জাপানে ঈদ উৎসব

আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উদ্যাপিত হয়েছে। প্রবাস জীবনে নানা প্রতিকূলতার মাঝে দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দে মেতে ওঠেন প্রবাসী মুসলমানেরা। তবে এবারের ঈদ উৎসবে অন্যান্য বারের চেয়ে আনন্দের মাত্রা একটু বেশি ছিল। কারণ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববারে জাপানে ঈদ উদ্যাপিত হয়েছে। এ উৎসবে জাপানি মুসলিমদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ঈদের নামাজের পর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

জাপানে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানেরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এর মধ্যে টোকিওর পাশে সাইতামা সিটির গামোতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত কবি ও সুরকার শিল্পী রিয়াদ হায়দারের একক সংগীতসন্ধ্যা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। রিয়াদ হায়দারের সঙ্গে কয়েকটি যৌথ গানে অংশ নেয় দিশারি শিল্পী গোষ্ঠী ও সাইতা সাকুরার খুদে শিল্পীরা। ময়িনুর রহমান ও আতিকুর রহমানের যৌথ উপস্থাপনায় ব্যতিক্রমী এই ঈদ উদ্যাপন উপস্থিত প্রবাসীদের আনন্দের মাত্রা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি গাড়ি ব্যবসায়ী এ টি এম মিছবাহুল কবির। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন, জাপান।
প্রতি বছর ঈদ আসে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। এ উৎসবে মুসলমানেরা নিজেদের মধ্যকার উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ ভুলে বুকে বুক মিলিয়ে ধুয়ে মুছে ফেলে অতীত দিনের সকল মনোমালিন্য। ঈদ আসে বছরের দুবার রমজানের শেষে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে ঈদ-উল ফিতর বা রোজার ঈদ আর জিলহজ্জের দশ তারিখে ত্যাগের মহিমায় হাজার-হাজার বছরের ঐতিহ্যকে উদ্ভাসিত করে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ-উল আজহা বা কোরবানির ঈদ।

বরাবরই প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ঈদের এই আনন্দ ভাগাভাগি থেকে অনেকে বঞ্চিত থাকে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঈদের আনন্দ খানিকটা অপূর্ণতা থেকে যায়। অনেকে আনন্দ খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন প্রবাসী কোনো আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিত মুখদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। অবশ্য যারা সপরিবারে প্রবাসী তাদের ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন। তবে কখনোই পরিপূর্ণ স্বদেশি সুখ নেই। কেননা বৃহৎ পরিবার, আজন্ম দেখা প্রতিবেশী ও স্বজনদের থেকে দূরত্ব সে সুখের একটা বিরাট অংশ কেড়ে নিয়েছে।
একটা নতুন জামা কিনে দেওয়ার পর সন্তানের মুখের যে হাসি, একাকী পৃথিবীর আর কোথায় তা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। মনে পড়ে, ছেলেবেলায় নতুন জামা পাওয়ার একটা মৌসম ছিল ঈদ। কিন্তু প্রবাসে সে সবের কথা মনে থাকে না, প্রয়োজন হলে নতুন কেনা হয়। ঈদের দিন মাথার ওপর গুরুজনের বোলানো হাতের স্পর্শ কত অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা যাবে? ছেলেবেলায় গুরুজনদের সালাম করে পকেট ভারী করার পাওনাটা আজও অসামান্য মনে হয়। আনন্দিত প্রহরগুলোতে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় বা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তারপরও প্রবাস জীবনে-দেশে-বিদেশে সবার জীবনই হোক আনন্দময়।