সুপ্তি
বাবা কোনো কিছু কিনে আনলেই মায়ের সেটা মনমতো হয় না। লাউ আনলে মা বলবেন আর লাউ পাও নাই? বুড়া একটা লাউ কিনে আনছো!
মাছ আনলে মা নাক দিয়ে শুঁকে বলবেন ওওওক! পচে গেছে মাছ।
রুই মাছ আনলে বলবেন কাতলা কেন আনো নাই, কাতলা আনলে বলবে কই মাছ আনলে ভালো হতো!
বাবা শিঙাড়া কিনে আনলেও মা বলবেন সমুচা আনলে ভালো হতো, আর সমুচা আনলে বলবেন গরম গরম পিঁয়াজু খেতে ইচ্ছা করতেছে। তুমি আনলে সমুচা!
কিন্তু সুপ্তি তার বাবার একনিষ্ঠ সমর্থক। বাবা যা–ই আনুক, তার পছন্দ। বুড়া লাউ কিনে আনলে সুপ্তি বলবে তেমন বুড়া না। খাওয়া যাবে।
বাবাকে খুশি করার এক প্রচেষ্টা তার।
নতুন স্কুল ড্রেস বানিয়ে সুপ্তি বুঝল ওটা বেশি লুজ বানিয়ে ফেলছে দরজি। আরেকটু টাইট হওয়া দরকার। মা এসে বললেন কী এক দোকান থেকে বানালে, লুজ বানিয়েছে। এখন আবার কে যাবে এটা নিয়ে!
বাবা বললেন যেতে হবে না। আমাকে দিয়ে দাও, আমি অল্প কমিয়ে আনব। মা ড্রেস এনে দিলেন। সুপ্তি বাবার কাছ থেকে নাশতার টাকা নিল। তারপর বলল বাবা আমি তোমার সঙ্গে যাব। তুমি আরেকটু পরে যাবে? যাওয়ার সময় আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যাবে।
মা বললেন কেন? তোমার বান্ধবী আসবে না?
সুপ্তি বলল না, ও বেড়াতে গেছে।
বাবা বললেন, তোমাকে স্কুলে দিতে গেলে তো আমার অফিসের দেরি হয়ে যাবে সুপু!
সুপ্তি রাগ দেখিয়ে বলল আচ্ছা যাও, আমি একাই যেতে পারব! বলেই হনহন করে অন্য রুমে চলে গেল। মা ঠোঁট এমনভাবে বাঁকা করলেন বাবা হেসে বললেন আমার মেয়ের পাতলা রাগ! তোমার কপি হইছে সে।
এবার মা রাগ দেখিয়ে বললেন সবকিছুতে আমাকে না টানলে হয় না! এরপর মা অন্য রুমে চলে গেলেন।
বাবা সোফায় বসে রইলেন। মেয়েকে স্কুলে নামিয়ে দেবেন অফিসে যাওয়ার সময়। বাবার সঙ্গে মেয়ে কথা বলতে বলতে স্কুলে যাচ্ছে, এ এক মুগ্ধতা জাগানিয়া দৃশ্য!
ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম থেকে
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]