সার্কাসের হাতি
সেদিন এক সার্কাসের হাতি আমার সামনে দাঁড়াল।
—কী চাই?
—দশটি টাকা।
—তুমি মাত্র দশ টাকার জন্য আমার সামনে দাঁড়ালে?
—জি, জনাব। মাত্র দশ টাকা।
—তুমি কি তোমার ক্ষমতা সম্পর্কে জানো?
—জি, জনাব।
—কী জানো?
—আমার ক্ষমতা এই শেকলের দৈর্ঘ্যের সমান।
—মানে তুমি বলতে চাচ্ছ, শিকলের বাইরে তুমি যেতে পারো না?
—ঠিক তা–ই। আমি তো ছোটবেলা থেকে এটাই জেনে এসেছি।
—তুমি হলে পৃথিবীর এক মহান প্রাণী। তোমার যে দেহ, আর যে শক্তি, সে দিয়ে চাইলে বিশ্বজয় করতে পারো।
—আমি? অদ্ভুত কথা শোনালেন বড়!
—তুমি হলে মাটির ওপরে সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী। তোমার সম্মান অনেক ওপরে, আর সেই তুমি কিনা হয়েছ সার্কাসের পণ্য?
—জনাব, আমি যা নই, তা আমাকে বলবেন না। দশটি টাকা দেন, আমি বিদেয় হই।
—তুমি তোমার নিজকে চেনো না, তোমার অবস্থা বোঝ না।
—আমার আবার অবস্থান। মালিক খেতে দিলে খাই, না দিলে খাই না। সবই আমার ওপরে বসা মালিকের দয়া।
—ওপরে বসা ওই পুঁচকে ছোকরা তোমার মালিক?
—জি জনাব, তিনি মহান। আমি তাঁর কাছে নিতান্তই ক্ষুদ্র। তিনি দয়া করে আমাকে এ সার্কাসের কাজে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই আমি খেয়ে–পরে বেঁচে আছি।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই—মেইল: [email protected]
—তুমি ছুড়ে ফেলো ওই পুঁচকে ছোড়াকে। চলে যাও বনে। তুমি তো বনের রাজা।
—ওসব বলবেন না, জনাব। ওসব বললে পাপ হয়, ওসব চিন্তা শয়তান আপনার মাথায় এনেছে। আমি এক দুর্বল প্রাণী। মালিকের দয়ায় আমার এ জীবন।
—আফসোস! গোলামির জিঞ্জির পরে তুমি গোলামির জালেই থাকতে ভালোবাসো। স্বাধীন জীবনে তোমার বড় ভয়।
—জি, জনাব, আমি গোলাম। আমার মালিকের গোলাম। দয়া করে দশটি টাকা দিন। বিদেয় হই।