বাসের টিকিট ও মফিজের বিবেচনা
মফিজের মনও বাংলাদেশের অন্য মুসলমানের মতোই পবিত্র রমজান মাসে সদয় থাকে। কয়েক দিন আগেই মফিজের জীবনে ঘটে গেল একটা নতুন ঘটনা! যা শিক্ষা হিসেবে নিশ্চয়ই অনেকেই মনে রাখবেন।
একজন পরিণত বয়সের মানুষ একটি শিশুসহ মফিজের অফিসের বাইরে বাড়ি যাওয়ার টিকিট কাটার জন্য সাহায্য চাচ্ছে। মফিজের দয়ার শরীর! জিজ্ঞাসা করে জানতে পারল, লোকটার বাড়ি জামালপুর। সে জামালপুর যাওয়ার টিকিট কিনতে চায়। মফিজ কালবিলম্ব না করে তাকে অফিসে নিয়ে আসে। তারপর তার ও তার ছেলের বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য মফিজ সবার কাছে চাঁদা তোলা শুরু করে। রমজান মাসে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেল।
অল্প কিছু সময়ের ভেতর আগন্তুক ও তার ছেলের বাড়ি যাওয়ার খরচের চেয়ে বেশি টাকা উঠে গেল। মফিজ টাকাগুলো তার হাতে দিতে যাচ্ছিল, এমন সময় সম্বিত ফিরে পেল! যদি এমন হয়! যদি তা না হয়! তখন? সে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করল। লোকটা জানাল সে বাসের টিকিট কখনো কাটেনি। সব সময় অন্য কেউ কেটে দিয়েছে। মফিজ বাসের অ্যাপে ঢুকে দুটি পছন্দমতো সিট নিয়ে তা প্রিন্ট আউট করে তাকে দিল। টিকিট কাটার পর অতিরিক্ত টাকা তার হাতে দিয়ে দিল। সব বুঝে পেয়ে লোকটি চলে গেল। মফিজ তখন প্রশংসার পাত্র হয়ে উঠল। সবাই বলাবলি করতে লাগল, রমজান মাসে মফিজ বড় সওয়াব কামিয়ে নিল।
ঘণ্টাখানেক পর বস মফিজকে লোকটির খবর নেওয়ার পরামর্শ দিল। কাউন্টারের একজন কর্মচারী মফিজের পরিচিত। কারণ, এই রুট ব্যবহার করেই সে বাড়ি যায়। মফিজ বাস কাউন্টারে কল দিয়ে বেকুব সেজে গেল! লোকটি বাসে ভ্রমণ না করে, কাউন্টারে গিয়ে টিকিট বিক্রি করে দিয়েছে! মফিজ তো পুরাই হাঁ হয়ে গেল! মানুষ এমন হয়? তাও রমজান মাসে! মফিজ মনে মনে সংকল্প করল, সে আর কারও উপকার করবে না। মফিজের বস তাকে সান্ত্বনা দিল এই বলে যে ‘মনে কষ্ট নিয়ো না।’ সময়, পরিপ্রেক্ষিত, বাস্তবতা বিবেচনা করে মানুষের উপকার করতে হবে। মানুষ আর আগের দিনের মতো ভালো নেই। মফিজ মফিজের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
‘নাগরিক সংবাদ’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]