দেখতে দেখতে ১০-১২টা দশাসই সাইজের পাখি জমে গেল রাস্তায়। অদ্ভুত চিল–বৃষ্টি দেখে আমরা ততক্ষণে হতভম্ব। আলফ্রেড হিচককের বার্ড সিনেমার কথা মনে হলো। পাখির দল একদিন হঠাৎ ক্যালিফোর্নিয়ার রোদ–ঝকমকে এক শহর আক্রমণ করে তুলকালাম বাধিয়ে দেয়। কিন্তু এই নিরীহ–নির্ভেজাল ফুলার রোডে আবার কি হরর মুভি শুরু হলো। আব্বা চিল গোনায় ব্যস্ত। আর খুঁটিয়ে কী যেন দেখছেন। আমি লুকিয়ে ঘড়ি দেখছি বারবার। কুইক না গেলে কুইজ আজ ছুটে যাবে নির্ঘাত।

গাড়ির গ্যারেজ খুলে আব্বা একটা একটা করে চিল জড়ো করছেন সেখানে। পাড়ার দারোয়ান এসে হাত লাগিয়েছেন। আর খুব ক্যাজুয়ালি বলছেন, ‘কেয়ামত আইস্যা গেল নাকি, স্যার? আবাবিল পাখি পাঠায়ে দেওনের কথা পড়ছিলাম কোনহানে জানি...’। যদিও তাঁর ভেতর কেয়ামতজনিত আতঙ্ক তেমন একটা দেখা গেল না। আব্বা দু-একবার হ্যাঁ-হুঁ করে তাকে দিয়ে এক বাটি পানি আনালেন পাখির জন্য। অবশ্য কাজ হলো না। চিলগুলো চোখ উল্টে আধমরা হয়ে পড়ে থাকল। দৃশ্যটা ভয়াবহ। মায়া করে একটা চিলের  মাথায় আলতো করে হাত বোলাতে গেলাম। তড়াক করে ঘাড় ঘুরিয়ে খ্যাক্ করে ঠুকরে দিল। কোক করে পিছিয়ে এলাম ঘাবড়ে।

প্রায় ২৫টি চিল সারি করে শুইয়ে রেখে তাদের পেট টিপেটুপে পরীক্ষা চলল বেশ খানিক্ষণ। তারপর আব্বা কাকে যেন ফোন লাগালেন। নীলক্ষেত থেকে শহীদুল্লাহ হল কি কার্জন হল এলাকার ভেতরে কোথাও মরা গরু-ছাগল পড়ে আছে নাকি—এই হলো তাঁর জিজ্ঞাসা। মিনিট দশেকের ভেতরে জানা গেল আনন্দবাজারের ওদিকে বাছুর সাইজের গরু মরে আছে। বেশিক্ষণ হয়নি, তবে সেটি নিয়ে বিড়াল-কুকুরের টানাটানি নেই। বাছুরটি বিষাক্ত কিছু খেয়ে পটল তুলেছে। কুকুর-বিড়ালে সেটি টের পেয়ে আর ঘাটাতে আসেনি। কিন্তু বোকা চিলগুলোর অতটা বুদ্ধিতে কুলায়নি। তারা খুব একপ্রস্থ মেজবান খেয়ে দড়াম আছড়ে পড়েছে ‘অবু, আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটা পাখি’ হয়ে।

তবে কাজের কাজ হলো বটে। আব্বার কথায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কিছু ছাত্র আর এলাকার লোকজন মিলে মরা বাছুর অতিসত্ত্বর সরিয়ে ফেলল নিরাপদে। নইলে আরও পশুপাখির আজকে ‘লাস্ট সাপার’ হয়ে যেত এ মাংস দিয়ে। দারোয়ান ভাই আর ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ না গিয়ে খুব বিজ্ঞের মতো বলে উঠলেন, ‘কইছিলাম না স্যার, এরা রে তো মনে কয় বিষ খাওয়াইছে...’।

