ঘোরাফেরা

ছবি: লেখকের পাঠানো

কলেজের চড়ুইভাতি অনুষ্ঠানের জন্য শাড়ির সাথে ম্যাচিং হিজাব খুঁজতে হানা দিলাম হোস্টেলের সিনিয়রদের রুমে। রুমে প্রবেশ করা মাত্র বিকট একটি শব্দ। ঘুরতে যাওয়ার টাকা নেই, তাই সিনিয়র আপু তার শখের মাটির ব্যাংকটি ভেঙে ফেলেছেন।

পয়সাগুলো গুনতে গুনতে ঠিক হলো আমরা কাল ভোরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে আবদুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাব এবং ঘুরব। এ ছাড়া আবদুলপুরের বিখ্যাত লুচি আর আলু ভাজি খাব।

মনে অনেক উত্তেজনা নিয়ে নিজের রুমে ফিরলাম। অবশ্য হিজাবের কথা তখন আর মাথায় ছিল না।

রাতে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। আমাদের ট্রেন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে।

ভোর‌ ৫টা। অ্যালার্মের ডাক শুনে ঘুম ভাঙল।

আমরা পাঁচজন।

ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে রওনা দিলাম রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে।

ভোরের ঠান্ডা বাতাসে মন পরিষ্কার হয়ে গেল।

আমরা স্টেশনে পৌঁছালাম ৬টা ৩৫ মিনিটে।

স্টেশনের চারদিকে প্রায় চার শ ছবি তোলার পর যখন ট্রেন ধরতে গেলাম, তার আগেই ট্রেনটি আমাদের রেখে চলে গেছে।

পরবর্তী ট্রেন সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে। প্রায় এক ঘণ্টা সময় আমাদের কাছে ছিল এবং আমার তখন আবারও ছবি তোলা এবং নিজেদের ভিডিও করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

পরবর্তী ট্রেন এল। আমরা টিকিট ছাড়াই‌ ট্রেনে উঠলাম। বসার জায়গা ছিল না। তাই দাঁড়িয়ে গান গেয়ে সময়টা উপভোগ করলাম।

আর বাইরের দৃশ্য দেখলাম। আমার দেশ কত সুন্দর। সব সৌন্দর্য যেন আমার এই বাংলাদেশে।

নাগরিক সংবাদ, জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

আবদুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের সাত মিনিট আগে রেলক্রসিংয়ের জন্য ট্রেন একটু আস্তে চলা শুরু করল, ঠিক তখনই টিটি এসে টিকিট দেখাতে বললেন।

টিকিট না থাকায় আমরা টাকা দিলাম। আমরা ছিলাম পাঁচজন। ভাড়া দিলাম চারজনের। আবদুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালাম সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে। পরিবেশটা ছিল অনেক সুন্দর এবং মনোরম।

আমরা প্রায় দুই ঘণ্টা আশপাশে ঘুরে দেখলাম।

তারপর সকালের নাশতা করলাম। লুচি আর আলু ভাজি সঙ্গে ডাল এবং চা।

অনেক ছবি তুললাম এবং ভিডিও করলাম।

ছবি: লেখকের পাঠানো

এখন রাজশাহী ফেরার পালা। আমাদের ইচ্ছা ছিল টিকিট/টাকা ছাড়াই‌ রাজশাহী পৌঁছানো। তাই আমরা ছুটলাম শেষের বগির দিকে এবং ভাগ্যক্রমে টিটির সামনে এসেই দাঁড়ালাম। টিটিও‌ আমাদের এক এক করে পাঁচজনকে গুনে ট্রেনে তুললেন। এরপর আমরা টিটিকে বোঝানো শুরু করলাম যে আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই। সবাই মিলে সর্বোচ্চ ২০ টাকা দিতে পারব।

টিটি আঙ্কেলের মন নরম‌ হলো। তিনি বললেন ‘একসাথে এইভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাবে না, কোথাও তোমরা বসে যাও।’

আমরা‌ পাঁচজন পাঁচ জায়গায় বসলাম। বসার জায়গা পেয়ে যেন চোখে ঘুম উড়ে এল।

ঘুমিয়ে পড়লাম।

ট্রেন এসে দাঁড়াল রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে। ট্রেন থেকে নামলাম। সামনে আরেক বিপদ। আবারও গেটে টিকিট চেক করা হবে। আমরা আবার আলাদা হয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলাম।

অবশেষে গেট পাড়ি দিলাম। আমরা মহা খুশি।