ভালোবাসা কারে কয়—

ভালোবাসা কী—ছোট্ট প্রশ্নটি করেছিলাম বিলেতের কয়েকজন শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনীতিককে। তাঁদের অভিব্যক্তিতে উঠে এসেছে ভালোবাসা নিয়ে বহুমাত্রিক ভাবনা। ছবিতে যেভাবে সমকাল চিত্রিত হয়, ঠিক সেভাবে ছোট ছোট ভাবনায় গ্রন্থিত হয় জীবন ও সম্পর্ক এবং সে সম্পর্কে সমাজচিন্তকদের অভিমত। সেসব ভাবনা নিয়ে এবারের ভালোবাসা দিবসে এ বিশেষ আয়োজন—‘ভালবাসা কারে কয়’।

শুরুতেই শোনা যাক বিচিত্রার সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সাবেক প্রযোজক কাজী জাওয়াদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘পুরুষ হিসেবে যখন কোনো একজন নারীর প্রতি বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করেছি, যে আকর্ষণ জাগরণে-শয়নে-স্বপনে তাঁকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে জিইয়ে রেখেছে, যার উপস্থিতি বা নৈকট্য হৃদয়ে শান্তির বারি সিঞ্চন করেছে/করে, সেই অনুভূতিটাই ভালোবাসা। হ্যাঁ, ভালোবাসার মধ্যে খ্যাপামি আছে। খ্যাপা-ই তো পরশ পাথর খুঁজে বেড়ায়। ওই খুঁজে বেড়ানোটাই ভালোবাসা।’

ভালোবাসা দিবসে সদ্য বিবাহিত দম্পতি। হ্যাংঝো, চীন
ছবি: রয়টার্স

নজরুল সংগীতশিল্পী লুসি রহমানের কাছে ভালোবাসা হলো শ্রদ্ধাবোধ। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ভাবনায় ভালোবাসা একধরনের শ্রদ্ধা বোধ থেকে সৃষ্টি, যাতে রয়েছে পবিত্রতা, তাতেই হয়েছে অনন্য!! দিন দিন শ্রদ্ধাবোধ মানুষের কাছ থেকে যেন হারিয়ে যাচ্ছে।’
কবি আতাউর রহমান মিলাদ বলেন, ‘মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে অন্যকে ভালোবাসা।’ তিনি বলেন, ‘মনের একটি অনুভূতি হচ্ছে ভালোবাসা। কখনো প্রকাশ পায়, কখনো পায় না, হৃদয়ে থাকে। ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডি নেই। তা হতে পারে মানুষে মানুষে, মানুষ প্রকৃতিতে, দেশের জন্য, মায়ের জন্য, বন্ধুর জন্য, প্রিয় কোনো কিছুর জন্য। ভালোবাসা হচ্ছে কাউকে বা কিছুকে কাছে পাওয়ার নির্মোহ আকুতি, বিশ্বাস ও বিশ্বস্ততা প্রবল। একে অপরের বোঝাপড়ার খোলা মাঠ, যেখানে নির্দ্বিধায় হাঁটা যায়। ভালোবাসা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে অন্যকে ভালোবাসা। ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবী অচল, ভালোবাসা আছে বলেই বেঁচে থাকার আনন্দ অনেক।’