কার্যকারণ যখন জানাই গেল, তখন দারোয়ান ভাইকে চিলগুলোর পাহারায় বসিয়ে রিকশা খুঁজতে পা চালালাম আমরা। পাখিগুলো নাকি বিশ্রাম পেলে আবার জ্যান্ত হয়ে উঠবে পুরোদমে। আব্বার কথায় ষোলো আনা ভরসা রেখে রওনা দিলাম সেন্ট যোসেফের পথে।

সেদিন বিকেলে ফিরে এসে দেখি, একটা চিলও চিত–কাত হয়ে নেই গ্যারেজের মেঝেতে। সব পাখি উড়ে গেছে। আনন্দে হাততালি দিতে ইচ্ছে হলো। বাপ-বেটি গ্যারেজে তালা লাগিয়ে বাসার দিকে এগোলাম। হাতে সোনালি ট্রফি আর আধা ডজন প্রাইজের বই। চিল মুড আর কাকে বলে!    

২.
পশুপাখি আমাদের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল। বিচিত্র সব গল্প আছে ঝুলিতে। একবারের ঘটনা। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। ট্রিং ট্রিং কল বেল। আমরা দরজা খুলে দেখি, বিরাট বড় পাখির খাঁচায় বিড়ালের মতো কী যেন একটা প্রাণী নিয়ে উপস্থিত কয়েকজন। পাচার হয়ে যাচ্ছিল প্রাণীটা। বিরল প্রজাতির মেছো বাঘ। প্রবাল রঙের সবুজ চোখ আর ডোরাকাটা গা। গোপনে খবর পেয়ে সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে আমাদের ফুলার রোডের বাসায়।

ঠিক হলো, আজ রাতে মেছো বাঘ মশাই আমাদের অতিথি হয়ে থাকবে। কাল তাকে পাঠানো হবে শ্রীমঙ্গলে, শিতেষ বাবুর চিড়িয়াখানায়। শিতেষ বাবু এককালে নামকরা শিকারি ছিলেন। জিম করবেট লেভেলের লোক। ভালুকের ভয়াল থাবার চিহ্ন তার মুখের একপাশে স্পষ্ট। তবে এখন আর শিকারের নেশা নেই; বরং পশুপাখির প্রাণ বাঁচানোয় মন দিয়েছেন। নিজের ছোট একটা সংগ্রহ আছে। পোচিংয়ের হাত থেকে বেঁচে ফেরা বিপন্ন প্রাণীর অভয়াশ্রম। আব্বা বন্য প্রাণী রক্ষা নিয়ে কাজ করার সুবাদে দুজনের বিরাট সখ্য।

কিন্তু আজ রাতে ঘরের ভেতর আস্ত একটা মেছো বাঘ থাকবে জেনে ভয় তো আর কাটছে না আমাদের। নড়বড়ে খাঁচা ঠেলে এই বুঝে সে ঝাঁপিয়ে বেরোল। অবস্থা রীতিমতো বেগতিক। শেষমেশ খুঁজে পেতে দেখা গেল স্টোররুমের পেঁয়াজ-রসুনের ঝাঁপিটা বেশ মজবুত। সাইজেও বড়। পেঁয়াজ-রসুন, আলু-পটোল হটিয়ে ঝাঁপি খালি করা হলো ডোরাকাটা মেহমানের জন্য। দেরি না করে আব্বা ম্যাজিশিয়ানের মতো নিমেষেই মেছো বাঘটাকে খাঁচা থেকে তুলে ঝাঁপিতে নামিয়ে হুড়কো আটকে দিলেন আলপটকা। যথেষ্ট জায়গা পেয়ে মেছো বাঘটা হাত-পা টানটান করে গা এলিয়ে দিল বিরাট এক হাই তুলে। নামের মেছো অংশ বাদ দিলে তাকে আসল বাঘের মতোই লাগছে। গুটলি পাকিয়ে শুয়ে চাপা গরগর শব্দে সেটিই সে যেন প্রকারান্তরে জানিয়ে দিল।

