‘মা’ এক মধুরতম শব্দ ও সুমধুর ডাক, ভালোবাসা ও আগলে রাখার ঠিকানা

ছবি লেখকের পাঠানো

‘মা’ শব্দটি খুব ছোট্ট হলেও এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে সন্তানের প্রতি পরম মায়া, মমতা, স্নেহ, ভালোবাসা, ত্যাগ ও কষ্ট; যা আর কোথাও খুঁজে পাই না, পৃথিবীতে যার সঙ্গে আর কারও তুলনা হয় না—এক অতুলনীয় আস্থা, বিশ্বাস এবং নির্ভরতার শেষ আশ্রয়স্থল। মা ডাকের মধ্যে এক অন্য রকম প্রশান্তি অনুভূত হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

মা নিয়ে কিছু কবিতার লাইন বাবার মুখ থেকে কিশোর বয়সে শুনতাম, এখনো তা মনে পড়ে যায়। যেহেতু আমার শ্রদ্ধেয় পিতার মা খুব ছোট্ট বেলায় মারা যান, মায়ের স্নেহ-পরশ, মায়া, মমতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা না পাওয়ারই আক্ষেপ থেকে যায়। সেহেতু মা নিয়ে বাবার দরদমাখা কণ্ঠে প্রায় সময় শুনতাম, ‘মা বলিয়া ডাকিলে জুড়ায় যে পরান, এই দুনিয়ায় কেহ নাই তাহারি সমান।’ ‘হেরিলে মায়ের মুখ, দূরে যায় সব দুখ, মায়ের কোলেতে শুয়ে জুড়ায় পরান।’ তাই ‘মা’ ডাকটি খুব প্রাশান্তির ও সুমধুর। প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্ব মা দিবস পালিত হয়। সেহেতু এই বছর ১০ মে ‘বিশ্ব মা’ দিবস।

১০ মাস গর্ভে ধারণ, ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে দুই বছর মায়ের বুকের দুধ পানে অনেক যত্নে লালন-পালন, কখনো নির্ঘুম রাত কাটিয়ে, কখনো ক্লান্ত শরীর নিয়ে আগলে রাখেন আঁচলের তলে। কোলো-পিঠে কত কষ্টের বিনিময়ে মা আমাদের বহু স্বপ্ন নিয়ে বড় করেন, আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। কখনো পরিবারে অভাব–অনটন দেখা দিলে মা নিজে না খেয়ে সন্তান-সন্তুতিদের খাওয়াতেন। কিন্তু মা যে অনেক সময় না খেয়ে থাকতেন, তা ছেলে-মেয়েদের বুঝতে দেন না। মা ছেলে-মেয়েদের জন্য সৃষ্টিকর্তার এমন এক শ্রেষ্ঠ নিয়ামত, যার নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় আমরা শান্তিতে বেঁচে থাকি। পৃথিবীর সব মানুষ পর হলেও মা কোনো দিন পর হয় না। খারাপ সময়ে মা সাহস জুগিয়েছেন, অনুপ্রাণিত ও দোয়া করতেন। শত আঘাতেও মা কখনো সন্তানকে দূরে ঠেলে দেন না। সব সময় ছেলে-মেয়ের মঙ্গল কামনা করেন।

মায়ের এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। ‘মা’ শব্দটি ছোট্ট হলেও তার ধারণক্ষমতা ও বিশালতা অসীম। সাগরের তলদেশের গভীরতা পরিমাপ করা গেলেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা, স্নেহ, মায়া, মমতা পরিমাপ করা যায় না। এই গর্ভধারিণী মায়ের কারণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে সন্তান। যদিও মাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান জানাতে কোনো দিনক্ষণ প্রয়োজন হয় না, প্রতিদিন, প্রতিটি মুহূর্তেই মাকে ভালোবাসা হয়।

প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবস পালন করা হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তাঁর মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। এরপর ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে বিশ্ব মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

তাই পৃথিবীর সব ছেলে-মেয়ের উচিত, সব সময় তাঁর মুখে হাসি ফোটানো, সব সময় তাঁর সেবাযত্ন করা। শেষ বয়সে কোনো মায়ের স্থান যেন আর বৃদ্ধাশ্রম হয়ে না ওঠে। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, সম্মান ও অকৃত্রিম ভালোবাসা রইল।

*লেখক: মাঈন উদ্দীন রুবেল, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]