আমাদের সামাজিক মূল্যবোধে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আর্ন প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকছবি: কেয়ার বাংলাদেশের সৌজন্যে

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে আমাদের নীতিনৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের কথাবার্তা ও আচরণে অনেক বেশি উগ্রতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

রাজধানীতে আজ এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইকোনমিক একসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) নামের একটি প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আমেনা বেগম। আজ কেয়ার বাংলাদেশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, এখন নৈতিকতা শিক্ষাদানের বিষয়টি সেই অর্থে নেই বললেই চলে। তাই রুটিন ওয়ার্কের পাশাপাশি দেশের যুবক ও যুব নারীদের নৈতিকতা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারলে তবেই এই প্রকল্প পরিপূর্ণ সার্থক হবে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আর্ন প্রকল্পের জন্য গৃহীত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নৈতিকতা-সংক্রান্ত একটি সেশন অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই—১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এমন ৯ লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য আর্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা এই জনগোষ্ঠীকে বলা হচ্ছে নিট বা ‘নট ইন এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং’। প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়াশিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে, যা দেশের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

এ প্রকল্পে বাস্তবায়নে কাজ করবে ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা ও সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯ লাখ যুবক ও যুব নারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইকোনমিক একসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) নামের একটি প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের অতিথিরা
ছবি: কেয়ার বাংলাদেশের সৌজন্যে

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ জশ, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মেরিনা নাজনীনসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রকল্পের কর্মকর্তা ও পরামর্শকেরা।

সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত, ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন সেক্টর ডিরেক্টর মিস নিশাত আফরোজ মির্জা। কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস, হেড অব পিপল অ্যান্ড কালচার কাজী রিজওয়ানা রহমান, সিনিয়র ডিরেক্টর (ফাইন্যান্স) সাজিয়া তারিন, হেড অব গভর্নমেন্ট রিলেশনস ডিপার্টমেন্ট ফজলুল হক ও সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর শাহরিয়ার আলম, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম খলিলুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) কে এম জাহিদুজ্জামান ও টিম লিডার মোসাম্মৎ কনক লতা এবং ব্র্যাক এডুকেশনের পরিচালক সাফি রহমান খান, হেড অব প্রোগ্রামস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) গোলাম ফারুক ও টিম লিডার কাজী জাহাঙ্গীর আলম।