পরের দিন ইশকুল থেকে ফিরে দেখি, বাঘ মামা নেই। গতকালের নড়বড়ে খাঁচায় করে শ্রীমঙ্গলের পথে। আব্বা তার লেজের মাপ, কানের সাইজ, মুখে কটা দাঁত সব মেপে আর গুনে তবেই তাকে বিদায় দিয়েছেন।

আরেকবার গুলিস্তানের ফুটপাথ থেকে ধরা পড়ল গোটা চারেক কালিম পাখি। সে সময়ে শীতকালে ঢাকা শহরে অতিথি পাখি হটকেকের মতো বিক্রি হতো। বেচারা কালিমগুলো ঠিক শীতের পাখি না হয়েও আটকে পড়েছিল হয়তো শিকারির দুষ্ট ফাঁদে। আর উদ্ধার হওয়া পশুপাখির জন্য আমাদের বাসাটা গেস্টহাউস হিসেবে খুব চালু। তাই শিতেষ বাবুর চিড়িয়াখানা বা আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় জোটা না পর্যন্ত লাল-নীলে ছোপানো চার সদস্যের কালিম বাহিনী নন-পেয়িং গেস্ট হয়ে হাজির হলো বাসায়। আকারে দীর্ঘ বলে খাঁচায় আঁটল না তারা। বরং লম্বা লম্বা ঠ্যাঙ ফেলে সারা ঘর দাপিয়ে বেড়াতে থাকল। দিন দুই বিরাট উৎপাত আর বিকট চ্যাঁচামেচি করে প্রায় পাগল বানিয়ে দিয়ে তবেই বিদায় নিয়েছিল তারা।

৩.
একবার বাসায় টিভি থেকে একদল সাংবাদিক এলেন। তাদের সঙ্গে লাইট-ক্যামেরা আর মাঝারি সাইজের লাল গামলা। গামলার ভেতর অদ্ভুত এক মাছ। হুটোপুটির বদলে গামলার দেয়ালে নাক আটকে থ মেরে গম্ভীর হয়ে বসে আছে। এই মাছ নাকি ধরা পড়েছে ধানমন্ডি লেকে। মাছের নরম আঁশের বদলে সৈনিকের বর্মের মতো ভীষণ শক্ত আঁশে ঢাকা শরীর। চেহারায় জল্লাদ জল্লাদ ভাব আছে একটা। আর কোনো মাছ পেলে ঘাড় মটকে খেয়ে নেবে, এমন বিকট চাহনি।

আমরা দুই ভাইবোন পড়াশোনা ফেলে লাল গামলার চারপাশে হল্লা করছি। কারণ, আব্বাকে টিভিতে লাইভ দেখানো হচ্ছে। সাংবাদিকেরা গরম খবর চাইছিলেন বোধ হয়। ‘ধানমন্ডি লেকের পানিতে ভেসে উঠেছে রহস্যময় প্রাগৈতিহাসিক মাছ’ ইত্যাদি। সম্ভাব্য গরম খবরে জল ঠেলে আব্বা ঠান্ডা গলায় বললেন, ‘এটা একটা সাকারমাউথ ক্যাটফিশ। স্পিসিশ Hypostomus plecostomus আর ফ্যামিলি Loricariidae। কাটাবনের পশুপাখির দোকানে মেলে। লোকে অ্যাকুয়ারিয়ামে রেখে পুষতে ভালোবাসে। কেউ হয়তো পোষা মাছ লেকের পানিতে ছেড়ে দিয়েছে। নইলে সাউথ আমেরিকান মিঠাপানির মাছ ওখানে থাকার কথা নয়...’।