আসুন, ভালোবাসা মুক্ত করি যুক্ত হওয়ার বাসনায়।

লেখক ফারুক আহমেদের দৃষ্টিতে ভালোবাসা একধরনের অনুভূতির নাম। তিনি বলেন, ভালোবাসা অনেকটা আধুনিক কবিতার মতো, সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এমনকি খোদ কবিও ব্যাখ্যা করতে গেলে কবিতা যেমন তার সৌন্দর্য হারায়, তেমনি ভালোবাসা একান্ত অনুভবের বিষয়। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এই অনুভূতি একেক রকম। আমার নাতনির বয়স মাত্র চার মাস। এত দিন শুধু ঘুমাতে। এখন শুধু ডাগর চোখে চায়-ই না, কথা বলতে প্রাণপন চেষ্টা করে। আমার কাছে সে এখন তার নানি, তার মায়ের চেয়েও ভালোবাসায় প্রথম স্থানে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার না দেখলে বুকের মধ্যে কী করে তা অনুভব করা যায় কিন্তু লেখা যায় না।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব জাকী রেজওয়ানা আনোয়ার বলেন, ভালোবাসা হচ্ছে মনোজগতের একটি অবস্থা, সে জগৎটা যত বেশি ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ করে রাখা যায়—হোক সে ঐশ্বরিক সম্পর্ক থেকে, হোক সে প্রকৃতি থেকে, তত বেশি মানুষকে ভালোবাসা যায়, তত বেশি ভালোবাসা দেওয়া যায়।

সাধারণ নরনারীর ভালোবাসার ক্ষেত্রে দুটি জীবনকে যদি দুটি বৃত্ত ধরা যায়, তাহলে আমার মনে হয়, একটি আদর্শ সম্পর্ক গড়তে ‘ভেন ডায়াগ্রাম’-এর প্রয়োজন। দুটি জীবন বা দুটি বৃত্তকে যদি সম্পূর্ণভাবে একটির উপর আরেকটি প্রতিস্থাপিত করা হয়, তাহলে আর ‘ভেন ডায়াগ্রাম’ থাকে না। তেমনি দুটি বৃত্তের বা জীবনের বড় একটা অংশের ওভারলেপিং হতে পারে, কিন্তু কিছুটা অংশ তাঁদের নিজস্ব থাকতে পারে বা থাকা উচিত, তাঁদের নিজস্ব একটা ভুবন থাকা চাই। তা না হলে অক্সিজেনের অভাবে হাঁসফাঁস অবস্থায় তাদের ভালোবাসা অপুষ্টিতে ভুগতে বাধ্য। আমার মতে সুখী দাম্পত্য জীবন মানেই একটি ‘ভেন ডায়াগ্রাম’।

শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষাগুরু পণ্ডিত চিরঞ্জীব চক্রবর্তীর ভাষায়—‘ভালোবাসা কী?’ এটা জানার জন্যই তো বেঁচে আছি। যেদিন জানতে পারব, সেদিন তো ‘রেস্ট ইন পিস’ হয়ে যাব। তবে সত্যি বলতে কী, কম চেষ্টা তো করিনি, জানার, বোঝার আর পাওয়ার, আরে হ্যাঁ মনে আছে, দেওয়ারও, এবার হলো?
তবে বড় কষ্ট হয় জানো, তাই আর জানতে চাই না, এই মায়া, এই বন্ধন, এই চোখের জল, আর এই বিশাল বালিয়াড়ির মতো প্রত্যাশা নিয়ে একেকটা দিন কাটানো, কাল ফোন করো, সব বলব।

আবৃত্তিকার পপি শাহনাজের কাছে ভালোবাসা হলো পরশ পাথরের মতো। তিনি বলেন, ভালোবাসা শব্দটি একটি পরশ পাথর, যার তাপে যেমন চারপাশ পুড়ে হতে পারে, ছাই আবার তেমনি হতে পারে নব সৃষ্টির উৎস। আসলে এ এক অন্য রকম মায়া সময়ের সব বাঁকে এ যে মিশে থাকে হয়ে এক মোহময় কায়া।

