যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারো-স্পেস অলিম্পিয়াডে একঝাঁক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
বিশ্বকে আরও নিরাপদ ও মহাকাশ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নতুন নতুন আইডিয়াকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছরের মতো আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকস (এআইএএ) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যা সারা পৃথিবীতে ‘অ্যারো-স্পেস অলিম্পিয়াড’ নামে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত-হংকংসহ পৃথিবীর ১৫ দেশের ১৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের (অ্যারো-স্পেস ) হাজারো ছাত্রছাত্রী এতে অংশ নেন। একঝাঁক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তৈরি করা চালকবিহীন উড়োজাহাজ এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়ল। কানসাস রাজ্যের উচিটা শহরে টেক্সট্রন এভিয়েশন এমপ্লয়িজ ফ্লাইং ক্লাবে এই অ্যারো-স্পেস অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ১৯ এপ্রিল শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অংশ নেন ২০ জন। বাংলাদেশের সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (এমআইএসটি) এবং এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারো-স্পেস ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থীরা সফলভাবে তাঁদের তৈরি করা উড়োজাহাজ আকাশে উড্ডয়ন করেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা। কানসাস রাজ্যের উচিটা শহরে টেক্সট্রন এভিয়েশন এমপ্লয়িজ ফ্লাইং ক্লাবে তিল ধারণের জায়গা নেই। বিশাল ক্লাবের দেয়ালে লিখা রয়েছে ‘ডিজাইন-বিল্ড-ফ্লাই’—ডিজাইন করো, তৈরি করো, তারপর আকাশে ওড়াও। সবার চোখেমুখে যেন আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। পৃথিবীতে আগামী প্রজন্মের জন্য মহাকাশযানের নিখুঁত কারিগরদের যেন হাট বসেছে টেক্সট্রন এভিয়েশন এমপ্লয়িজ ফ্লাইং ক্লাবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগীরা ক্লাবের ভেতরে-বাইরে আকাশে ওড়ানোর শেষ প্রস্তুতি সেরে নিতে দেখা যায়। ভিড় ঠেলে চোখে পড়ল হরেক রকমের রঙিন ডিজাইন করা চালকবিহীন উড়োজাহাজের চারপাশে যে যার মতো করে ফাইনাল টাচ দিয়ে নিচ্ছে। একটু পর আকাশে ওড়ানোর ‘ডিজাইন-বিল্ড-ফ্লাই’ ২০২৬ প্রতিযোগিতা। উপচে পড়া দর্শনার্থীদের ভিড়।
বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উচিটা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা শিক্ষার্থীদের ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্লাব থেকে বের হতে দেখা যায়, বিশাল ফ্লাইং জোন ঘিরে দর্শনার্থীরা আকাশের পানে চেয়ে আছেন। একের পর এক আকাশে উড়ছে নানা দেশের উড়োজাহাজ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, মহাকাশশিল্পের বৈশ্বিক মেধা যাচাইয়ের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে তাঁরা ধন্য। তাঁরা আশা করছেন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার এ যুগে বাংলাদেশকে এভিয়েশন খাতে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া মাহফুজ, মুশফিকুর রহমান, সাকিব, শামান্তা তাজিন, আজমাইনুল হক, মাহাথির মোহাম্মদ, স্বপ্নিল, আজাদ রিফাত, মানসুর রশিদ, শাহরিয়ার এহসান, সাদ্দাফ, সানজিদা, নাফিলসহ একদল মেধাবী শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করেন। শিক্ষার্থীদের সম্মানে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ‘দেশী কারি’ থেকে খাবারের আয়োজন করেন। এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য—শিক্ষার্থীদের দলগুলো একটি চালকবিহীন, বিদ্যুৎ–চালিত ও বেতার-নিয়ন্ত্রিত উড়োজাহাজের নকশা তৈরি করবে, তা নির্মাণ করবে এবং এর উড্ডয়ন ক্ষমতা প্রদর্শন করবে, যা নির্দিষ্ট মিশনের উদ্দেশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে পূরণ করতে পারবে। লক্ষ্য হলো এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নকশা তৈরি করা, যা প্রমাণিত উৎকৃষ্ট উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ গুণাবলি ধারণ করবে, যার উৎপাদনপ্রক্রিয়া বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী হবে এবং একই সঙ্গে যানটির উচ্চ কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করবে। এআইএএ অ্যাপ্লায়েড অ্যারোডাইনামিকস ১৯৯৬ সাল থেকে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে থাকে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]