বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু কিছু মানুষের তা আর হয়ে ওঠেনি। তারই মধ্যে বর্ষার প্রকোপ শুরু হয়। যে মানুষগুলো এক বেলা কাজ না করতে পারলে, আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, ‘মাঠে কাজ নেই, পেটে ভাতও নেই’। সেসব মানুষের কী অবস্থা হয়েছিল।

এককথায় ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ এমনিতেই টানা কয়েক মাস লকডাউনে মানুষের নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল। তা থেকে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করবে কি না! তা আর হয়ে ওঠেনি। আবার নতুন করোনার শুরু হয়েছিল (বর্ষার প্রকোপ)। মানুষগুলো প্রতিবছরই বর্ষার প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়। ঠিক এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্ষার শুরুতেই তলিয়ে গেছিল রাস্তাঘাট, ফসল, বসতবাড়ি এককথায় সবকিছু। তার মধ্যে বর্ষার সময়টা হয়েছিল অনেক দীর্ঘায়িত। ফলে অধিকাংশ মানু্ষকেই দুশ্চিন্তায় জীবনযাপন করতে হয়েছে।

করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে বর্ষার প্রকোপে আরও অসহায় হয়ে পড়েছিল মানুষজন। দিশেহারা হয়েছিল সবাই। আর এই দুর্দিনে যাঁরা মানবসেবায় জড়িত তাঁদের সবার মধ্যে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী হিসেবে যে শক্তি কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে মানুষের মানবতাবোধ। যাঁর মধ্যে মানবতাবোধ আছে, তিনিই মানবসেবার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন। তাই তাঁরা প্রাণঘাতী মহামারির সময় ও বর্ষার দুর্যোগেও মানবতাবোধের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের সবার একটু একটু প্রয়াস ও সহযোগিতাই হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাতে ও তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করেছিল।

অপর দিকে ধরা যায়, এ বছরটা (২০২০) আমাদের জন্য ছিল ‘বিষে ভরা ২০’, যাতে রয়েছে অনেক দুঃখ–কষ্টের ইতিহাস। কোথাও কোথাও মানবতা হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। একের পর এক ধারাবাহিক বিপদাপদের ইতিহাস। বলতে গেলে যার অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে, ভয়-আতঙ্ক, অভাব-দারিদ্য ও দুরবস্থার মধ্য দিয়ে। যার ভয়াবহ আতঙ্কের প্রভাব এখন পর্যন্ত কেটে ওঠেনি।

অতএব, আমরা যেন ২০২০ সালের সামনের দিনগুলো অনেক সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারি। ভয়াবহ করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে পারি এবং সব ধরনের অভাব-অনটন, বিপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।


* শিক্ষার্থী, মারহালাতুত তাকমিল (মাস্টার্স ডিগ্রি), দারুস সুন্নাহ, টাঙ্গাইল

আয়োজন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন