শুদ্ধাচার ও টেকসই উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার
টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার বিষয়ে তরুণদের করণীয় নির্ধারণে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর দুর্নীতিবিরোধী থিম সং ‘জাগো মানুষ জাগো’ পরিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন ইয়েসের দলনেতা রাকিবুল হাসান রাকিব। সেমিনারে উদ্বোধনী ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে টিআইবির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে দুর্নীতি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারকে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রথম দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
এরপর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইয়েসের উপদেষ্টা মাহমুদা পারভীন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)–এর ১৬ নম্বর লক্ষ্য—শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে টিআইবির অবদান শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
নাগরিক সংবাদ, জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ারের সম্মানিত উপদেষ্টা তামান্না জেরিন সুশাসন ও শুদ্ধাচারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নিশ্চিত করতে পারে না বরং এর জন্য প্রয়োজন নৈতিকতা ও সুশাসনের চর্চা। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিভিক এনগেজমেন্ট কোঅর্ডিনেটর মো. আতিকুর রহমান। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার বিষয়ে ধারণা প্রদান করেন এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও নাগরিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সুশাসন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা এবং দুর্নীতি থাকলে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শুদ্ধাচার চর্চা এবং দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেন।
এরপর দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণবিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার দুর্নীতির বিভিন্ন ধরন ও এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি অব্যবস্থাপনা এবং বিগত সরকারের সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ইয়েস ফোরামের কনভেনার মাহমুদা পারভীন সব অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা চৌধুরী এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদিয়া আফরিন চৌধুরী। সেমিনারটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইয়েস ক্লাবের সদস্য ইউনুস রিফাত ও ফৌজিয়া হোসেন।
এ বি এম সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, তৃতীয় বর্ষ