মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট: ফিল্ম বানিয়ে জিতুন ক্যামেরা

অভিবাসনকে ঘিরে সাফল্যের গল্প যেমন রয়েছে, তেমনি আছে অন্ধকার বাস্তবতা—মানব পাচার, দালালের প্রতারণা, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা আর স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি। এই দুই বাস্তবতাকেই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরতে দেশে শুরু হয়েছে ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট’।

এই উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আহ্বান জানানো হয়েছে অভিবাসনকেন্দ্রিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে। ফিকশন, অ্যানিমেশন বা ডকুমেন্টারি—যেকোনো ধারায় নির্মিত চলচ্চিত্র জমা দেওয়া যাবে। মুঠোফোনসহ সহজলভ্য যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করেই অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে নতুন নির্মাতারাও সহজে যুক্ত হতে পারেন। চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট।

আয়োজকদের মতে, অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা, বিদেশে প্রতারণার শিকার হওয়া, মানসিক ট্রমা কিংবা পরিবারের ওপর প্রভাব—এসব বিষয় চলচ্চিত্রে উঠে আসতে পারে।

চলচ্চিত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে গত ১ এপ্রিল থেকে, যা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। আগ্রহী ব্যক্তিরা এই লিংকের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘দেশে-প্রবাসে’ ফেসবুক পেজে।

উৎসব উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রতি শনিবার অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গল্প নির্মাণ ও কারিগরি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে আয়োজন করা হবে মূল উৎসব। এতে প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে প্যানেল আলোচনা, নির্মাতাদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো টেলিভিশন ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিযোগিতায় সেরা তিন নির্মাতাকে দেওয়া হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার—প্রথম পুরস্কার হিসেবে ক্যামেরা ও লেন্স, দ্বিতীয় পুরস্কার গো-প্রো ক্রিয়েটিভ কিট এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি গো-প্রো ক্যামেরা। এ ছাড়া নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হবে ক্রেস্ট ও সনদ।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই চলচ্চিত্র উৎসব তরুণদের সৃজনশীলতার পাশাপাশি অভিবাসনের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।