করোনাকালের ছোট্ট গল্প: মিঁয়াও

করোনাকালের প্রতীকী ছবিপ্রথম আলো

লিলির স্বামী তিন বছরের জন্য ইতালি গেছে। যাওয়ার দুই বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই। লিলির বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। বিয়ের আগে লিলির একই গ্রামের একটা ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল, কিন্তু লিলির বাবা বিয়ে দেয়নি। ওই ছেলেটির নাম বুলবুল। বাবা বিয়ে দেননি তাতে কী? লিলি আর বুলবুল প্রায়ই পুরোনো প্রেমের গপ্পে মজে ওঠে। নিশুতি অধিবেশনে বুলবুল লিলির ঘরের চারপাশে বিড়ালের ডাক ডেকে যায়। মিঁউ, মিঁউ মিঁউ মিঁউ...মেও মেও মেও মেও...!

লিলি বিড়ালের খাবার দিতে ব্যস্ত হয়ে যায়।

বুলবুল লিলির জন্য একটা উপহার কিনেছে, আগামী সপ্তাহে লিলিকে দেবে। লিলির গর্ভে সন্তান নেই অন্যদিকে বুলবুল এক কন্যাসন্তানের জনক।

একদিন খুব ভোরে লিলির দরজায় ধাক্কা পড়ল, লিলির ঘুম ভেঙে গেলে দরজা খুলে দেখল, তার স্বামী সামাদ মিয়া!

: তুমি কই থেইক্কা আইলা খবর না দিয়াই?

: আর কই থেইকা! আড়াই বছর শ্যাষ, করোনায় অস্থির! আগেভাগেই ছুটি দিচ্ছে আমাগো, রাখলে বেতন দিব কেডা?

সামাদ মিয়া একবেলা ভালো করে ঘুমিয়ে বিকেলে বাজারে গিয়ে চা খেয়ে ঘরে ফিরল। রাতে পরিবারের সবার সঙ্গে খেয়ে লিলির সঙ্গে ঘুমাতে গেল।

অনেকদিন পর সামাদ লিলিকে কাছে পেল, সামাদ মিয়া রোমান্টিক হয়ে উঠল। কিন্তু লিলি ধরা দিতে চায় না! সামাদ লিলির জিগায়, কী গো, কী হইল তুমার? আর কি অনেক দিন পর লজ্জা লাগে গো! ও সোনা এই কথা? লিলিকে সামাদ আবিষ্ট করল।

হঠাৎ ঘরের বাইরে বিড়াল ডাকতে শুরু করলো। মেও মেও মেও মেও মেও মেও...মিঁউ মিঁউ মিঁউ মিঁউ মিঁউ মিঁউ...মিঁয়াও, মিয়াওঁ...!

ক্রমশই বিড়ালের ডাক বিশ্রীভাবে বাড়তে লাগল।

বুলবুলের তো আইজকা আসার কথা নাই! লিলি ভাবছে আর সামাদ মিয়া ততক্ষণে জাদুর গালিচায় উড়ছে।

শুধুই গল্প কল্পনাপ্রসূত; বাস্তবের অনুকরণে নয়। এর কোনো অংশ মিলে গেলে তা অনভিপ্রেত!

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]