আবুল হাসানের নাম প্রকৃত আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর নানা আবদুল গফুর মোল্লা তাঁকে আদর করে টুকু নামে ডাকতেন। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।

আবুল হাসানের প্রাথমিক শিক্ষা নানাবাড়ির বার্নি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এসএসসি পাস করেছেন ঢাকার একটি স্কুল থেকে। এইচএসসি বরিশালের বিএম কলেজ থেকে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে পছন্দের বিভাগে পরীক্ষা দিতে হতো। বন্ধুরা জানতেন, আবুল হাসান ভালো কবিতা লেখেন। তাই বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। আবুল হাসান বন্ধুদের কথা শুনলেন না। তিনি ইংরেজি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন। ভর্তিও হলেন এই বিভাগে।

আবুল হাসান ছিলেন আড্ডাবাজ, উড়নচণ্ডী। পড়াশোনায় খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শেষ না করেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। শুরু করেন সাংবাদিকতা। পাশাপাশি চলে কবিতা ও প্রবন্ধ লেখা।

আবুল হাসান ছিলেন কবিতা–অন্তঃপ্রাণ। তিনি ১৯৭০ সালের এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

default-image

১৯৭৪ সালে আবুল হাসান অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। পরে তাঁকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।

১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মারা যান আবুল হাসান।

মাত্র ২৭ বছর বেঁচে ছিলেন কবি আবুল হাসান। অল্প সময়ে তিনি কালজয়ী সব কবিতা লিখে গেছেন। লিখেছেন প্রবন্ধ-নিবন্ধও।

আবুল হাসান ১৯৭৫ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক পান।

পিরোজপুরে কবির গ্রামে তাঁর কোনো স্মৃতিচিহ্ন নেই। পরিজন-ভক্তদের চাওয়া—ঝনঝনিয়া গ্রামের সড়কটি কবির নামে রাখা হোক। গ্রামে তাঁর নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

নাগরিক সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন