এতে একুশ শতকে জীবনানন্দের কবিতার বিবিধ নির্মাণ-বিনির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলবেন লিডস ট্রিনিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক প্রখ্যাত কবি ওজ হার্ডউইক, জীবনানন্দের কবিতায় ইতিহাসচেতনা নিয়ে বলবেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান ইতিহাসের অধ্যাপক ও এক্সিটার সেন্টারের পরচালক নন্দিনী মুখার্জি! বাংলা ভাষায় জীবনানন্দের জীবন নিয়ে জনপ্রিয় ডকুফিকশন ‘একজন কমলালেবু’র ইংরেজি অনুবাদ থেকে পাঠ করবেন পাঠকনন্দিত কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান। জীবনানন্দের কবিতার তুলনামূলক পাঠ নিয়ে কথা বলবেন কবি, নাট্যকার ও অনুবাদক জন ফার্নডন। এ ছাড়া উর্দু ভাষার সমসাময়িক কবি ও জীবনানন্দ নিয়ে কথা বলবেন উর্দু কথাসাহিত্যিক, সমালোচক ড. নূর জহির এবং লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক কবি ও জীবনানন্দ নিয়ে আলোচনা করবেন মেধাবী ব্রিটিশ-আর্জেন্টাইন কবি গাবি সাম্বুসিটি।

আয়োজনে আরও থাকছে জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কবিতার এক সংক্ষিপ্ত নাট্যরূপ ‘বনলতা সেন: আ সার্চ ফর বিউটি’! বিভিন্ন চরিত্রে ও বিবিধ নেপথ্য সহযোগিতায় থাকছেন অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী, অভিনেত্রী মারি হ্যামিলটন, কবি সারওয়ার ই আলম, কবি শামীম শাহান, সংস্কৃতিকর্মী জেসমীন চৌধুরী, সুবাস দাস, কবি শায়লা সিমি নূর, কবি জন ফার্নডন প্রমুখ।

জীবনানন্দের কবিতা থেকে পাঠ করবেন কবি শামস উজ-জোহা, সোমা দাস, কবি তানজিনা নূর-ই সিদ্দিক, পপি শাহনাজ ও মানস চৌধুরী। জীবনানন্দের কবিতার সংগীত রূপায়ণ ও পরিবেশনায় থাকছেন মেধাবী সংগীতশিল্পী অমিত দে। জীবনানন্দর কবিতার নৃত্য রূপায়ণে থাকছেন ভারতীয় ধ্রুপদি নৃত্যশিল্পী মনিদীপা শীল ও শর্মিষ্ঠা পণ্ডিত। আলোকচিত্র দিয়ে ‘বনলতা সেন’ কবিতার অভিনব দৃশ্যপাঠ উপস্থাপন করবেন আলোকচিত্রশিল্পী পাবলো খালেদ ও নিশাত আফজা।

সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ‘সৌধ দুই বছর ধরেই এটি আয়োজন করে আসছে এবং সৌভাগ্যক্রমে আমরা ব্রিটেনের সাহিত্য মহলে এই উৎসব নিয়ে বিপুল সাড়া লক্ষ করেছি। গত বছর করোনার কারণে এটি ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে অংশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ, ভারত ও ব্রিটেন থেকে শীর্ষ জীবনানন্দ গবেষক, তাত্ত্বিক এবং আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্যশিল্পীরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশ রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা কবিতায় তো বটেই, বিশ্ব কবিতার ভুবনেও এক অবিস্মরণীয় নাম। এই আয়োজনের ভেতর দিয়ে আমরা পশ্চাতের কবিতাপ্রেমী মানুষের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এক কবিকে তুলে ধরতে চাই।’
উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় থাকছে দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য কাগজ ‘গ্রন্থী’ ও রাধারমণ সোসাইটি।