সংগীতশিল্পী রিপা রকিব ভালোবাসাকে আখ্যায়িত করেছেন তিনটি শব্দে। তিনি বলেন, আমার কাছে ভালোবাসা হলো তিনটি শ্বাস এর সমন্বয়। বিশ্বাস, আশ্বাস আর দীর্ঘশ্বাস।
কবি আবু মকসুদ ভালোবাসাকে তুলে ধরেছেন স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, বহুব্রীহি নাটকে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন ‘ভালোবাসা হচ্ছে শরমের ব্যাপার’! আমার কাছে ব্যাপারটা শরম ছাপিয়ে আরও কঠিনে পৌঁছে গিয়েছিল। আমাদের পাড়ার এক বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আকমল হুজুর এসেছেন। অভিভাবকেরা ঠিক করেছেন, তাঁর কাছে আমরা আরবি পড়ব। হুজুর তাঁর বৈঠকখানায় আমাদের পড়ান। আমি যেখানে বসি, তার উল্টা দিকে হুজুরের শোবার ঘর। হুজুর দরজার দিকে পিঠ দিয়ে বসেন। আরবি খুব আদবের সঙ্গে পড়তে হয়। ভুল পাঠে কবিরা গুনাহ। প্রতিদিন মনোযোগের সঙ্গেই পড়ি, ভুল যাতে না হতে পারে। কিন্তু শয়তান তার ওয়াস ওয়াসা নিয়ে সর্বত্র হাজির থাকে। পবিত্র কোরআনের মাহফিলও বাদ পড়ে না। একদিন গভীর মনোযোগের সঙ্গে তালিম নিচ্ছি, হঠাৎ কীভাবে যেন শয়তানের ধোঁকায় হুজুরের শোবার ঘরে চোখ চলে গেল। দরজায় এক কিশোরীর মুখ দেখে চমকে উঠলাম। আরবি পাঠ গোল্লায় গেল। কিশোরী আমার মনের মধ্যে গেঁথে গেল। বয়স সবে টিনএজে পৌঁছাচ্ছে। এই বয়স যে ভীষণ খতরনাক, হাড়ে হাড়ে টের পেলাম। সেদিন হুজুরের শোবার ঘরে কয়েকবার কিশোরীর মুখ দর্শন হলো।

পরের দিন আমার নির্ধারিত জায়গায় অন্যজনকে বসা দেখলাম, হুজুর তখনো এসে পৌঁছাননি। তাকে জায়গা থেকে উঠে অন্য কোথাও বসতে বললাম, সে রাজি না। অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়েও যখন রাজি করানো যাচ্ছে না, তখন ঝগড়া করার উপক্রম। জায়গা নিয়ে হুজুরের সামনে ঝগড়া করা যাবে না বিধায় তাকে ঘুষ অফার করা হলো। টিফিনের জন্য বরাদ্দ টাকা আগামী এক মাস তাকে দিয়ে দেব, এই শর্তে সে স্থান ছাড়তে রাজি হলো। যে গভীর মনোযোগ নিয়ে তালিম শুরু করেছিলাম, সে মনোযোগ আর রক্ষা করা গেল না। কারণ, মন এবং চোখ বারবার শোবার ঘরের দরজায় উঁকি মারে। কয়েকবার সেই কিশোরীর সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল। অপর তরফেও যে আগ্রহ আছে, বেশ বুঝতে পারলাম। হুজুর আমার অমনোযোগ লক্ষ্য করলেন। আরবি পাঠে মন না দিয়ে তার শোবার ঘরের দরজায় বারবার তাকাচ্ছি বুঝতে পারলেন। কিশোরীটি হয়তো হুজুরের মেয়ে। হুজুরের মেয়ে হলেও তাকে পর্দা করতে দেখা গেল না। হয়তো ঘরে পর্দা করার নিয়ম নেই। কিন্তু চোখাচোখির পর কীভাবে এগোনো যাবে, ভেবে কুল পেলাম না। পরের দিন আরবি পড়তে গিয়ে পুরোপুরি দমে গেলাম। বৈঠকখানা এবং শোবার ঘরের দরজায় নতুন পর্দা লাগানো হয়েছে। বোঝা গেল, আমার আর কিশোরীর মধ্যে যেন চোখাচোখি না হতে পারে, তাই এ ব্যবস্থা। কিন্তু এত সাবধানতার পরও আমি পর্দায় চোখ রাখি, আর পর্দা সরিয়ে কিশোরী আমার চোখে।
চোখাচোখির দ্বিতীয় পর্বে চিঠি চালাচালি করতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলাম। আর জানা গেল কিশোরী আসলে হুজুরের তৃতীয় পক্ষ। প্রেমের শাস্তি হিসেবে বড় ভাই আমাকে ১০০ বার কান ধরে ওঠবস করালেন। আমার কাছে ভালোবাসা মানে কান ধরে ১০০ বার ওঠবস করা।

