‘শান্তির মা মইরা গ্যাছে’
গুনগুন করে গান গাইছিলাম—‘যদি ভালোবাসা না–ই থাকে, শুধু একা একা লাগে, কোথায় শান্তি পাব, কোথায় গিয়ে!’ পাশ থেকে জামাই বলে উঠল, পলির বাসায় গিয়ে...!
কথা সত্য, বাংলাদেশে পলিই আমার একমাত্র বান্ধবী, যার বাসায় যখন–তখন যাওয়া, যার সঙ্গে যা ইচ্ছে তা–ই বলা, করা কত কী। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপাতত সেই শান্তিও মিলবে না কারণ, পলির বাসাও নেই, আমার সই পলিও নেই। সই আমার পরিবার নিয়ে সুদূর কানাডা যেয়ে বসে আছে!
আরেক সই সিমি, সেও লন্ডনে। তাই পলির বাসার শান্তিও নেই। আমাদের বাসায় কাজ করতেন খোরসেদা খালা। তিনি প্রায় বলতেন, ‘শান্তি নাই গো খালা, শান্তির মায় মইরা গ্যাছে।’ আমারও এখন তাই মনে হয়, শান্তির মা মরে গেছে। কোথাও শান্তি নেই।
ফেসবুক স্ক্রল করেলেই শান্তির চেয়ে অশান্তির খবর বেশি মেলে। ব্যাঙের ছাতার মতো জমে ওঠা ইউটিউবারদের বিনোদোনও এত সস্তা যে মনে আরও অশান্তি ধরিয়ে দেয়। শাহবাগে কথায় কথায় আন্দোলন, দেশের আনাচেকানাচে কারণে–অকারণে মব অ্যাটাক, নিজের মতো করে একটু ঘুরতে বের হব, মাথার ওপর পিলার, বোমা, ককটেল পড়ে পিষে মরছে হুটহাট!
ঠিক করেছি সেই ভয়ে ঘরে বসে থাকব! কিন্তু খাব কী! গ্যাস তো নেই, আর সিলিন্ডারের দাম ২২০০ টাকার ঊর্ধ্বে। সিলিন্ডার ব্যবহার করব! সেখানেও ভয়।
এইতো সেদিন পাশের এলাকা উত্তরাতেই পরিবারসহ পুড়ে মরে গেল সিলিন্ডার বিস্ফোরণে। আর চারপাশে নিত্যনতুনভাবে খুন, ছিনতাইয়ের নানা রকম ক্রিয়েটিভিটি দেখতে দেখতে মনও পাষাণ হয়ে গেছে।
হাসপাতালে সুস্থ বাচ্চা গেল, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মরে গেল! কারও কোনো দায় নেই! সব কেমন স্বাভাবিক!
প্রতিদিন একটা খবর নিয়ে মাতামাতি, পরদিন অন্য খবর এসে সেটা ভুলিয়ে দিয়ে আবার মাতামাতি।
গদি বদলায়, কিন্তু সংস্কার আর হয় না। শান্তি আর মেলে না। শান্তির মা মরেই গ্যাছে!
নিজেকে ভালো রাখার জন্য ইদানীং বই পড়া শুরু করেছি। ছোটবেলা বাস্তবের মাঝে থেকে বইয়ের কল্পনার জগতে বাস করাটায় একধরনের শান্তি ছিল, সেই শান্তি এখন বইয়ের মাঝে পাওয়ার চেষ্টা করছি।
কিন্তু আসলেই কি শান্তি মেলে? এত কিছু সহ্য করে দেশের মানুষ বেঁচে আছে, এটাই সবচেয়ে বড় অবাক কাণ্ড!
দেশের এতসব কাণ্ড–কারখানায় যারা অভ্যস্ত তারা (বাংলাদেশের মানুষ) পৃথিবীর যেখানে খুশি নিজেকে অ্যাডাপ্ট করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ই–মেইল: [email protected]
রুশদের নিয়ে একটা কৌতুক আছে, যেটা সিচুয়েশন ডিমান্ডে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দিলাম। এক বাংলাদেশির মৃত্যুর পর তাকে যমদূত এসে নিয়ে গেল। বেশ আরামে সেদিন কাটতে লাগল। স্বর্গে বেশ শান্তি। কিন্তু সে ঘুরেফিরে নিজের দেশের কোনো লোক দেখতে পেল না। তখন সে প্রহরীকে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা আমি কী এমন পুণ্য করেছি যে আমাকে স্বর্গে আনা হলো।’ প্রহরী বলল, ‘কে বলেছে এটা স্বর্গ।’ লোকটি বলল, ‘কেন এখানে তো বেশ সুখ–স্বাচ্ছন্দ্যেই আছি আমি।’ প্রহরী বলল, ‘তুমি কোথা থেকে এসেছ বলতো?’ ব্যক্তি বলল—‘কেন? বাংলাদেশ?’ প্রহরী—‘ও তাহলে তো ঠিকই আছে।’
‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক’
শাকিলা সিমকী, ২০ জানুয়ারি ২০২৬