বেচারা সাংবাদিকদের চোয়াল ঝুলে গেল। চোখের সামনে প্রাগৈতিহাসিক অদ্ভুত প্রাণীটাকে মিঠাপানির মাছ বনে যেতে দেখে তাদের উৎসাহ ফুস করে উবে গেল। ওদিকে আব্বা সিরিয়াস মুখে সায়েন্টিফিক তথ্য আউড়ে যাচ্ছেন, ‘এর কোনো ফুড ভ্যালু নেই, এই মাছ খাওয়া যায় না। তবে সংখ্যায় বেড়ে গেলে এগুলো লেকের অন্য মাছের খাবার প্লাঙ্কটন খেয়ে সাফ করে দেবে।’ তথ্যটা শুনে সাংবাদিকের ঝিমিয়ে পড়া চেহারা আবার জ্বলে উঠল। মাইক হাতে খুব কনফিডেন্স নিয়ে বলে গেল, ‘আজকের উদ্ধার করা মাছটি কোনো রহস্যময় প্রাণী নয়, বরং একটি দুর্ধর্ষ ক্যাটফিশ প্রজাতির মাছ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী ধানমন্ডি লেকে অনুসন্ধান চালিয়ে এই প্রজাতি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি’... ইত্যাদি ইত্যাদি।

টিভির লোক বিদায় নিলেন। কিন্তু লাল গামলা আর তার বাসিন্দা ক্যাটফিশ রয়ে গেল। পরদিন মজবুত প্লাস্টিকের ব্যাগে করে মাছ চলে গেল আব্বার সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে গবেষণার কাজে।

৪.
আব্বার গবেষণার অন্যতম প্রিয় বিষয় ছিল সাপখোপ। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের রিসার্চ গার্ডেনে আব্বার একটা সাপের ঘর ছিল। সাপের ঘরে আসলেই সাপ থাকত। ঘরের মধে৵ কুয়ার মতো একটা গভীর গোল ট্যাঙ্ক। তার ওপরে লোহার জালির ঢাকনা। তার ভেতর জ্যান্ত সাপ কিলবিল করছে। স্কুল শেষে বাড়ি না ফিরে আব্বার সঙ্গে তার সাপের ঘরে গিয়ে বসা থাকা ছিল প্রায় প্রতিদিনের আফটার স্কুল অ্যাক্টিভিটি। সাপের ঘরে বসে সমুচা চিবানো আর কোক-ফান্টার বোতলে সুড়ুৎ সুড়ুৎ টান দিতাম। আর আব্বা নানান কায়দায় সাপের ছবি তুলতেন, কিংবা তাদের মাপজোখ করতেন। কাঁচাবাজারে গিয়ে লোকে যেমন সবজি টিপেটুপে দেখেন কেনার আগে, আব্বা তেমনি খালি হাতে সাপ ধরে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতেন। ব্যাপারটা এত স্বাভাবিক ছিল যে ভয় পাওয়ার কথা মনে হয়নি কখনো।

সাপের কারণে দেশের নানান প্রান্তের বেদে আর সাপুড়ের সঙ্গে তাঁর ছিল বেজায় খাতির। এরা এক-আধ সময়ে ঝুড়ি বগলে আস্ত সাপ নিয়ে হাজির হতো তাঁর কাছে। ‘স্যার, গেরামে একটা কালা গোখরার ছাও ধরা পরসে। মাইনষে পিটায় মারতো আরেকটু হইলে। স্যার, সাপটা কি ঢাকা নিয়া আসব?’ ফোনের ওপাশ থেকে হ্যাঁ-সূচক উত্তর শোনার সঙ্গে সঙ্গে সাপুড়ে মিয়া অতি দ্রুত ঝাঁপি বগলে সাপের ঘরের ঠিকানা বরাবর রওনা দিত।