টেলিভিশন উপস্থাপক হেনা বেগম ভালোবাসা নিয়ে তাঁর অভিব্যক্তি তুলে ধরেন এভাবে—তুমি যেদিন বলেছিলে ‘ভালোবাসি’, মনে হয়েছিল আর কিছু চাওয়ার নেই, তুমি যেদিন বলেছিলে পাশে আছি, মনে হয়েছিল আর কিছু পাওয়ার নেই, তুমি যখন বলেছিলে তুমি শুধু আমার, মনে হয়েছিল এই পৃথিবী আমার, তুমি যখন প্রথম ছুঁইয়েছিলে মন, আমার পৃথিবী যেন কেমন হয়ে গিয়েছিল, পায়ের তলা থেকে মাটি যেন সরে যাচ্ছিল...
আকাশ যেন নীল থেকে গাঢ় নীল হয়ে যাচ্ছিল, গাছের পাতা সবুজ থেকে যেন আরও সবুজ হয়ে যাচ্ছিল...
যেন রংধনুর সাতটি রঙে আমার হৃদয় বর্ণময় হয়েছিল...
মনের দীঘিতে ফুটেছিল হাজারো নীলকমল, আর আমি
নিজেকে হারিয়েছিলাম সেই শত সহস্র নীলকমলের নীলে...
তুমি যখন বলেছিলে, কোনোদিনই আমায় ভুলে যাবে না...
মনে হয়েছিল, আমি তোমার বিশ্বাসে আছি,
তুমি যেদিন বলেছিলে, আমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না,
মনে হয়েছিল, আমার ভালোবাসা চিরন্তন, জন্মজন্মান্তরে শুধু
‘তুমি আমার আর তোমার আমি’।

মনে হয়েছিল, আমিই তোমার প্রথম প্রেম, তোমার শেষ ভালোবাসাও শুধু আমিই...সময় যায়, সময় বদলায়, বদলায় অনুভবেরা,
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝি সম্পর্কেরও দম বন্ধ হয়ে আসে...নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়...মমতায়, ভালোবাসায় অতি যত্নে তিলে তিলে গড়ে তোলা সুগন্ধি ছড়ানো মনের বাগানটাকে তখন মনে হতে থাকে তপ্ত মরুভূমি, তাই হয়তো ধীরে ধীরে কথারা নিশ্চুপ হতে থাকে, তীব্র গতিতে বাড়তে থাকে মনের দূরত্ব,
প্রতিটি মুহূর্ত স্মৃতি হয়ে স্তূপে স্তূপে জমা হতে থাকে পাহাড়সমান.. পথ চলতে চলতে বুঝি একসময় হাঁপিয়ে ওঠে, ক্লান্ত সে বুঝিয়ে দেয় তার পক্ষে পথচলা সম্ভব নয়, হঠাৎ করেই মাঝপথে হাতটা গুটিয়ে নেয়, পেতে চায় মুক্তির সাধ, সে বুঝতে পারে এখানে কোনো সুখ নেই, কোনো শান্তি নেই, শুধু আছে বুক ভরা কষ্ট আর যন্ত্রণা...
তাকে হাতছানি দেয় সুখে ভরা অন্য এক পৃথিবী...

