হাতে লেখা ঈদ কার্ডের উষ্ণতা

প্রথম আলো ফাইল ছবি

একসময় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম ছিল হাতে লেখা ঈদ কার্ড। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আজ এই প্রথা প্রায় হারাতে বসেছে। পুরোনো দিনের রঙিন, ঝকঝকে ডিজাইনের কার্ডের স্থান এখন নিয়েছে ই-ঈদ কার্ড, মোবাইলে বিভিন্ন মাধ্যমে ছোট্ট বার্তা—এসএমএসগুলো।

হাতে লেখা কার্ড কেবল শুভেচ্ছার মাধ্যম নয়, এই কার্ডের প্রতি ফোঁটায় মিশে থাকে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও আবেগ। আজকের প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে যখন ই-কার্ড ও মোবাইল বার্তা প্রধান হয়ে উঠেছে, তখন হাতে লেখা কার্ডের অনুভূতিগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের নিজ উদ্যোগ নেওয়াই একমাত্র পথ।

ঈদের আগের দিনগুলোকে আমরা কার্ড বানানোর দিন হিসেবে ভাবতে পারি, যেখানে প্রতিটি কার্ডে ছোট গল্প, কবিতা বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লেখা থাকতে পারে। এমন ছোট আয়োজন শুধু কার্ড আদান-প্রদানের আনন্দ বাড়াবে না, বরং সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ও আবেগকে আবার জীবন্ত করে তুলবে। ডিজিটাল কার্ডের ক্ষেত্রেও আমরা এই অনুভূতিটিকে সংযোজন করতে পারি।

হাতের লেখা স্ক্যান করে ব্যবহার করা, ছোট ভিডিও বা অডিও বার্তা যুক্ত করা, যাতে পাঠকের কাছে ব্যক্তিগত স্পর্শ বজায় থাকে। কার্ড সংগ্রহ করে আলাদা আলবাম বা বক্সে রাখা এবং সঙ্গে ছোট নোটে সেই সময়ের অনুভূতি লিখে রাখা, স্মৃতিকে সংরক্ষিত রাখার একটি চমৎকার উপায়। পরিবারের সবাইকে এই প্রথায় উৎসাহিত করলে নতুন প্রজন্মও হাতে লেখা কার্ডের আনন্দ অনুভব করতে পারবে।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

প্রযুক্তি যতই এগোয়, হাতে লেখা অনুভূতি, গল্প ও স্মৃতির স্থান কখনো নিতে পারে না। এই সুন্দর অনুভূতি মিশ্রিত ঈদ কার্ড প্রচলন করার চাবি আমাদের হাতেই। আমরা একটু সচেতনভাবে চেষ্টা করলে প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া ঈদ কার্ডের প্রচলন আবার শুরু করতে পারি। ফিরে পেতে পারি হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিগুলো।

লেখক: মুসলিমা জাহান তন্বী, সাবেক শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়