নিউইয়র্ক: দ্য সিটি নেভার স্লিপস

নিউইয়র্ক সিটি প্রচলিত অনেক ছদ্মনামে পরিচিত, যেমন ‘দ্য সিটি নেভার স্লিপস’, নিউইয়র্ক শহর কখনো ঘুমায় না। এর বড় কারণ সম্ভবত নিউইয়র্ক পৃথিবীর একমাত্র শহর, যেখানে পাতালরেল ব্যবস্থা, যা সাবওয়ে নামে পরিচিত, কখনোই বন্ধ থাকে না। যে কেউ ইচ্ছা করলে রাত দুইটা, তিনটা, চারটা অথবা যখন খুশি বাইরে যেতে পারেন এবং বাড়িতে ফিরতে পারেন। নিউইয়র্কের সাবওয়ে সিস্টেম এখনো আমার কাছে একটি গোলকধাঁধা। আরেকটি অন্যতম কারণ হতে পারে যেকোনো সময় আপনি রেস্তোরাঁ খোলা পাবেন। নিউইয়র্কের অলিগলিতে প্রচুর ক্যাফে, দোকান, ওষুধের দোকান, রেস্তোরাঁ রয়েছে, যা সারা রাত খোলা থাকে।

নিউইয়র্ক: দ্য ওয়াকিং সিটি

নিউইয়র্ককে বলা হয় দ্য ওয়াকিং সিটি! আমার উদ্দেশ্য ছিল হেঁটে হেঁটে যতটা সম্ভব পুরো শহর দেখা। নিউইয়র্ক শহর এমনভাবে পরিকল্পনা করে তৈরি করা যে হেঁটে হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে একটুও একঘেয়েমি বোধ হবে না। নিঃসন্দেহে নিউইয়র্ক বিশ্বের বৃহত্তম দ্রুত ট্রানজিট সিস্টেম সাবওয়ে, রাস্তায় রাস্তায় সাইকেল লেনের সুব্যবস্থা এবং পার্কের জন্য প্রচুর জায়গা, যা নিউইয়র্ক শহরে পথিকের হাঁটার পথে কখনো ক্লান্তি এনে দেয় না। তা ছাড়া নিরাপদ সড়কব্যবস্থা, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, রাস্তায় রাস্তায় ক্যাফে ও রেস্তোরাঁগুলোর জন্য সাজানো বিশেষভাবে তৈরি অস্থায়ী শেডিং, কখনো মনে হবে না যে একজন পথিক অনেকটা পথ অতিক্রম করছে।

নিউইয়র্ক: ইজ দ্য বিগ অ্যাপল!

১৯৩০ সালে কোনো এক জাস মিউজিশিয়ান তাঁর গানে লিখেছিলেন, ‘দেয়ার আর মেনি অ্যাপলস অন দ্য ট্রি বাট অনলি ওয়ান বিগ অ্যাপল—নিউইয়র্ক’। তার মানে একটি আপেলগাছে অনেক আপেল ধরে আছে, কিন্তু শুধু একটি বড় আপেল—নিউইয়র্ক। আমার দেখা নিউইয়র্ক আসলেই অনেক স্পেশাল! শুধু শুধুই কি নিউইয়র্ক শহরকে সারা বিশ্বের রাজধানী বলা হয়? একটা সময় নিউইয়র্ক শহর পৃথিবীর অন্যতম একটি বিপজ্জনক শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। শহরের এ দুর্নাম ঘোচাতে এবং বিশ্ব পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য ১৯৭১ সালে কর্তৃপক্ষ একটি বড় লাল অ্যাপল লোগো বানিয়েছিল, যা ফিফটি ফোর স্ট্রিট এবং ব্রডওয়ের কোণে অবস্থিত, যেখানে লেখা বিগ অ্যাপল কর্নার।

টাইমস স্কয়ারে লাল-নীল দুনিয়া

টাইমস স্কয়ার সাবওয়েতে নেমে ওপরে উঠে আসার রাস্তা খুঁজে পেতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। যা–ই হোক, অনেক খোঁজাখুঁজির পর যখন ওপরে উঠে আসার সুযোগ হলো, দেখি স্কয়ারের রাস্তাগুলোয় মানুষ কিলবিল করছে। বোঝা গেল, এর বড় একটা অংশ হলো পর্যটক। সারা বিশ্ব থেকে নানান রঙের, নানান প্রকৃতির মানুষ এ টাইমস স্কয়ারে উপভোগ করছে জমকালো সব রঙিন পর্দা। বিশ্বের ব্যস্ততম বিনোদনশিল্পের একটি অন্যতম প্রধান স্থান হলো ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার। এখানে নিউইয়র্কের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম মোমের জাদুঘর, যা মাদাম তুসো নিউইয়র্ক নামে পরিচিত।

নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ার এত জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এখানকার থিয়েটার। আপনি বছরের যেকোনো দিনই যেকোনো সময় যাবেন এখানে থিয়েটারগুলো খোলা পাবেন। আপনার চোখের সামনে ভেসে আসবে চোখধাঁধানো বড় বড় পর্দার এক একটি উত্তেজনাকর, রোমাঞ্চকর সব বিলবোর্ড।

একটু পরপর বিগ বাসের হকাররা পথ আটকিয়ে নিউইয়র্ক সিটি ট্যুরের লোভনীয় সব অফার করছে। তাদের সবার ধান্দা টিকিট বেচা। একজন আরেকজন হকারকে বলতে থাকে, আমার কাছেই আসল টিকিট রয়েছে, বাকিরা সব স্ক্যাম। যে কেউ তাদের কথাবার্তায় কনফিউজড হতে বাধ্য। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলব, যদি কখনো কেউ এ বিগ বাসে করে নিউইয়র্ক সিটি ট্যুর দিতে চান, তাহলে অনলাইনে টিকিট কেনাই শ্রেয়। আমেরিকার মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে হকারদের টিকিট কেনাবেচা আমার কাছে ঠিক গাবতলী আর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের মতোই মনে হলো। এ হকারদের বড় একটা অংশই হলো আফ্রিকান বংশোদ্ভূত।

নিউইয়র্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, নিউ জার্সি থেকে নেমে প্রথম যে ট্যাক্সি করে আমরা আমাদের হোটেলের দিকে রওনা দিই, সেই ট্যাক্সিক্যাবের চালক ছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। ট্যাক্সিক্যাবের চালকের সঙ্গে অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না বিধায় আমি তাদের কাছ থেকে বিগ বাসের টিকিট কিনতে একটু সন্দিহান ছিলাম। যা–ই হোক, শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের কাছ থেকেই টিকিট কিনি। অনেক রিসার্চ করে দেখলাম, নিউইয়র্ক সিটির ডাউন টাউন এক্সপ্লোর করার জন্য হপ–অন হপ–অফ বাস আমাদের জন্য হতে পারে সস্তা এবং রোমাঞ্চকর। হপ-অন, হপ-অফ বিগ বাস ট্যুরের মাধ্যমে নিউইয়র্কের সব প্রধান প্রধান দর্শনীয় স্থান দেখার সৌভাগ্য হয়।

নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি!

নিউইয়র্ক সিটি ভ্রমণের আরেকটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ যে লাইব্রেরি ভিজিট করে, তার মধ্যে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি অন্যতম। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক লাইব্রেরি এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরি ভবনটির মহিমা উপলব্ধি করার জন্য আপনাকে বইপ্রেমী হওয়ার দরকার নেই। নিউইয়র্ক ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে পাবলিক লাইব্রেরির ভিজিট করতে কখনো মিস করা উচিত নয়। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির স্টিফেন এ শোয়ার্জম্যান ভবনের বিনা মূল্যে এক ঘণ্টার ট্যুর বুক করতে পারেন। প্রতি সোম থেকে শনিবার এই ট্যুর হয়। এ ট্যুরে যোগ দিতে আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট বুক করতে হয়। কিন্তু এত তথ্য আগে জানা ছিল না বিধায় আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি।

নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্ক ও সেন্ট্রাল পার্ক জু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক পরিদর্শন করা পার্কগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্ক হলো সবচেয়ে বহুল জনপ্রিয় একটি পার্ক। নিউইয়র্ক সাবওয়ের সেভেন্টি সেভেন স্ট্রিটে নেমে হেঁটে হেঁটে আমরা নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্কে পৌঁছে যাই। ব্যস্তময় নিউইয়র্ক শহরের সঙ্গেই একটি শান্ত নিরিবিলি এবং প্রকৃতির মায়াময় সৌন্দর্যের আঁধার এ সেন্ট্রাল পার্ক। ১৯৬৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পার্ককে ‘জাতীয় ঐতিহাসিক স্থাপনা’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিছুক্ষণ সময় এ নিরিবিলি পার্কে উপভোগ করে আমরা সেন্ট্রাল পার্ক চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করি। এ চিড়িয়াখানা খুব বেশি বড় না হলেও যে কয়টি সেকশন রয়েছে, প্রতিটি সেকশন ভালো লাগার মতো। সেন্ট্রাল পার্কের এ চমৎকার চিড়িয়াখানায় তুষার চিতাবাঘ, লাল পান্ডা, সি লায়ন, জায়ান্ট পেঙ্গুইন দেখে যে কারও ভালো লাগবেই। প্রবেশমূল্য তুলনামূলকভাবে খুব কম মনে হয়েছে। তবে চিড়িয়াখানার ভেতর যে স্যুভেনিরের দোকানটি রয়েছে, তা খুব ব্যয়বহুল মনে হয়েছে।

ভেজা চোখে নাইন–ইলেভেন মেমোরিয়াল

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির গর্ব টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ বিমান হামলায় ৩ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়। বিমান হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তির জন্য তৈরি করা হয় নাইন–ইলেভেন মেমোরিয়াল। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবনের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে আলাদা আলাদা জলপ্রপাত। নাইন–ইলেভেনের সেসব ভয়াল স্মৃতি মনে করে আমার বউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সেখানেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি জাদুঘর। জাদুঘরটি বর্তমানে সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে (মঙ্গলবার বন্ধ)। আমরা যেদিন নাইন–ইলেভেন মেমোরিয়ালে যাই, সেদিন ছিল মঙ্গলবার এবং জাদুঘরটি বন্ধ থাকায় তা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

ব্রুকলিন ব্রিজ!

বিশ্বের পর্যটকদের একটি অন্যতম আকর্ষণ ব্রুকলিন ব্রিজ। এ ব্রিজ বলতে গেলে নিউইয়র্ক সিটির একটি অন্যতম প্রধান আইকন। বছরের পর বছর ধরে এ ঝুলন্ত সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে আমেরিকার একটি জাতীয় ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে। এ ব্রুকলিন ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন লাখো দর্শনার্থী হেঁটে হেঁটে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যান এবং উপভোগ করেন ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা এই সৃষ্টিশীল ব্রিজ।

নিউইয়র্কের বাঙালিপাড়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির সর্ববৃহৎ আবাসস্থল নিউইয়র্কের কুইন্সে। ইংরেজি, স্প্যানিশ ও চাইনিজ ভাষার পরে কুইন্সে বাংলা ভাষার অবস্থান চতুর্থ। এখানকার একটি ট্রেনে আমি বাংলা লেখা দেখে সত্যিই খুব অবাক হয়েছিলাম। মনে হয়েছে যেন বাংলাদেশের ট্রেনে বসে ভ্রমণ করছি। এ জামাইকাতেই গত বছর নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে ও কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির সহযোগিতায় বাংলা কর্নার উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির বাংলা কর্নার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন বাংলাদেশি নারী গ্রন্থাগারিক সেলিনা শারমিন। সেলিনা শারমিন আপার বিশেষ আমন্ত্রণে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং এর বাংলা কর্নার ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হলো। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির অধীন সব মিলিয়ে ৬৬টি শাখা গ্রন্থাগার রয়েছে। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট দুজনের সঙ্গেই দেখা, কথা এবং ছবি তোলার সৌভাগ্য হয়।

আমেরিকার কথা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টি। আমেরিকা মানেই স্ট্যাচু অব লিবার্টি! কিন্তু কোনো দিন ভাবিনি, আমার পায়ের স্পর্শ কোনো এক দিন স্ট্যাচু অব লিবার্টির চরণতলে পড়বে। আমরা প্রতিদিনের মতো সকালের কন্টিনেন্টাল বাফেট ব্রেকফাস্ট শেষে রওনা দিই ফ্লাশিং সাবওয়ের দিকে—দ্য স্ট্যাচু অব লিবার্টি দর্শনের উদ্দেশ্যে। যদিও আমার মেয়েরা নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে সিস্টেমকে অত বেশি পছন্দ করেনি, আমার দেখা দ্রুতগতির এই ট্রানজিট সিস্টেম এখনো একটি আশ্চর্য! একটি ট্রেন মিস তো মুহূর্তেই আরেকটি ট্রেন। এক ট্রেন থেকে নেমে নতুন গন্তব্যস্থলে যাওয়ার আরেকটি ট্রেন পেতে অপেক্ষা করতে হবে মাত্র কয়েক সেকেন্ড।

যা–ই হোক, আমরা হোয়াইট হল স্টেশনে নেমে গুগল ম্যাপ দেখে দেখে ব্যাটারি পার্ক পৌঁছে যাই ফেরির টিকিট কেনার জন্য। গিয়ে দেখি টিকিটের দীর্ঘ লাইন। টিকিটের এই দীর্ঘ লাইন প্রায় প্রতিদিন এবং সব সময় থাকে। থাকাটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ ভিজিট করে স্বপ্নের এই আমেরিকা! তা ছাড়া পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর মধ্যে সেরা তিনের মধ্যে হলো নিউইয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডে অবস্থিত স্ট্যাচু অব লিবার্টি!

দীর্ঘ সিকিউরিটি স্ক্রিনিং শেষ করে আমরা ফেরি লাইনে দাঁড়িয়ে যাই। ব্যাটারি পার্ক থেকে লিবার্টি আইল্যান্ডে যে ফেরি আমাদের নিয়ে যায়, তার নাম ছিল মিস নিউইয়র্ক। মিস নিউইয়র্ক অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রাপথের বর্ণনা দিতে থাকে। তার বর্ণনায় উঠে আসে দ্য স্ট্যাচু অব লিবার্টির ইতিহাস।

ধীরে ধীরে আমরা যখন মিস নিউইয়র্ক থেকে লিবার্টি দ্বীপের দিকে হাঁটতে থাকি, তখন আকাশের অবস্থা অনেকটাই ভালো হয়ে গেছে। সূর্যমামা আকাশে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। নিউইয়র্ক এসেছি ইতিমধ্যে দুই দিন হয়ে গেছে, কিন্তু প্রতিদিন বৃষ্টি এবং মেঘলা আকাশ। আজ হঠাৎ সূর্যমামার হাসি দেখে আমাদের সবার মনের একটা ফুর্তি ফুর্তি ভাব যেন সামনে নতুন কিছু অপেক্ষা করছে। একটু পরপর নানান রঙের বাহারি হেলিকপ্টার আকাশে চক্কর দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কোনো এক হলিউড মুভির শুটিংয়ের দৃশ্য।

অবশেষে ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম কাঙ্ক্ষিত সেই স্বাধীনতার পদতলে। স্ট্যাচু অব লিবার্টির চরণতলে দাঁড়িয়ে ইচ্ছেমতো ফটোসেশন শেষ করে জাদুঘরের দিকে রওনা দিই। এই জাদুঘরে সংগৃহীত রয়েছে স্ট্যাচু অব লিবার্টির আদ্যোপান্ত ইতিহাস।
এরপর লিবার্টি দ্বীপের ক্যাফেতে দুপুরের খাবার খাই। খাবার শেষে লিবার্টি আইল্যান্ড থেকে আমরা উপভোগ করি নিউইয়র্ক সিটির পর্বতসম বড় বড় অট্টালিকা। দূর থেকে চোখে পড়ে দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, দ্য এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের মতো বিখ্যাত সব স্থাপনা।

একদিকে নিউ জার্সি সিটি, মাঝখানে হাডসন নদী, তারপর ম্যানহাটনের সঙ্গে কানেকটিং ব্রুকলিন ব্রিজ এবং এরপর আটলান্টিকের তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রুকলিনের উঁচু উঁচু ভবনের অপূর্ব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করার একটি অন্যতম সেরা স্পট লিবার্টি আইল্যান্ড। আপনি পৃথিবীর যত বিখ্যাত পর্যটক হোন না কেন, দ্বীপের এই লিবার্টি দেবী আপনাকে মায়ার ইন্দ্রজালে আটকাবেই!