default-image

নববর্ষ বা নতুন বছর হলো সেই সময় বা দিন, যে সময় বা দিন থেকে একটি নতুন পঞ্জিকার বছর শুরু হয় এবং পঞ্জিকার বছরের গণনা এক এক করে বৃদ্ধি হয়। অনেক জাতিই এই নতুন বছরের প্রথম দিনটি আতশবাজি, ফাটকা, বেশ কিছু সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে প্রচলিত বর্ষপঞ্জি হলো গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি, আর তাতে নতুন বছর শুরু হয় জানুয়ারির ১ তারিখে।

আর তাই জানুয়ারির প্রথম দিনটি প্রায়ই জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়ে থাকে।

ঠিক এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রতিবছরের মতো পৃথিবীর সব দেশই এই নতুন বছরকে আতশবাজি, খেলাধুলা, আরও নানা প্রকার সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করে স্বাগত জানিয়েছে। এরপরই এ বছরের নতুন এক আতঙ্কের সম্মুখীন হতে হয় পুরো বিশ্বকে। নতুন সেই আতঙ্কটা কারও অজানা নয়। সেটা হলো মরণব্যাধি ‘করোনাভাইরাস’। আর করোনাভাইরাস যে এক আতঙ্কের নাম, তা পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই জেনে গেছে।

করোনাভাইরাসের ভয়ানক আতঙ্কে দীর্ঘ কয়েক মাস ঘরবন্দী জীবনযাপন করেছে মানবজাতি। গোটা বিশ্ব যার প্রভাবে কার্যত অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যন্ত ৫ কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত। ১৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তার ভয়াল থাবা থেকে বাংলাদেশও রেহাই পায়নি। ফলে লকডাউনের কবলে পড়ে হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। অভাবের তাড়নায় চিন্তিত অস্থির মানুষগুলো স্বাভাবিক কাজ তথা জীবনযাপনের গতি হারিয়ে ফেলেছিল। লকডাউন শেষে এখন যদিও কিছু কিছু কর্মক্ষেত্র সচল হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু কিছু মানুষের তা আর হয়ে ওঠেনি। তারই মধ্যে বর্ষার প্রকোপ শুরু হয়। যে মানুষগুলো এক বেলা কাজ না করতে পারলে, আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। অর্থাৎ বলা যায়, ‘মাঠে কাজ নেই, পেটে ভাতও নেই’। সেসব মানুষের কী অবস্থা হয়েছিল।

এককথায় ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ এমনিতেই টানা কয়েক মাস লকডাউনে মানুষের নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল। তা থেকে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা করবে কি না! তা আর হয়ে ওঠেনি। আবার নতুন করোনার শুরু হয়েছিল (বর্ষার প্রকোপ)। মানুষগুলো প্রতিবছরই বর্ষার প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়। ঠিক এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্ষার শুরুতেই তলিয়ে গেছিল রাস্তাঘাট, ফসল, বসতবাড়ি এককথায় সবকিছু। তার মধ্যে বর্ষার সময়টা হয়েছিল অনেক দীর্ঘায়িত। ফলে অধিকাংশ মানু্ষকেই দুশ্চিন্তায় জীবনযাপন করতে হয়েছে।

করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে বর্ষার প্রকোপে আরও অসহায় হয়ে পড়েছিল মানুষজন। দিশেহারা হয়েছিল সবাই। আর এই দুর্দিনে যাঁরা মানবসেবায় জড়িত তাঁদের সবার মধ্যে এ কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী হিসেবে যে শক্তি কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে মানুষের মানবতাবোধ। যাঁর মধ্যে মানবতাবোধ আছে, তিনিই মানবসেবার কাজে এগিয়ে এসেছিলেন। তাই তাঁরা প্রাণঘাতী মহামারির সময় ও বর্ষার দুর্যোগেও মানবতাবোধের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের সবার একটু একটু প্রয়াস ও সহযোগিতাই হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাতে ও তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করেছিল।

অপর দিকে ধরা যায়, এ বছরটা (২০২০) আমাদের জন্য ছিল ‘বিষে ভরা ২০’, যাতে রয়েছে অনেক দুঃখ–কষ্টের ইতিহাস। কোথাও কোথাও মানবতা হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। একের পর এক ধারাবাহিক বিপদাপদের ইতিহাস। বলতে গেলে যার অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে, ভয়-আতঙ্ক, অভাব-দারিদ্য ও দুরবস্থার মধ্য দিয়ে। যার ভয়াবহ আতঙ্কের প্রভাব এখন পর্যন্ত কেটে ওঠেনি।

অতএব, আমরা যেন ২০২০ সালের সামনের দিনগুলো অনেক সুন্দরভাবে অতিবাহিত করতে পারি। ভয়াবহ করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে পারি এবং সব ধরনের অভাব-অনটন, বিপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।


* শিক্ষার্থী, মারহালাতুত তাকমিল (মাস্টার্স ডিগ্রি), দারুস সুন্নাহ, টাঙ্গাইল

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0