গবেষণার কাজ হয়ে গেলে কিংবা ছানা সাপ বড় হয়ে গেলে আব্বা আর তাঁর ছাত্ররা মিলে সাপগুলোকে কোনো অভয়ারণে৵ বা গহিন বনে ছেড়ে দিয়ে আসত সযত্নে। সেই খবর আবার পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হতো, ‘অমুক জঙ্গলে তমুক প্রজাতির সাপ অবমুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের নেতৃত্বে’। সঙ্গে হয়তো তেরো ফুটি সাপ হাতে গামবুট পায়ে আব্বা আর তাঁর দলবলের হাস্যোজ্জ্বল ছবি।

৫.
গবেষকেরা সাধারণত গোবেচারা টাইপ হয়। আলাভোলা, অগোছালো ধরনের। সেই সংজ্ঞা মেনে আব্বাও তা-ই ছিলেন। কিন্তু তফাৎ ছিল খানিকটা। আমাদের বৈঠকখানায় তার পড়ার টেবিল লাগোয়া রাজ্যের বই বিছানো খাটের নিচে ছিল লাইসেন্স করা ইয়া বড় এক রাইফেল। সত্তরের দশকে ফ্রান্সের বর্দ্যো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সময়ে কেনা হয়েছিল ওটা। দেশে ফেরার সময়ে এক বাক্স বুলেটসহ রাইফেলটাও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন আব্বা। বিনা ব্যবহারে পড়ে থাকলেও বছর বছর ট্যাক্স দিয়ে সঙ্গে রেখেছিলেন বহুদিন তাঁর সেই প্রিয় বন্দুকটাকে। মাঝেমধে৵ রাইফেলটা বের করে ঘষামাজা করা হতো। উৎসব উৎসব লাগত সেই সন্ধ্যাগুলোয়। টিউবলাইটের সাদা আলোয় পালিশ করা রাইফেলের বাঁট ঝলকে উঠত যেন। বন্দুকের নিকষ গাঢ় নীল নল দেখে সম্মোহন জাগৎ। অবশ্য সেই বন্দুক আর নেই এখন। রমনা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে সেই কবে।

দেশের ভেতর যেমন গবেষণার কাজে মানচিত্রের পুরোটাই হাতের তালুর মতো মুখস্থ ছিল, তেমনি দেশের বাইরে ভ্রমণের সুযোগও এসেছে বহুবার। কেনিয়া আর জিম্বাবুয়ের সাফারি পার্ক ঘুরে এসে গল্প শুনিয়েছেন কী করে ছাদখোলা জিপের জানালায় জিরাফের দল এসে উঁকি দিয়ে গেছে কিংবা বাইসনের দল কেমন বিপজ্জনক পাশ কাটিয়ে ধুলা উড়িয়ে দিগন্তে মিলিয়েছে। তাঁর দেশ-বিদেশের কনফারেন্স আর জঙ্গল অভিযানের ফর্দ করলে তিন হাত লম্বা লিস্ট হবে নির্ঘাত। এ মাসে জাপান, তো ওই মাসে জার্মানি। এরপর অস্ট্রিয়ার নয়নাভিরাম ভিয়েনা তো আবার সেই ভারতের দুর্গম দেরাদুনে।

তাঁর কাজের ব্যাপ্তির একটা-দুটি বড়সড় স্বীকৃতিও মিলেছে। বন্য প্রাণী সংরক্ষণে গবেষণার জন্য ২০১৩ সালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘বঙ্গবন্ধু পদক’ দেওয়া হয়। নির্বিকার চপ্পল পায়ে আব্বা পদক নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে—এমন ছবি আছে আমাদের সংগ্রহে। স্বীকৃতি তাঁর কাছে ছিল বোনাস। সৃষ্টি সুখের উল্লাসটাই ছিল আসল পাওয়া।
আর তাই বাবার স্মৃতি মানেই সোনালি খাঁচায় ডোরাকাটা অগুনতি রোমাঞ্চকর দিন।
*লেখক: রিম সাবরিনা জাহান সরকার, মেট্রোনমিয়া ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন, মিউনিখ, জার্মানি