ভীতু, অলস ভম্বলের গল্প

নাম ভম্বল। খুবই ভীতু, অলস। দিন-রাত এক করে ঘুমায়। তার একটি গুণ রয়েছে, মিথ্যা বলে না, সর্বদা সত্য। পুরুষ হয়ে সে এতই অলস, কাজ তো দূরে থাক পানি পান করতে গ্লাস পর্যন্ত মুখে নিতে চায় না। অন্যজনের সহযোগিতায় পান করে। বাড়িতে এভাবে ঝিমিয়েই দিন কাটছে তার। জাগতিক নিয়মে সূর্য পশ্চিম আকাশে অস্ত গেল সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে এসেছে। সেও যথারীতি ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি বলতে বাড়ির মানুষ তাকে প্রস্তুত করে দিচ্ছে।

ভম্বল ঘুমিয়ে পড়ল। একটু একটু করে রাত গভীর হলো। সে ততক্ষণে স্বপ্নের দেশে পাড়ি জমিয়েছে। স্বপ্নে দেখল, সে ভ্যাকসিন দিতে গিয়েছে হাসপাতালে। সেখান থেকে একটি ইনসুলিন চুরি করে পকেটে রেখে দিল। সে খুব আনন্দেই হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পথ ধরছে। কিন্তু ততক্ষণে হাসপাতালের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে নার্স দৌড়ে গিয়ে তার সামনে হাজির। বলল, হাসপাতাল থেকে আপনার পকেটে কী রেখেছেন? ভম্বল কিছু না বলে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে লুকোয়। নার্সও সেখানে হাজির।

ইনসুলিন নিয়ে দুজন কানামাছি খেলছে। একপর্যায়ে ভম্বল ইনসুলিন দেবে না বলেই নার্সের উপর চুরি করা বস্তুটি দিয়ে আঘাত করে। আঘাত করা বস্তুটি বেকায়দায় পড়ে নার্সের চোখের ভেতর ঢুকে যায়। নার্স মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভম্বল সেই সুযোগে হাসপাতাল থেকে চলে গেল।

বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকে ভম্বল। এরই মধ্যে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভম্বলকে তালাশ করতে পুলিশ হাজির তার বাড়িতে। অতঃপর কোনো কিছুর আঁচড়ে ঘুম ভেঙে যায় ভম্বলের। ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির লোকজনকে সে জিজ্ঞাসা করছে, তাকে কেউ খুঁজতে এসেছে কি না? আসেনি, এ উত্তরই ছিল সবার মুখে। তার বিশ্বাস হলো না। পাড়া-প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসা করতে করতে চলে যায় বাজারে। শেষ পর্যন্ত উত্তর মিলল একই; আসেনি। কিন্তু যে মানুষ এতই অলস, পানি পান করার জন্যও অন্যের সহযোগিতা চায়, সেখানে সেই মানুষ বাজার পর্যন্ত চলে এল একটি মাত্র কথা জানার জন্য! এই প্রশ্ন প্রতিবেশীসহ সবার চিন্তাভাবনাকে ঘুরিয়ে দিল।

বাড়িতে আসার পর মা ভম্বলকে অদ্ভুত হয়েই জিজ্ঞাসা করে ‘ভম্বল কি হয়েছে তোর? এত অলস থেকেও ঘুম থেকে উঠে একটি মাত্র প্রশ্ন করেই কোথায় চলে গেলি...।’
ভম্বল ভয়ে সবকিছু মাকে বলে দেয়। তার মা সে ঘটনা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বলে উঠল, ‘যেখানে তুই এতই অলস, তোকে কোথাও পাঠানো দূরের কথা; নিজের পিপাসা এলে অন্যের ভরসায় পান করছ; সেখানে একজনকে মেরে এসেছিস!’ তোকে দিয়ে এই আশা আমরা কেউ করিনি, কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। হায়! তাও আবার নারী নির্যাতন।

লেখা: মো. তন্ময় হাসান সিয়াম, কবি ও ভ্রমণ লেখক