কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নৈতিকতার প্রশ্ন: এআইকে নিয়ন্ত্রণ করবে কে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও বেশি বৈষম্যমূলক আচরণ করছেছবি: এআইয়ের সাহায্যে তৈরি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পবিজ্ঞান নয়। লেখা তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ, ছবি বানানো থেকে শুরু করে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা—জীবনের নানা ক্ষেত্রে এআই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্নও সামনে আসছে—এআই কী করতে পারে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কী নয়; এআইয়ের কী করা উচিত?

এআই মানুষের কাজ দ্রুত ও সহজ করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি ভুল তথ্য সরবরাহ করতে পারে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারে। কোনো এআই ব্যবস্থা যদি চাকরি, চিকিৎসা বা ঋণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—এর দায়িত্ব কার?

এ কারণেই বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই অ্যাক্টের মাধ্যমে এআই ব্যবহারে ঝুঁকি কমানো, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মানুষের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে—একজন মানুষ কি জানার অধিকার রাখেন যে তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, নাকি একটি এআই ব্যবস্থার সঙ্গে?

বাংলাদেশেও শিক্ষা, ব্যবসা ও গণমাধ্যমে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এআই দিয়ে একটি লেখা তৈরি করা সহজ হলেও সেটি নিজের চিন্তা ও জ্ঞানের প্রতিফলন কি না, সেটি একটি নৈতিক প্রশ্ন।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

এআই আমাদের কাজের পদ্ধতি বদলাতে পারে, কিন্তু নৈতিক দায়িত্ব থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পারে না। একটি এআই কী করতে পারে, সেটি প্রযুক্তির প্রশ্ন; কিন্তু কী করা উচিত, সেটি নৈতিকতার প্রশ্ন।

এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে প্রযুক্তি নয়, প্রযুক্তিকে আমরা কীভাবে ব্যবহার করি—সেই মানবিক সিদ্ধান্ত।

লেখক: মাহ্‌দিন মুবাশ্বির, শিক্ষার্থী, ইউনির্ভাসিটি অব লিবারেল আর্টস, ইউল্যাব।