দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার মানসিক চাপ মোকাবিলার শারীরিক ও মানসিক কৌশল হাতে-কলমে শেখান দুজন বিশেষজ্ঞ, ব্র্যাকের মানবসম্পদ বিভাগের মনোবিজ্ঞানী উত্তম কুমার সরকার ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানী সাদিয়া সুলতানা। তৃতীয় দিনে আজ রোববার কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী নুজহাত-ই-রহমান আলোকপাত করবেন কীভাবে মনোযোগী মনের চর্চার মাধ্যমে অস্থির মনকে বর্তমানে ধরে রেখে প্রশান্তি আর মানসিক স্থিরতা লাভ করা যায়।

আবাসিক ছাত্রদের জন্য অভিনব এ উদ্যোগের বিষয়ে মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্প ও কর্মপোযোগী শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হলে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্থিরতা এবং প্রফুল্লতা ধরে রাখাও জরুরি। সূর্যসেন হলের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের সেই চাহিদা পূরণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আমি ২.০ শিরোনামে এ আত্মোন্নয়ন কর্মশালার আহ্বায়ক আবাসিক শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, তিন দিনব্যাপী এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ফলে ছাত্রদের মানবিক দক্ষতা যেমন পারস্পরিক যোগাযোগ, দৈনন্দিন চাপ মোকাবিলা এবং মনোযোগ বৃদ্ধির কার্যকরী কৌশল শিখতে পারবেন, যাতে তাঁরা তাঁদের ‘আমি’ কে হালনাগাদ (অর্থাৎ আমি ২.০) করতে পারবেন। একজন পেশাগত কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী হিসেবে ইসলাম আরও বলেন, সম্প্রতি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হলকেন্দ্রিক আবাসস্থলের ওপর চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তা ছাড়া ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন আসক্তি, চাকরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা, প্রত্যাশার বোঝা, কোভিড মহামারিজনিত সংকুচিত শিক্ষাবর্ষে পাঠদান সমাপ্ত করার তাগিদের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্থিরতায় ব্যত্যয় লক্ষ করা যাচ্ছে।

ছাত্রছাত্রীদের বিষণ্নতা ও উদ্বিগ্নতা বেড়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে আত্মহননের ঘটনাও ঘটছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মোন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ খুব ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) মো. মারিয়াম জামান খান সোহান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. সিয়াম রহমান ছাত্রকল্যাণধর্মী এ রকম আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।