উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসাইন, টাওয়ার হেমলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন, কাউন্সিলর সাবিনা আকতার, সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, সাংবাদিক বুলবুল হাসান, বিজয়ফুল কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিভাগের প্রধান সিরাজুল বাসিত চৌধুরী প্রমুখ।

ঢাকা থেকে জুমের মাধমে যুক্ত হয়েছেন বিজয়ফুলের আন্তর্জাতিক দূত সেলিম জাহান এবং বিজয়ফুলের বাংলাদেশের দূত গওহর নঈম ওয়ারা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিজয়ফুল কর্মসূচির সমন্বয়ক কবি মিলটন রহমান ও সহসমন্বয়ক অপু ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজয়ফুল সাংস্কৃতিক বিভাগের প্রধান স্মৃতি আজাদ, উজ্জীবক কবি ফারাহ্ নাজ, সাংবাদিক তবারকুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী, ফিরোজ আহমদ, রুবি হক, ওয়াহিদ জামান, সিনথিয়া আশরাফ, শামিমা মিতা, মোহনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, নিপা, আনিকা হক মল্লিক, ফয়সল, ফজলুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সরাসরি প্রচার করা হয়। সরাসরি সম্প্রচারে দায়িত্ব পালন করেন সহসমন্বয়ক অপু ইসলাম ও উজ্জীবক ফিরোজ আহমদ।

উদ্বোধনকালে মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন বলেন, বিজয়ফুল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।

ঢাকা থেকে জুমের মাধমে যুক্ত হয়ে বিজয়ফুলের আন্তর্জাতিক দূত সেলিম জাহান বলেন, ‘বিজয়ফুল কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চিন্তাচেতনা, বাংলাদেশের যে গৌরবময় ঐতিহ্য সেটাকে তুলে ধরা। আমি মনে করি, বর্তমান সময়ে সেসব কর্মসূচি ও লক্ষ্য ঠিকই আছে।’

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন বলেন, বিজয়ফুলের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বিজয় দিবসের তাৎপর্য শেখানোর পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

কাউন্সিলর সাবিনা আকতার বলেন, বিজয়ফুল যে কাজ করছে, তা সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এর বিকল্প নেই।

সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা বলেন, বিজয়ফুলকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সময় হয়েছে। তিনি বিজয়ফুলকে চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর করে কর্মসূচি আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক বুলবুল হাসান বলেন, বিজয়ফুলের সঙ্গে পপি ফুলের তুলনা করার প্রয়োজন নেই। বিজয়ফুলের নিজস্ব একটি চেতনা রয়েছে। তা নিয়েই বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করবে।

শিক্ষক সিরাজুল বাসিত চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বিজয়ফুল কাজ করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া উপস্থিত সবাই আগামী প্রজন্মের জন্য এ বিজয়ফুল কর্মসূচিকে একটি লাগসই প্রযুক্তি ও আন্দোলন বলে এটি ভবিষ্যতে অনেক ব্যাপ্তি লাভ করবে বলে মনে করেন সিরাজুল বাসিত চৌধুরী।

বিজয়ফুল কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রবাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য বিজয়ফুল কর্মসূচি ১৪ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। বহির্বিশ্বে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে বিজয়ফুল হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক।


বাংলাদেশে বিজয়ফুল

এদিকে বাংলাদেশেও বিজয়ফুল কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বিজয়ফুল কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা রাশেদা নাসরীন প্রতিষ্ঠিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ‘আলোক স্কুল’ বিজয়ফুল তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্কুলের ছয় শতাধিক ছেলেমেয়ে প্রতিদিন দেশাত্মবোধক গান, কবিতা ও গল্পে উৎসবমুখর সময় পার করছে। এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ফুল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।