সুরে সুরে যাত্রা শুরু করল ‘সুরের খেয়া’, ধরে রাখবে গুরু-শিষ্য পরম্পরা
বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাটি শুরু হলো ‘দাও সৌর্য দাও ধৈর্য হে উদার নাথ’ গানে। সেই গানে অংশ নিলেন গুরু, শিষ্যরা। এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সংগীত সংগঠন ‘সুরের খেয়া’।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে এক মিলনায়তনে নজরুল সন্ধ্যার আয়োজন করেছে সংগঠনটি। আয়োজনে গুরু-শিষ্য পরম্পরার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এক বছর ধরেই ‘সুরের খেয়া’ বিচ্ছিন্নভাবে সংগীতচর্চা চালিয়ে আসছে। এবারই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো সংগঠনটি।
সমবেত নজরুলসংগীতের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হলো একের পর এক গান। মুগ্ধতা ছড়ালেন সুরের খেয়ার অন্যতম সদস্য নাদিয়া আরেফিন শাওন ও সুরের খেয়ার পরিচালক তাপসী রায়। তবে সব ছাপিয়ে মন জয় করে নিল ছোট্ট শ্রেয়া রায়ের গান। সুমধুর কণ্ঠে সে গেয়ে ওঠে ‘নহে নহে প্রিয়’, ‘আজো কাঁদে কাননে কোয়েলিয়া’। শ্রেয়া রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ির, নজরুলসংগীত বিভাগে ‘ক’ শাখায়, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
চমকের শেষ এখানেই নয়। এরপর মঞ্চে দুই গুরু নজরুলসংগীতের অন্যতম দিকপাল বিজন কুমার মিস্ত্রিও সঞ্জয় হালদারের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করে শ্রেয়া রায়।
সুরের খেয়ার পরিচালক তাপসী রায় বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে ধরে রাখা। বর্তমান সময়ের যান্ত্রিক সংগীতচর্চার ভিড়ে গুরুর সান্নিধ্যে থেকে শেখার যে আন্তরিক পাঠ, সেটিকেই আমরা পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। নজরুলের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজন এস এম হায়াতুল্লাহ, প্রিয়াংকা গোপ এবং মঞ্জুরুল ইসলাম খান।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে তাঁরা ‘সুরের খেয়া’-এর প্রতি শুভেচ্ছা জানান। সুরের খেয়া গুরু-শিষ্য ধারাকে বহন করে নজরুলকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে বলে আশাপ্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন পল্লব স্যান্যাল ও রবিন্স চৌধুরী।
‘সুরের খেয়া’ পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গুরু-শিষ্য পরম্পরাভিত্তিক কর্মশালা, সংগীতসন্ধ্যা ও নজরুল চর্চার আসর আয়োজন করবে।