ইফতারে আমাদের একদিন

ছবি: লেখকের পাঠানো

ইফতার পবিত্র রমজানের অন্যরকম সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ এবং সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন ইফতারের এই দৃশ্য। সেই দৃশ্য খুব কাছ থেকে অবলোকন করতাম ক্যাম্পাস লাইফে। ক্যাম্পাসের নানা আঙিনায় দল বেঁধে চলত ইফতার আয়োজনের ধুম। বিকেল বাড়ার সঙ্গে ক্যাম্পাসে বাড়তে থাকে ব্যস্ততা। কেউ ক্যাফেটেরিয়ার দিকে, কেউ মুক্তমঞ্চ, কেউ শহীদ মিনার আবার কেউ যাচ্ছে সেন্ট্রাল ফিল্ডের দিকে। ইফতারের এমন দৃশ্য যে কাউকে মোহিত করতে বাধ্য। করপোরেট জীবনে এসে চরম মিস করি সেই মুহূর্তগুলো।

করপোরেট হাউজের কর্মজীবীদের দিনের শুরু হয় ঘুম থেকে উঠেই সকালের অফিসের উদ্দেশে রওনা দিয়ে। বিকেল পর্যন্ত কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ ভাগাভাগি করে দিন যেতে থাকে। বিকেলে আবার নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার জন্য ঢাকার চিরচেনা জ্যাম টপকে বাসার পানে ছুটে যাওয়ায় অপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত থাকে। কিন্তু নিজেদের আরেকটি ছোট্ট পরিবার, যাদের সঙ্গে দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাটে, সেই করপোরেট সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার করা হয় না। সেটি উপলব্ধি করে উদ্যোগ নিলেন আমার টিমের দুই সহকর্মী। নিশাত আপু ও পারমিতা আপু প্রস্তাব নিয়ে গেলেন আমাদের ইউনিট হেড, সকলের প্রিয়মুখ শারমিন আপুর কাছে। শুনেই আপু উচ্ছ্বসিত হয়ে সম্মতি ব্যক্ত করলেন। আপু অসুস্থ থাকায় যোগ দিতে না পারলেও আপুর টিমমেটদের জন্য এমন করতে পারবে বলে আনন্দের অন্ত নেই। দায়িত্ব দিলেন রুহুল ভাইকে। আমাদের টিমের ভোজনরসিক ফয়সাল ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে রুহুল ভাই ঠিক করলেন মিরপুরস্থ এক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ। নির্ধারিত দিনে আমরা একেক করে সবাই উপস্থিত হলাম। সবাইকে পেয়ে মনে হল মিরপুরের ওই রেস্তোরাঁয় আনন্দের হাট বসেছে। ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে আমাদের ছোট্ট অতিথি নাজরাত ও মেধা।

ছবি: লেখকের পাঠানো

নিত্যদিনের কাজের আলোচনা বাইরে নিজেদের ব্যক্তিগত আলোচনায় সবাই মত্ত। সবাই থাকলেও অংশ নিতে পারেননি আমাদের মধ্যমণি শারমিন আপু। কিছুটা বিরহের মধ্যেও সবাই বুফের হরেক রকম খাবার ও খোশগল্পে নিজেদের মাতিয়ে রাখেন। ইফতারের পূর্বমুহূর্তে সবাই সেলফি তোলায় ব্যস্ত থাকলেও মোনাজাতে মগ্ন ছিলেন আমাদের সুহৃদ জামিউল ভাই। ইফতার–পরবর্তী মুহূর্তেও সবাইকে মাতিয়ে দেন আমাদের আরেক প্রিয়মুখ নাইমুল ভাই। নানান স্মৃতি সঞ্চয় করে রাত আটটার মধ্যে সবাই নিজ নিজ বাসার উদ্দেশে আবার রওনা করি।

*লেখক: তানভীর আহমেদ, ঢাকা

‘নাগরিক সংবাদ’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]