাসে মৃত প্রবাসীদের লাশ প্রেরণে সরকারি বাজেটে বরাদ্দ রাখা, সম্ভাব্য অভিবাসী শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য বিনা মূল্যে ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের লক্ষ্যে বিশেষ বরাদ্দ রাখা, কর্মসংস্থান ও স্কিল টেস্টভিত্তিক বৈদেশিক নিয়োগ নিশ্চিত করা, যেখান থেকে নিয়োগকর্তা বা এজেন্সি দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের নির্বাচন করবে, প্রবাসীদের স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি থানায় প্রবাসী হেল্প ডেস্ক প্রতিষ্ঠা করা।
দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত ও অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে এবং সর্বোপরি রেমিট্যান্সের সুফল ভোগ করতে প্রবাসীদের এ দাবিগুলো বাজেটে বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। প্রবাসীদের এ দাবিগুলো দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে যথাযথ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন, যেন অভিবাসীরা নিশ্চিন্তে দেশের উন্নয়নে রেমিট্যান্সের বিনিয়োগ ও নাগরিক হিসেবে নিজেকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।
রাষ্ট্রদূত নেতাদের কথা শুনে তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমার যে একটা ধারণা ছিল, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের বিষয়ে, আমার ধারণাটা পরিবর্তন হয়েছে। আসার আগে আমার ধারণা ছিল যে এই দেশে শুধু আমাদের অদক্ষ শ্রমিক আসেন এবং এটাই মূলত আমাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের জায়গা। কিন্তু আমি আসার পরে দেখলাম, এখানে বেশ কিছু উচ্চশিক্ষিত প্রবাসী আছেন, যাঁরা সৌদি আরবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের এখানে অনেক ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার আছেন এবং আপনারা যে বললেন, সর্বোপরি পাঁচ হাজার ব্যবসায়ী যে অলরেডি রেজিস্টার আছেন, এই জিনিস আমার জানা ছিল না।
আমি সৌদি আরবে আসার পরে এটা জানলাম। আমাদের এখানে একটা টার্গেট যে আমরা এখন স্কিল লোক এখানে আনতে চাই। এটা হলো আমাদের ম্যানপাওয়ারের ক্ষেত্রে নম্বর ১ প্রায়োরিটি। যার কারণে আমরা আপনাদের সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় কথা বলেছি। কথা বলে আমরা যেটা জানলাম, স্কিল প্রফেশনাল এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা।’
পরে সৌদি-বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ইনভেস্টরস ফোরামের পক্ষে রাষ্ট্রদূত, কনসাল জেনারেল ও কমার্শিয়াল কাউন্সেলরের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।