বসন্তময় ভালোবাসা উৎসবে চাওয়া
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫। একই দিনে বসন্ত উৎসব, সেইসঙ্গে ভালোবাসার মহোৎসব। সার্থক হোক, সফল হোক আজকের এই দিনের উদ্দেশ্য। কেন এ দিন নিয়ে এত মাতামাতি! ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি নাই–বা করলাম। এই দিনে কী হয় আর কী হওয়া উচিত।
ফুলের দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছি...কানে এল বাবা-ছোট ছেলের কথা।
ছেলে: বাবা, এই গোলাপ ফুল দিয়ে কী হয় এই দিনে?
বাবা: বড়লোকের ভালোবাসার দিন কাইলকা, তাই দাম দিয়া এই গোলাপ কেনে। কাম কর, এত বুইঝা কাম নাই।
ছেলে: বাবা, আমাগো কি ভালোবাসা নাই?
বাবা: তুই বেশি কইরা ফুল বিক্রি কর, এটাই আমার প্রতি তোর ভালোবাসা হইব। কাম কর বেটা।
ছেলে অবাক তাকিয়ে রয়!!!
আমি অবাক—নির্বাক—হতবাক।
বসন্ত মানেই কোকিলের কলরব, পলাশ ফুলের সমারোহ আর হলুদের হাতছানি। প্রকৃতি নতুনভাবে সাজে, সব জায়গায় আনন্দের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু বাস্তব জীবনে এর প্রভাব কেমন হয়, সেটাই বা কতটুকু খেয়াল করি। ভালোবাসা উৎসবে ভালোবাসা কেমন যেন উপচে পড়ে, সেটা বেশ দৃশ্যমান। ভালোবাসা কি শুধু তরুণ-তরুণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ! ব্যাপারটা আসলে সেটা না হলেও বাস্তবিক অর্থে তা–ই দেখা যায়। গোলাপ ফুলের কদর খুব বেড়ে যায়, ১০ টাকার গোলাপ হয়ে যায় ৫০ টাকা, ফুলচাষিদের পোয়াবারো আবার ওই দিকে যাদের ফুল দেওয়ার কেউ নেই, তাদের আবার কপাল মন্দ।
ভালোবাসা দিবসেই প্রপোজ আবার এ দিবসেই রিজেক্ট। এভাবেই চলে যাচ্ছে এ দিনের যত আয়োজন। ওই দিকে হারিয়ে যাচ্ছে মা–বাবা আর সন্তানের ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রীর প্রেম, ভাই-বোনের ভালোবাসা, একজন বন্ধুর সঙ্গে আরেক বন্ধুর ভালোবাসা। আজ যদি একটা গোলাপ ফুল আমি আমার মা–বাবাকে দিই, এতে অট্টহাসির রোল পড়ে যাবে, লজ্জিত হবে জাতি। কারণ, বাবাকে ফুল দিতে হবে বাবা দিবসে আর মাকে দিতে হবে মা দিবসে। এভাবেই চলছে আমাদের সামাজিক অবস্থা। তাহলে এই দিন কি শুধুই প্রিয়জনকে ফুল দেওয়ার? মানে প্রেমিকা বা স্ত্রী! আমি সত্যিই কনফিউসড!!
যাই হোক, যেকোনো দিবস অবশ্যই উদ্যাপন করতে হবে আর সেটা অবশ্যই হতে হবে বিবেক–বুদ্ধির নিয়ন্ত্রণে। ভালোবাসা বাটখারা দিয়ে মাপা না গেলেও এমন যেন না হয় যাতে উপচে পড়ে যায়, অবশ্যই কিছুটা রেখে দিতে হবে মা–বাবার প্রতি, যাতে তাঁরা কোনোভাবেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বৃদ্ধাশ্রমে না যান, প্রিয়তমা স্ত্রী যেন তাঁর ন্যায্য সম্মানটা পান, সত্যিকারের কোনো প্রেমিক-প্রেমিকা যেন প্রতারিত না হন, তাহলেই ভালোবাসা দিবস পরিপূর্ণতা পাবে।
শুভ হোক বসন্তময় ভালোবাসা দিবস।