বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবারও লকডাউন দেওয়া হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ আবার হুমকির মুখোমুখি। স্বভাবতই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়েও নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে, যদিও পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আর এক মাসের মতো বাকি। লকডাউন কতটা যৌক্তিক ও সময়োপযোগী, সেটাও বলেছি। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাও যৌক্তিক পরিস্থিতির স্বার্থে। কিন্তু জীবন তো এভাবে চলতে পারে না। তাই নতুন করে ভাবনার বিষয়টি দাঁড়িয়েছে নতুন মাত্রায়। ‘অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ সঠিক’—এ দুইয়ের মেলবন্ধনে প্রশাসনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন নিঃসন্দেহে। শত বাধার মুখেও যে কিছু একটা করতেই হবে। জাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন এখানে সরাসরি জড়িত, তাই হেলাফেলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। সমাধান হিসেবে সময় কমিয়ে প্রতিটি বর্ষের জন্য এক মাস অন্তর অন্তর পরীক্ষাগুলো নেওয়ার বিষয়ে ভাবা উচিত৷ যেমনটা মাস্টার্সে আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের চাকরি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য করা হয়েছিল।

আলাদা আলাদা বর্ষ বিবেচনায় নিলে চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে খুব একটা বড় সমস্যায় পড়তে হবে না। শিক্ষার্থীরা জাতির অন্যতম সচেতন সন্তান, তাই নিজেরাই সতর্ক থাকবে। সর্বোপরি যত দ্রুত সম্ভব হয়, তত দ্রুত শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হোক। এতে টিকার সচেতনতা কার্যক্রম যেমন ফ্রিতে হবে, তেমনি আগামীর কর্ণধারেরা থাকবে ঝুঁকিমুক্ত। শিক্ষামন্ত্রী বেশ কয়েকবার ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় আমাদের দেরি হচ্ছে, এটাও বুঝতে হবে। বর্তমান সময়ে রাশিয়ার সঙ্গেও টিকা উৎপাদন নিয়ে চুক্তি হয়েছে। ইতিবাচক এই জনকল্যাণমুখী কূটনীতিক সফলতার বাস্তব ফলাফল যেন ছাত্রসমাজ ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সেশনজট মোকাবিলা ও প্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে এটা অত্যন্ত সময়োপযোগীভাবে একধাপ অগ্রগামী হওয়ার শামিল।

এতে রক্ষা পাবে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন। তাঁদের আর পড়াশোনা ছেড়ে পেশা স্থানান্তর করতে হবে না, বরং টিউশনির মাধ্যম তৈরি হবে আয়ের সুদৃঢ় এক পথ।
নানা দুরবস্থায় সবাই বন্দী। এর ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আটকে থাকলেও কিছু হয়তো করার নেই। মানুষ সচেতন যদি হয়, তাহলে অবশ্যই ভয়ার্ত এই পরিস্থিতির চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই। ফলাফল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগুলোর ছুটি তাই বার বার দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সচেতনতার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে জাতিগত ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প কোথায়?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা কতটা সমস্যার জন্ম দিচ্ছে, তা সম্পর্কে সবাই অবগত। গণসচেতনতা, শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম বা পর্যায়ক্রমিকভাবে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনই ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত। হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তে যেন বিভ্রান্ত না হন শিক্ষার্থীরা, সেটাই কাম্য। পরিস্থিতি হোক ভালো, সূর্যের মতো এগিয়ে যাক জাতিকে আলোকিত করা প্রতিষ্ঠানগুলো। খুলুক রুদ্ধদ্বার, ধ্বংস হোক করোনার ভয়াবহ জাল।

*লেখক: অনন্য প্রতীক রাউত, শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আয়োজন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন