আমরা সংসারে কতটা ছাড় দেব
চরিত্র ভালো মানে শুধু আমরা কারও সঙ্গে শোয় না, ফ্লার্ট করে না, কেন ভাবি?
মুখ খারাপ করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, আর্থিক নির্যাতন করাকে কেন চরিত্রের পার্ট ভাবেন না? এই যে এত ক্রুয়েলটি করছে, এটাই তো তার বদ চরিত্রের পরিচয়।
সমানে গ্যাসলাইট করে যাচ্ছে, তা–ও আপনার মনে হয়, ভালোবাসে?
হতেই পারে। আমরা জঘন্যভাবে ইমোশনাল। প্র্যাকটিক্যাল নই।
কতগুলো অমানুষের পাল্লায় পড়ে ভালোবাসি, বিয়ে করে জীবন নরক করি। বের হতেও পারি না। কারণ, আমাদের পরিবারগুলোই আমাদের প্রথম নরক ছিল, আছে, থাকবে। সেখান থেকে বের হতেই এ–জাতীয় কুলাঙ্গারদের প্রেমে পড়ি।
কারণ, প্রেমে বা বিয়েতে তারা অভিনয় করে ভালো মানুষের! তাই তাদের উদ্ধারকর্তা ভাবি। কারণ, তারাই হয়তো প্রথম দুটো মিষ্টি কথা আমাদের জীবনে বলে, আমাদের ইমপ্রেস/ ইমপরটেন্ট ভাবায়! আমরা ক্লাউড নাইনে ভাসি! এগুলো সব যে অভিনয়, বা কতটা অভিনয় পটানোর জন্য একবারও ভাবি না। বিশ্বাসই করতে পারি না, এর বিপরীতে তারা কতটা জঘন্য মানসিকতার হতে পারে বা হবে!
ভাই, নিজে কাজ করেন, নিজেকে চালাতে পারেন; এই টাইপের কুলাঙ্গারদের সঙ্গে কেন যেচে থেকে যান?
এগুলো শুধু ছেলেরাই করে না, মেয়েরাও করে। করে তাদের স্পাউসের/ সন্তানদের জীবন বিষিয়ে তোলে।
যারা কাজ করে, তারা নিজেদের ভালো রাখার চেষ্টা করে না, হাজবেন্ড/ স্পাউসের হাতেই তাদের সুখী রাখার সব দায়িত্ব/ আকাঙ্ক্ষা চাপিয়ে দিয়ে কতটা যে টক্সিক হই, বা তারা হয়, তা আমরা মানতেই পারি না। আর সেখান থেকে বের হওয়ার সাহসও পাই না, বাবা–মা টক্সিক, মানবে না, যাওয়ার জায়গা নেই বলে। বাবা–মায়ের মুখে চুনকালি মেখে এই গাড়লদের বিয়ে করেছেন, বলেই আপনাদের জীবনের দাম নেই?
আর যাঁরা, নিজেদের সংসারী ভাবেন, সিন্ডারেলা সিনড্রোমে ভোগেন, তাঁরাও একটু ভেবে নেবেন। সংসার, সন্তানের জন্য সব ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকাটা ফ্যান্টাসি/ রাইট মনে হতেই পারে, সংসার করতে চাই বলে, নিজের জীবনটাকে বিষিয়ে তুলে, কোনো অলটারনেটিভ না রেখেই যে সম্পূর্ণভাবে ডিপেনডেন্ট হয়ে আরেকজনের হাতে গডলি পাওয়ার তুলে দিয়ে ঢেকুর তোলেন আপনি, আর পরে যখন স্বপ্নভঙ্গ হয়, আপনার আর যাওয়ার জায়গাই থাকে না। না পয়সার ব্যাকআপ, না কারও সাহায্য বা সহযোগিতা অথবা নিজের একটা ইনকাম সোর্স নেই বলে, অথবা শুধু লোকজন কী বলবে সে ভয়ে এমন এক নচ্ছারের সঙ্গে আটকে পড়েন আর ভাবেন জীবনটাই নরকগুলজার!
আসলেই নরক, স্বেচ্ছায় জেলখাটা কয়েদির মতো নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন না ঠিক, স্বাধীনতার চাবিকাঠি স্বেচ্ছায় এই বদ চরিত্রের মানুষ আর তাদের বদখত পরিবারের হাতে তুলে দেন, কোন এক্সিট পয়েন্ট না রেখেই। অথবা জাস্ট ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হবে বলে এ রকম পরিবেশে থেকে যান! আপনার নিজেরই জীবন নরক; সন্তানদের কী দিচ্ছেন আসলে?
সেই একই টক্সিক সাইকেল শেখাচ্ছেন তাদের। তারাও আরেকজনের টক্সিসিটিই নরমাল ভাববে, মেনে নেবে… কারণ, আপনাদের সংসারও তাদের জন্য নরকই ছিল! আপনার কাছে স্বর্গ মনে হলেও। এই টক্সিসিটির মাঝে কেউ ওয়েসিসের মতো একটু মায়া, মমতা দেখালেই তারা সব দিয়েই তাদের আঁকড়ে ধরে আবার সারা জীবনের ধোঁকায় আপনার মতোই লটকে যাবে।
হাইলি কোয়ালিফায়েড লাইনে এসে কাজ ছেড়ে সংসারী হবেন, এই জমানায় সেই আনরিয়েলিস্টিক ভাবনার অবসান আপনিই কেন ঘটান না?
না সন্তানর না আপনাদের ভরণপোষণ দেয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, সামাজিক, আর্থিক আর কটুকথার অত্যাচারে জর্জরিত করে, তারপরও কেন জানতে চান সবার কাছে, আপনারা কী করবেন?
কেন জানেন? কারণ, আপনাদের কনফিডেন্সটাই তত দিনে নষ্ট হয়ে গেছে… আপনিও যে একজন শক্তিশালী মানুষ, আপনারও যে নিজেকে নিজে চালানোর যোগ্যতা আছে, নিজের সন্তানদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়ার যোগ্যতা আছে, সেটাই আপনি ভুলে যান বা মানতে চান না। বা সেই কষ্টকর যাত্রাটা একলা পাড়ি দিতে রাজি নন, অথবা ভয় পান। কারণ, আপনি আজীবনই কারও না কারও ওপর নির্ভরশীল হওয়াটাই শিখেছেন।
আরেকজন সব করে দেবে, হয় বাবা, মা বা স্বামী/ প্রেমিক…এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে…আপনার জীবনের দায়, আপনার ভালো থাকার দায় আপনার, ভালো রাখার দায় আপনার…আপনার দায়িত্ব নিজের সন্তানদের একটা সুস্থ জীবন দেওয়ার, এই মানসিকতা গড়ে তুলুন।
আপনার স্পাউস দেবতুল্য, আপনি সব ছেড়ে ঘরকন্না করবেন, চয়েজ আপনার। তবে দেবতা থেকে যেদিন দানব হবে, সেদিন কী করে নিজের সম্মান বজায় রেখে নিজেকে চালাতে পারবেন, সেই এক্সিট পয়েন্টটার একটা ভালো আইডিয়া মাথায় আর মননে গেঁথে নেবেন। বিয়েটাই শেষ গন্তব্য নয়! বাবা–মায়ের কাছে সাপোর্ট পাব না পরে, বা তারা মানবে না…সেটা ভুলে যান। তারা কেনই–বা মানবে? জীবন আপনার, তারা একটা লেভেলে গড়ে দিয়েছে…বাকিটা আপনার দায়িত্ব।
একজন কর্মক্ষম, কর্মশীল ছেলে কখনো ভাবে বউ ছেড়ে দিলে তারা বাবা–মায়ের ঘরে গিয়ে উঠবে? কেন ভাবে না? ভেবে দেখেন। সেই কেন ভাবেন না, তার ক্ষমতাটা আপনার আছে; কিন্তু তা আপনি ভুলে গেছেন বা সেই স্টেপটা নিতে ভয় পান বা চান না। কেন চান না?
আপনি পারবেন না তা নয়, আপনার সাহস হয় না। কারণ, আপনাদের এভাবেই গ্রুম করা হয়েছে, আর সেটা আপনার মনেপ্রাণে বিশ্বাসও করেন, আর বের হতে পারেন না, বা চান না।
সাহায্য কেউ কাউকে করে না, নিজের সাহায্য নিজেকেই করতে হয়।
টক্সিক পরিবার বা লোকজনের সঙ্গে বছরের পর বছর থাকার পর, মনে হতেই পারে সুন্দর দুটো কথা বলার কোন লোক একটা সাক্ষাৎ দেবতা।
টিনএজ চলে (১৩-১৯ বছর) যাওয়ার পর এতটা বোকা/ গালেবল মানে, ‘আমরা প্রত্যাশাগুলো ঠিক করিনি এবং এখনো সীমা নির্ধারণ করতে শিখিনি, আর জানি না কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং কখন কোনো সম্পর্ক, কথোপকথন বা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।’
এটা ছেলে–মেয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য।
গোবরে পদ্ম ফুটতে পারে, সেটা রেয়ার, কিন্তু সেটা বর্জ্যই! আর সেখানে সব সময়ই পোকামাকড় জন্মে/ থাকে…সেটা চিরন্তন। সব পোকাকে পদ্মফুল ভাবার দরকার নেই।
রেয়ার ইজ নট এক্জাম্পল। আর কারও পরিবারই সম্পূর্ণ নিখুঁত নয়। যতই আবেগের ফুলঝুরি ঝাড়ি না কেন…
‘আমরা প্রজন্মগত মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছি।’ ক্ষতটা সব পরিবারে আছে, হয়তো ভিন্ন, ভিন্ন ভাবে।
নিজে বাঁচুন, নিজেকে সুস্থ, সুরক্ষিত রাখুন। নিজের সুখের লাগাম আরেকজনের হাতে তুলে দিয়ে এক্সপেক্ট করে হতাশায় ভুগবেন না যে আমি এত ভালোবাসি, আমাকে কেন আমার মতো ভালোবাসে না?
বাসবে না…
কারণ, আপনারা দুজন যতই এক হন না কেন, প্রানের প্রেমিক, একমাত্র সাথি ভাবুন না কেন… দুজনের মানসিকতা, ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক শিক্ষা, নিজস্ব অভিজ্ঞতা/ ধারণা ভিন্ন। ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা, মাধ্যম ভিন্ন।
এই একই সঙ্গে বলি, যখন পার্টনার পরকীয়া করে, আপনি তাকে যতই ভালোবাসুন না কেন, সে যতই বাধ্য হয়ে আপনার সঙ্গে থাকুক না কেন, বা কেন থাকল না, না ভেবে মনে রাখুন; আপনারও একটা চয়েজ আছে।
নিজে স্বাবলম্বী হয়ে তার কপালে দুটো চাটি মেরে বের হবেন কি না, সেটা আপনার চয়েজ… তাকে আটকে রাখার জন্য নিজের ডিগনিটি বিসর্জন দেবেন কিনা, সেটাও আপনার চয়েজ। আপনি আরেকজনের সঙ্গে নিজের পার্টনারকে ভাগাভাগি করে থাকবেন কিনা সেটা আপনার চয়েজ। আপনার বা আপনার সন্তানের আর্থিক অবস্থান বা সামাজিক অবস্থান বদলে যাবে, আপনি সেটা মেইনটেইন করতে পারবেন না বলে নিজেকে তুচ্ছ না ভেবে, যতটাই মেইনটেইন করতে পারেন, যতটুকুই করতে পারেন বা পারবেন তার ওপর ভরসা রাখুন। নিজেকে সেই ক্রেডিট দিন।
ওপেন রিলেশনে থাকবেন কি না, মানে পার্টনার যারতার সঙ্গে শুয়ে বেড়াক, রাতে আপনার ঘরে থাকুক বা না–থাকুক তা মেনে নিতে পারবেন কি না, সেটা ভাবুন। যদি পারেন…করতে চান সেটাও আপনার চয়েজ।
অন্যজন আপনার পার্টনারকে ভোলায় না…ভোলানোর হলে আপনিই প্রথম হতেন যে তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিজের করে নিতে বা ধরে রাখতে পারতেন। পারছেন না তো। তাই কেউ পরকীয়া করলে নিজের জনের সঙ্গে বোঝাপড়া করুন প্রথমেই যে আপনি বা সে কী চান? সে কি একসঙ্গে থাকতে চায় কি না?
না চাইলে আপনার নেক্সট স্টেপ কি সেটা নেন…পার্টনারের অপর পাশের লোকটির দোষ না দিয়ে।
হ্যাঁ, অনেকেরই আপনার সুখী জীবন ঈর্ষার কারণ হতে পারে, সে আপনার ঘর ভাঙার পাঁয়তারা করতে পারে। কিন্তু ভাঙছে কে? আপনার পার্টনার বা আপনি…যে বাইরের কারও সঙ্গে জড়িয়েছে।
অনেকেই চায় বাইরে যতজনের সঙ্গে যা–ই করুন… ঘরের লোক ঘরে থাকুক। সেটা আপনি বা আপনার পার্টনার মানবেন কি মানবেন না… সেটা আপনাদের চয়েজ… ছেড়ে এসে নিজের মতো ডিগনিটি নিয়ে বাঁচাও আপনার/ আপনাদের চয়েজ।
আজ যে বলছে, ‘তোমাকে না পেলে, মরে যাব’, বা ‘তোমাকে জীবনেও ছেড়ে যাব না’, বা ‘যত যা–ই হোক তুমি আমার’.. শুনতে ভালো লাগলেও… নিজের দিকেই তাকিয়ে দেখুন সে সম্পর্কে নিজেই কতটা বীতশ্রদ্ধ, শুধু টানতে হচ্ছে বলে টানছেন। অন্যে কী বলবে, বা সাহস করে নিজের যাওয়ার জায়গা করার অক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে … থেকে যাওয়ার মতো অসম্মানজনক আর কিছু নেই।
নিজের পার্টনারের জন্য আরেকজনের সঙ্গে ঝগড়া করাও অসম্মানজনক।
শরীর, মন, বা দুটোই অন্যের হয়ে গেলে কী করবেন? হ্যাঁ, একসঙ্গে অনেককে ভালোবাসা যেতেই পারে, কিন্তু সেটা আপনি বা আপনার স্পাউস মানবে কি না… সেটার আলোচনা আপনার আর আপনার স্পাউসের বদ্ধঘরের বৈঠক হওয়া উচিত। সেটা আলোচনার মাধ্যমে আপনারাই ঠিক করবেন, কে কাকে ছাড়বেন, কে কার সঙ্গে থাকবেন।
একটু তো স্ট্রং হোন।
পয়সা আর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মানসিক, আর আত্মিক মৃত্যু আপনি মানবেন কি না, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত!
সন্তানদের জন্য আছি… এটা একটা বিরাট ভুল ধারণা। ভালোবাসি বলে আছি… সেটাও ভুল। আমরা স্বার্থের কারণে থাকি। নিজেকেই যদি ভালোবাসতে না পারেন.. আরেকজনকে ভালোবেসে তার ইচ্ছার বলী, তাদের দাস/ দাসী হয়ে জীবন কাটাবেন কি না… সেটা শুধুই আপনার চয়েজ/ সিদ্ধান্ত।
গাটস রাখুন। অন্যায় থেকে বেরিয়ে আসার সাহস আপনার আছে কি নেই, সে কথা পরে…যদি না থাকে সেটা ডেভেলপ করুন। নিজে বাঁচুন, নিজের সন্তানদের জেনারেশনাল ট্রমা থেকে বাঁচান… তাদের সেলফ রিঅ্যাস্যুরেন্সের সঙ্গে বড় করুন।
কারও সেবাদাস বা দাসী হওয়াটা নরমালাইজেশন, এ প্রজন্মেই শেষ করুন।
বিয়ে হালাল। ডিভোর্সও হালাল। নবীর সময়েও কোনো কোনো নারী তাঁদের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছেন, শুধু তাঁদের পছন্দ নয় বলে।
যার শারীরিক, মানসিক, আর্থিক সামর্থ্য নেই, বিয়ে কিন্তু তাদের জন্য নয়। তাদের জন্য বিয়ে ফরজ নয়। তাই নিজের যোগ্যতা তৈরি করুন ছেলে হিসেবে বিয়ের আগে।
////////////আর মেয়েদের পড়াশোনা, চাকরি, উপার্জন বা সম্পদের অধিকার পবিত্র কোরআনের কোথাও নেই। /////////////////////
বিয়ে শুধু ছেলেপক্ষ চাইলেই তারা অফার করবে, তা–ও নয়। মেয়েদেরও নিজের পছন্দে স্বামী বেছে নেওয়ার ধর্মীয় অধিকার আছে।
কোনো মেয়ের জোর করে বিয়ে দেওয়ার বিধানও ধর্মে নেই।
আর যাঁরা চান তাঁরা চারটা কেন… //////////সঞ্জয় দত্তের মতো ৩৬৫+ নারীর//////////// সঙ্গে বা পুরুষের সঙ্গে থাকাটা মেনে নিতেই পারেন। অথবা রণবীর কাপুর/ সিং/ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া/ দীপিকা/ রানী/ বা দেশি নায়ক/ নায়িকার মতো হবেন বা তাঁদের মতো কাউকে মেনে নেবেন, সেটাও আপনার চয়েজ হওয়া উচিত। অন্য কারও কথায় নয়।
কবীর সিংকে ভালোবেসে জীবন বরবাদ করবেন না, নিজেও তাদের মতো টক্সিক হবেন… সেটা আপনার চয়েজ। আপনার সঙ্গের ব্যক্তিটিরও নিজস্ব চয়েজ আছে…সেটা মেনে নেবেন। টক্সিসিটিকে ভালোবাসা ভাবা বন্ধ করুন। ও ভালোবাসে বলেই না এমন অত্যাচার করে, কারও সঙ্গে কথা বললে ঝামেলা করে বলাটা গ্লোরিফাই করা বন্ধ করেন। টক্সিক মানুষের ব্যবহার টক্সিক সে ছেলে বা মেয়ে যা–ই হোক। নিজেদের টক্সিক পরিবারের গ্লোরিফাই করাও বন্ধ করুন। এটা বলা বন্ধ করুন, আমার মা–বাবা, ভাই–বোন যত খারাপই হোক... একটু মেনে নাও।
বিয়েটা আপনাদের দুজনের। সম্পর্কটা দুজনের। সেখানে কারও পারিবারিক টক্সিসিটি মুখ বুজে ভালোবাসার নামে মেনে নিতে বাধ্য করাটাও অন্যায়।
এগুলো সব ছেড়ে আসার অধিকার আপনার আছে। নিজের ভালো থাকার অধিকার সবার আছে।
বিয়েটা একটা সামাজিক চুক্তি। এর বিনিময়ে সামাজিক নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার স্থাপন হয়। যেখানে সেই নিরাপত্তাই নেই... সেখানে সে চুক্তি নাল অ্যান্ড ভয়েড করার অধিকার আপনার তালাক বা খোলা তালাকের মাধ্যমে ধর্মই দিয়েছে। সে চুক্তির টার্মও আপনার। আপনার ইচ্ছার প্রতিফলন হওয়া সেখানে আপনি দাবি প্রথমেই করতে পারেন। ধর্মের অপব্যাখ্যা না করে, নিজেদের অধিকার আদায় করা ছেলে–মেয়ে সবার হক। কেয়ামতের দিন আপনার বিচার/ শাস্তি শুধু আপনার কৃতকর্মের জন্যই হবে। বাবা, মা, স্বামী, সন্তান, প্রেমিক না আপনার হয়ে কথা বলবে, বা তাদের সেই অধিকার দেওয়া আছে। ইভেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত বলা হলেও, আপনার মা বেহেশতে যাবে কি না সেটাও আপনি জানেন না। আর স্বামী তো স্বামীই। স্ত্রীর সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো স্বামীও বেহেশতে যেতে পারবে না। জ্ঞানটা বাড়ান। নবীদের বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তানেরাও এর বাইরে নেই। আর নারীদের তো সে অধিকারই দেওয়া হয়নি। তবু যতটা আছে...সেটার আমরা পুরোটা আদায় করি না।
*লেখক: শারমীন বানু আনাম
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]