সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি

রাজধানীতে গতকাল ‘এই সময়ে সমতলের আদিবাসী ইস্যু, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ছবি: আইপিডিএসের সৌজন্যে

রাজধানীতে ‘এই সময়ে সমতলের আদিবাসী ইস্যু, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সিবিসিবি সেন্টারে কাপেং ফাউন্ডেশন ও ইন্ডিজিনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের (আইপিডিএস) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার করা হয়।

সেমিনারে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিঞ্জ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি অজয় এ মৃ, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, ক্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান জন গমেজ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতা মৃগেন হাগিদক, রঘুনাথ এক্কা, পবিত্র মান্দাসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার হিরণ মিত্র চাকমা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উজ্জ্বল আজিম।

সংসদ সদস্য আন্না মিঞ্জ বলেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৯০ শতাংশ দরিদ্র। সরকারি সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায় না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষিত ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি অজয় এ মৃ বলেন, মধুপুরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।

ফিলিমন বাস্কে জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এখনো ১০টি মামলা চলমান। তিনি এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সঞ্জীব দ্রং বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তরুণ প্রজন্মকে আরও এগিয়ে এসে জাতির জন্য অবদান রাখতে হবে এবং সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে উজ্জ্বল আজিম সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন। আলোচনায় মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা চালু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী থেকে শিক্ষক নিয়োগ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপিত হয়।

মুক্ত আলোচনায় রঘুনাথ এক্কা, শিপন ত্রিপুরা, অলিক মৃ ও খোকন সুইটেন মুর্মুসহ অনেকে অংশ নেন। সেমিনারে সমতলের বিভিন্ন ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন গৌরাঙ্গ পাত্র।