সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু কিছুদিন পর পরিস্থিতি বুঝতে আর বাকি রইল না যে নিচের তলায় অবৈধ কাজকর্ম হয়। গভীর রাতে সাদা, কালো, লাল কিংবা নীল রঙের দামি গাড়ি প্রায় সচরাচর দেখা যেতে লাগল বাসাটিতে। একদিন রাত ৯টার দিকে এলাকার মানুষ পুরো বাসাটি ঘেরাও করে রাখল। আমাদের দোতলায় এসে স্থানীয় কিছু লোক জানত চাইল, আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি কি না! আমরা সরাসরি জানাই, নিচে যদি কোনো অসৎ ব্যক্তি বসবাস করেন, তাদের অবশ্যই আপনারা বাসা থেকে বের করার ব্যবস্থা করুন। বাসার যিনি মালিক, তিনি ছিলেন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ওসি। তিনি থানায় ফোনে যোগাযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আসে এবং একপর্যায়ে এলাকাবাসী চলে যেতে বাধ্য হয়। আমাদের আর বুঝতে বাকি রইল না, এ কাজে বাসার মালিকের (ওসির) পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

পরদিন জানতে পারি, আমরাই নাকি এই এলাকাবাসীকে নিয়ে এসেছি বাসা ঘেরাও করার জন্য। পুরোদমে চক্রান্ত চলছে আমাদের নিয়ে, কীভাবে আমাদের বাসা থেকে বের করা যায়। তবে এলাকাবাসীর আর বুঝতে বাকি রইল না, আমরা ভালো পরিবারের ছেলেমেয়ে কিংবা শিক্ষার্থী। তাঁদের সহযোগিতায় আমরা সেখানে থাকার জন্য নতুন করে অনুমতি পেলাম। এভাবেই চারটি বছর এ বাসায়ই কাটিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে চলে আসি। বর্তমানে বাসার মালিক আমাদের প্রতি মুগ্ধ হয়ে পুরো ভবনটি ব্যাচেলরদের মেসে পরিণত করেছেন।

প্রবাসে আসার চার বছর। ২০১৯ সাল থেকে লেখালেখির জগতে পুরোদমে পা রাখি। কিন্তু সেখানেও চক্রান্তের শিকার হই। তবে কখনো বিক্রি হইনি। নিজের মেধা এবং মনন দিয়ে লেখালেখি করি। সততার জয় সব সময় হয়, অসত্যের কোনো সময় জয় হয় না। লেখালেখি করি, সেটা কারও কাছে বিক্রি হওয়ার জন্য নয়।