গুলুগুলুর কাছে চিঠি

ছবি: লেখকের পাঠানো

‘এই দিন, এই রাত

পাশাপাশি রাখা দুটি হাত

আরে বাহ্‌, স্বপ্ন ছুঁয়ে

অবাক চোখ মেলে তাকিয়ে।’

প্রিয় গুলুগুলু,

তোমার কি মনে পড়ে, এভাবে আমরা টেক্সট মেসেজে ছন্দ মিলিয়ে কবিতা বানাতাম? কাপ্তাই থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর বাসায় এসে যেন ঘরমুখী হয়ে পড়েছিলাম, হারিয়ে গিয়েছিল জীবনের রং। তারপর একদিন মেসেঞ্জারে টুং শব্দে কড়া নেড়ে প্রবেশ করলে আমার জীবনে। তোমার সঙ্গে যখন পরিচয়, তখন তুমিই ছিলে আমার একমাত্র বন্ধু। সুযোগ পেলেই আমরা ঘুরতে যেতাম, রাত জেগে ছন্দ মিলিয়ে কবিতা বানাতাম, আর হ্যাঁ, মনের এক সুপ্ত কোণে স্বপ্ন সাজাতাম। তোমার কি মনে পড়ে, প্রথমবার কোণ আইসক্রিম খাওয়ার সন্ধ্যাটা? পিচঢালা পথে চাঁদের আলোয় পাশাপাশি হাঁটার সেই গোধূলিবেলাটা, মনে পড়ে?

জানো, আমার জীবনের আনন্দময় দিনগুলোর একটি ছিল সেই দিন, যেদিন ল্যাম্পপোস্টের আলোর নিচে প্রথমবার তোমাকে দেখেছিলাম। তারপর জন্মদিনে তোমার দেওয়া প্রথম উপহার এখনো যত্ন করে রাখা আছে। তুমি আমার সাদা–কালো জীবনকে রঙিন করেছ, আমাকে বাস্তবতা বুঝতে শিখিয়েছ। তুমি আমাকে পরিণত করেছ। জানো, তুমি না থাকলে হয়তো আজ আমার জীবনের গল্পে কোনো উপসংহার থাকত না। ঠিক কখন তোমার মায়ায় নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছি, জানি না। ঠিক কখন তোমাকে ভালোবেসেছি, জানি না। হয়তো সেই মুঠোবন্দী মুহূর্তেই কি না? বন্ধুত্বের আড়াল ভেঙে কখন যেন ভালোবাসা আমাদের ভিজিয়ে দিল।

২৬ জুলাই, আমাদের পরিচয় থেকে পরিণয়ের দিন। সেদিন ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কখনো তোমাকে কষ্ট দিব না। কিন্তু আমি পারিনি, হয়তো সময়গুলো তখন প্রতিকূলে ছিল।

জানো, খুব মনে পড়ে তোমার সঙ্গে কাটানো হাসিখুশি প্রেমময় দিনগুলো। কত দিন তোমার হাতে নুডলস খাই না!

আমি যে প্রিয়াংকার ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়েছিলাম, তাকে ফিরে পেতে চাই; যার চাহনির মুগ্ধতার প্রেমে পড়েছিলাম, তাকে ফিরে পেতে চাই। আমি আমার গুলুগুলুকে ফেরত চাই প্রিয়াংকা। একই সঙ্গে তোমার ডোডোনাডোকেও ফেরত নিয়ে আস। আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি নিজের ওপর। ভালোবাসার উষ্ণ পরশে ক্লান্তি দূর করবে?

কয়েকটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে গেলাম, তোমার জবারের অপেক্ষায়।

ইতি,

তোমার ডোডোনাডো।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]