আপনি সে চলতে শুরু করে নতুন পথে, ছুটে চলে নতুন এক জগতের সন্ধানে...
শুরু হয় আবার নতুন করে পথচলা...
তুমি যখন-ই বলেছিলে এবার যেতে
হবে আমায়,
একটু অবাক হলেও হতভম্ব হয়ে যাইনি,
হয়তো-বা আমি তোমার প্রথম প্রেম নই, নই শেষ প্রেমও...
মন বলেছিল, তুমি তো এক মস্ত প্রেমিক, প্রেমিক মন প্রেম তো খুঁজবেই,
নতুন মানুষ, নতুন প্রেম, খুঁজবে প্রেমে নতুনত্ব, এটাই তো স্বাভাবিক,
তাই খুব বেশি অবাক হওয়ার কী আছে বলো..?
তাই মন বলেছিল, যে চলে যেতে চায়, তাকে চলে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার স্পর্ধা দেখাতে নেই...
মন বলেছিল, যাবার যে জন, সে তো যাবেই,
যে যেতে চায় তাকে ধরে রাখতে নেই, ধরে রাখা যায় না, তাকে যেতে দিতে হয়...
মুগ্ধতাবিহীন, ইচ্ছাবিহীন মিথ্যা বন্ধনে আটকে রেখে কী লাভ বলো...?
টেলিভিশন উপস্থাপক শামিমা মিতার কাছে ভালোবাসা হলো বিশ্বাস এবং বেঁচে থাকার নিশ্বাস।

রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মী কাউন্সিলর জাসমিন চৌধুরী বলেন, ভালোবাসা আমার কাছে একটি ধারণামাত্র। এমন এক ধারণা, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা রূপ, নানা খোঁজ, নানা অভিযান হতে হতে যায়। সেই অভিযানে প্রতিটি মানুষ যাত্রী নিজে। মাঝিও নিজে। এমনকি ডুবে থাকে নিজেই। সুনীলের মতো আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসার জন্ম হয়, মৃত্যু হয় না। ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই। কোনো বয়স নেই। কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় সে। স্নেহ, মমতা, অনুরাগ, অনুভূতি—কিছু অভিমানেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার সার্থকতা। খুব বড় কিছু নয় ভালোবাসার একটা ছোট বাগান থাকলেই জীবন কেটে যায়। জালালুদ্দিন রুমির কবিতায় আছে—ছোট হয়ে থাকা ছোট করে না জীবন, পূর্ণ করে। দূর থেকে হলেও অকৃত্রিম ভালোবাসার মধ্যে আছে প্রশান্তি। আর অধিকার বা কপট অর্জনের মধ্যে আছে সামাজিকতার যুদ্ধ, মন ভেঙে যাওয়ার বেদনা।

কবি ফারাহ নাজের কাছে প্রিয় মানুষের মানসিক চাহিদা সময়মতো পূরণ করার অপর নাম ভালোবাসা। তিনি বলেন, নিজের ব্যস্ত সময় থেকে প্রিয় মানুষগুলোকে তাদের প্রাপ্য সময় টুকু দেওয়া, সঙ্গীর প্রয়োজনে একটু সময় করে পাশে থাকা, তার একান্ত ভরসার প্রতীক হওয়া, সময়ে তাকে গুরুত্ব দেওয়া—মুখে ভালোবাসি না বলেও, ভালোবাসার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। আপনার প্রতিদিনের ব্যস্ত সময় থেকে একটু সময় সঙ্গীকে অর্পণ করা ঠিক জেনো ঝরা বকুলের সুবাস। ফুল ঝরে যায়, সুবাস রয়ে যায়। সময়ের স্রোতে ঝরে গেলেও, যৌবন ফুরিয়ে গেলেও, মায়াবী মিষ্টি সুবাস রেখে যায় সম্পর্কের মাঝে বহু বছর।
আবৃত্তিকার মানস চৌধুরী বলেন, প্রেমে পড়তে মুহূর্ত লাগে, ভালোবাসতে অপেক্ষা…!